× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার , ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

সাটুরিয়া উপজেলা আবাসিক ভবনের বেহাল দশা

বাংলারজমিন

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য আশির দশকে নির্মিত ৮টি আবাসিক ভবনের প্রায় সব ক’টি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর শুধু ভবনের ভেতরে কোনোরকম সংস্করণ  করে  চলছে বসবাস। অন্য কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই দুটি পরিত্যক্ত ভবনে থাকছেন কর্মচারীরা।  
এদিকে একই সময় নির্মিত ইউএনও’র আবাসিক ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও বসবাসের অযোগ্য আবাসিক ভবনগুলোতে ঝুঁকি নিয়েই থাকছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার। অনেকে আবার এই আবাসিক এলাকায় না থেকে বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। জরাজীর্ণ আবাসিক ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং পরিত্যক্ত ওই ভবন দুটো ভেঙে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ না করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ  করছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, ভবনগুলোর ছাদে ও কার্নিশে ছোট-বড় অনেক গাছপালা জন্মেছে। প্রতিটি ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। মেইন দরজা বাদে বাকি সব জানালা দরজা ভাঙাচোরা।
তবে আবাসিকে  ইউএনও ছাড়া (পরিবারসহ) অন্য কোনো প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা না থাকলেও রয়েছেন দ্বিতীয় হতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আবাসিকের বাসিন্দা মনিকা বলেন, বাইরে বাসা ভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এবং অফিস থেকে দূর হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে কোয়াটারে থাকতে হচ্ছে। সাটুরিয়া উপজেলা ইউএনওর সিএ মো. আবু রাহাত বলেন, উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়াটারগুলোর অবস্থা এতোই বেহাল যে থাকার মতো অবস্থা নেই। অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবার নিয়ে বর্তমানে বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। এদিকে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক তিনটি ভবনের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। ওইসব ভবনের সংস্কার কাজ শেষ হলেই কর্মকর্তারা থাকতে পারবেন বলে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এম গিয়াসুর রহমান জানান।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, চলতি মাসে আমি এই উপজেলায় যোগদান করেছি। এখানে বাসভবনগুলো গিয়ে দেখেছি। বর্তমানে এসব বাসভবনের কোনটি বাসযোগ্য নয়। থাকার জায়গার অভাবে অনেকে আবার এই ঝুঁকিপূর্ণ বাসভবনেই বসবাস করছেন। আবার অনেক কর্মকর্তাকে পরিবার নিয়ে বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী এএফএম তৈয়াবুর রহমান জানান, আশি দশকের শুরুতে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য  গোলাপ, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, জুঁই, বকুল, চাপা, গন্ধরাজসহ বিভিন্ন ফুলের নাম দিয়ে ৮টি আবাসিক ভবনসহ উপজেলা চেয়ারম্যন ও ইউএনও’র পৃথক দুটি বাসভবন নির্মাণ করা হয়। এদিকে নারী শিক্ষকদের জন্য প্রমোট নামের একটি ভবন রয়েছে। ইতিমধ্যে ইউএনও’র আবাসিক ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে নতুন করে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আর উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনটি সংস্কারের পর বর্তমানে ইউএনও আশরাফুল আলম থাকছেন। সাটুরিয়ার ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, ভবনগুলোর অবস্থা এতোই খারাপ যে, সেখানে থাকার মতো পরিবেশ নেই। আমার নিজের বাসভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়তো। এখন সেখানে নতুন বাসভবন হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুটি ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আরও নতুন বাসভবন করার জন্য আবেদনও করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের আগামী সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে তিনি জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর