× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২১, শনিবার , ৮ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

শেষের পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত রোববার বিকালে নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট স্থানীয় সময় গত রোববার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. শহিদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতেমা প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, সচিব মাসুদ বিন মোমেন, পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ ৭৯ সদস্যের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। তাছাড়া ৫৬ সদস্যের একটি বিজনেস ডেলিগেশন নিজ খরচে প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফর সঙ্গীরা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে দুইদিনের যাত্রা বিরতি করেন। ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যান। করোনাকালে সরকার প্রধানের এটিই প্রথম বিদেশ সফর।
সফরের দ্বিতীয়দিন (২০শে সেপ্টেম্বর) বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরার আহ্বানে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের একটি ছোট দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগ দেয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই বৈঠক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য সরকারি সফরের অংশ হিসেবে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন। ২৪শে সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের অনুসরণ করে বিগত বছরগুলোর মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। ২১শে সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক আয়োজিত ‘বিজনেস গোলটেবিল: ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’-অনুষ্ঠানেও যোগ দিবেন। ২২শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ডারবান ডিক্লারেশন অ্যান্ড প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন গ্রহণের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সাধারণ পরিষদের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিবেন। এ ছাড়া তিনি ‘হোয়াইট হাউস বৈশ্বিক কোভিড-১৯ শীর্ষ সম্মেলন: মহামারি সমাপ্তি এবং আরও ভালো অবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন এবং বক্তৃতা দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একইদিন বিকালে শেখ হাসিনা ‘রোহিঙ্গা সংকট: একটি টেকসই সমাধানের জন্য করণীয়’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন এবং সেখানে পূর্বে-রেকর্ড করা বক্তৃতা দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২৩শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সুইডিশ মিশন আয়োজিত ‘জাতিসংঘের সাধারণ কর্মসূচি: সমতা ও অন্তর্ভুক্তি অর্জনের পদক্ষেপ’ শীর্ষক নেতাদের নেটওয়ার্কের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার মহাসচিব কর্তৃক আহ্বান করা ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দশক কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাদ্য ব্যবস্থা শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিবেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে শেখ হাসিনা বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন, বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিজ মিয়া আমোর মোটলি কিউসি, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ এবং ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট এনগুয়েন জুয়ান ফাইক। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরা এবং ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেলের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা করবেন। জাতিসংঘ অধিবেশন এবং নিউ ইয়র্কে অন্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর ২৫-৩০শে সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি সফরের কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শেখ হাসিনা ৩০শে সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং হেলসিঙ্কিতে যাত্রা বিরতির পর ১লা অক্টোবর দেশে ফিরবেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে দেশটিতে থাকা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচিতে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস এলাকা। গত শনিবার নেতৃত্বের কোন্দলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশ এবং রাজনৈতিক রেষারেষিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনা সামাল দিতে নিউ ইয়র্ক পুলিশকে গলদঘর্ম হতে হয়েছে। অন্যদিকে প্রবাসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে অন্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা। বাংলাদেশি দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও দিন শেষে বদনাম হয়েছে বাংলাদেশের, এমন মন্তব্য করেছেন সাধারণ প্রবাসীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে- গত শনিবার বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে দিনের প্রথম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে অনুষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিয়ে দরুদ মিয়া রনেল ও কায়কোবাদ খানের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ হয়। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনেই এ ঘটনা চলে বেশ কিছুক্ষণ। সন্ধ্যায় ডাইভারসিটি প্লাজায় নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপি’র ব্যানারে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে তাদের সমাবেশে বাধা দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বাদানুবাদ হলেও বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। এদিকে রাত ১০টার দিকে জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিট ও ৩৭ এভিনিউতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ৭৩ স্ট্রিটে একটি অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করলে অদূরে ৩৭ এভিনিউতে একটি অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। কিন্তু বিএনপি’র অফিস স্থাপন নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমর্থকরা অফিস স্থাপনে বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল মারামারি। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘসময় চলতে থাকে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি। এ সময় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় ১১৫ প্রিসিঙ্কটের পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেয়। পরে প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের উত্তেজনা। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি দেখে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তুমুল হট্টগোলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্য জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা বুঝে উঠতে পারছিলেন না সেখানে কী ঘটছে। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে পুলিশকে ফোন করেন। জ্যাকসন হাইটসের বাসিন্দা স্যামুয়েল স্টিফেন জানান, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ স্ট্রিটের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার মতে, এখানে বাংলাদেশিরা মারামারিতে লিপ্ত হয়, যা কাম্য নয়। স্থানীয়ভাবে ধারণ করা বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, জেএফকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪-এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিশাল জমায়েত করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেন। এই জমায়েত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় থাকা বিভিন্ন নেতার শো-ডাউন ছিল। তবে বরাবরের মতো এবারো বিএনপি বিমানবন্দর এলাকায় দাঁড়িয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন করেছে। সেখানে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর জমায়েত ছিল বলে স্থানীয় সংবাদিকরা নিশ্চিত করেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর