× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার , ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ
১১ নেতার হিসাব তলব

সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ আজ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার

সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই শীর্ষ সংগঠনগুলোর ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে বলে মনে করছেন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনসমূহের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে চিঠি দেয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও দুরভিসন্ধিমূলক বলে অভিহিত করেন তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবকে টার্গেট করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সুনির্দিষ্ট কারণে যেকোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে-ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন, জঙ্গি অর্থায়ন ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। আমাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
এতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরও বলেন, তাদের সন্দেহ জাগে এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা। কারণ, কেউ কিছু বলতে পারে না। তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা বলেছেন কিছুই জানেন না। এ জন্য বিষয়টি উদ্বেগের। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনের এই বক্তব্য কারও ব্যক্তিগত নয়, এগুলো সংগঠনের কথা। তিনি বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের  ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই প্রতিষ্ঠানকে এর আগে কখনই এমন হেয় করা হয়নি। সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এখানে নয়ছয় করার কোনো সুযোগ নেই। আর্থিকভাবে ক্লাবকে অনেক কষ্ট করে পরিচালনা করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার করোনাকালে সাংবাদিকদের অনেক সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ডিজিটাল আইন বাতিন নিয়ে সাংবাদিকরা এক সঙ্গে আন্দোলন করবে কিনা- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন, সাংবাদিকরা সব সময়ই পেশার মর্যাদার ক্ষেত্রে একত্রে রয়েছেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র (একাংশ) সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এই চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকার চাই। একইসঙ্গে কোনো সাংবাদিক নেতার অ্যাকাউন্টে মানি লন্ডারিংয়ের লেনদেন হয়ে থাকলে তাও প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি। আপনারা এটাকে ভয় মনে করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মোল্লা জালাল বলেন, অবশ্যই ভয়ভীতি মনে করছি। নিশ্চিতভাবে এটা উদ্দেশ্যমূলক। সকল সংগঠনের নেতাদের এতে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কা তৈরি করেছে। এটা দুরভিসন্ধিমূলক। আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই, এটা কি? মোল্লা জালাল বলেন, ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। চিঠিতে আওয়ামী সমর্থিত বা বিএনপি সমর্থিত বলে উল্লেখ করা নজিরবিহীন। এতে আমরা বিস্মত হয়েছি। এভাবে চিঠি হয়তো বা খবর প্রকাশ করা হয়েছে, যা একেবারে অপ্রত্যাশিত। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হেয় করার জন্যই এ ঘটনা ঘটেছে। আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ আছে কিনা সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সরাসরি উত্তর না দিয়ে মোল্লা জালাল বলেন, সামনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, তারা যদি অর্থ পাচার, অবৈধ লেনদেন বা জঙ্গিবাদে অর্থায়নের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কোনো তথ্য পায়, তাহলে তা গণমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা উচিত। যদি তারা এই ধরনের কোনো কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য না পায়, তবে সেই বিষয়টিও গণমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন প্রতিবাদে কোন কর্মসূচি দিবেন কিনা তখন মোল্লা জালাল নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে আজ রোববার দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেন।
বিদেশে বেগম পাড়ার তালিকাকে ধামা-চাপা দেয়ার জন্য এই ঘটনা কিনা একজন সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে বিএফইউজে’র (একাংশের) সভাপতি এম. আবদুল্লাহ বলেন, এর নেপথ্যে কি আছে আপনারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা বের করুন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১৫ হাজার সাংবাদিকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। চরিত্র হনন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ সাংবাদিক নেতার পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান বলেন, সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নাম ও প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ঢালাওভাবে তাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। কেননা, এর আগে কোনো দিন কোনো সময়ে এরকম ঘটনা ঘটেনি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসমূহের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি। নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কেন, কি কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউ’র এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছে।
আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, ইতিমধ্যে এ বিষয়টি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হচ্ছে। এতে দেশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট হচ্ছে। কারণ গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশের সরকার ও সচেতন সমাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল মেনে নেয় না, নিতে পারে না। তাই সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এরই মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ব্যক্ত করে বিবৃতি দিয়েছে। আমরা তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।  
তিনি বলেন, বিএফআইইউ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে যে চিঠি দিয়েছে তাতে তথ্য পাওয়ার আগেই তথ্য চাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার উদ্দেশ্য কি? সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএফআইইউ’র দেয়া চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় সমাজের মানুষের কাছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তথা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করছি। কেননা, এতে করে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে। যা কারও কাম্য নয়।
মসিউর রহমান খান আরও বলেন, আমরা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। তাই আপনাদের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি। সে বিবেচনায় আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমাদের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেন-দেন কিংবা কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং কিংবা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় তা যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর যদি তা না হয় তবে সেটাও যেন যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লড়াই-সংগ্রাম, নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংকটে আপনারা আমাদের পাশে থেকেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা আপনাদের পাশে চাই। সাংবাদিকদের সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের হুমকি ধমকিতে আমরা অতীতে যেমন পিছপা হইনি, ভবিষ্যতেও হবো না। আগামী দিনে যে সব কর্মসূচি দেয়া হবে তা সফল করার লড়াইয়ে আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।
 সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে (একাংশ) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বিএফইউজে (একাংশ) মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী।
উল্লেখ্য, গত ১২ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনসমূহের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। যেসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে তাদের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে’র সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বিএফইজে (একাংশ) সভাপতি এম. আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজে (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ডিইউজে (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের নাম রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর