× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার , ১০ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ
ল্যাকটেটিং মাদার কর্মসূচিতে নয়ছয়

বরগুনায় মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছেন পুরুষ

বাংলারজমিন

বরগুনা প্রতিনিধি
১৩ অক্টোবর ২০২১, বুধবার

মাতৃত্বকালীন ভাতা, কিন্তু পাচ্ছেন পুরুষ! আবার একজনের টাকা পাচ্ছেন অন্যজন। বরগুনায় ল্যাকটেটিং মাদার কর্মসূচি নিয়ে এলাহীকাণ্ড। সুবিধাভোগী করে দেয়ার নামে ঘুষের রমরমা কারবার এখানে ওপেন সিক্রেট। টাকার বিনিময়ে বয়স্ক, স্বামী-শিশুহীন নারী এমনকি পুরুষও পাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ভাতা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক নারী।
জানা যায়, মায়ের স্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত কর্মসূচির আওতায় শিশুর জন্ম থেকে ৩ বছর পর্যন্ত প্রত্যেক মাকে ২৮ হাজার ৮শ’ টাকা সহায়তা দেয়া হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। ২০-৩৫ বয়সী দুগ্ধদায়ী মায়েরা এ সুবিধা পেয়ে থাকেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরগুনা পৌর শহরে ‘ল্যাকটেটিং মাদার’ কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫০ জন। তবে অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ঘুষের বিনিময়ে কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এখানে বয়স্ক, স্বামী-শিশু নেই এমন নারী এমনকি পুরুষও এ সুবিধা নিচ্ছেন।
কার্যক্রমের শুরুর দিকের সুবিধাভোগী পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মাস্টার রোল কর্মচারী মরিয়ম আক্তার বীথি। ২০১৭ সালে ঘুষের বিনিময়ে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। পরে ১৬৯ জনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে তা তুলে দেন চক্রের অন্য সদস্যদের হাতে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মরিয়ম আক্তার বীথি বলেন, যারা টাকা খেয়ে তাদের নাম দিয়েছে, তারাই এখন বলে আপনার এই টাকা আর পাবেন না। তাহলে এই টাকা গেল কোথায়? আমি মূলত এক টাকাও খায়নি, টাকা খেয়েছে ওরা। এর দায়ভার আমি কেন নেবো? সুবিধাভোগী একাধিক নারী জানান, বরগুনা মহিলা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নাজমুল ইসলাম ও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন নাহার মুন্নির যোগসাজশে উৎকোচের বিনিময়ে এমন অনৈতিক কাজ চলছে। বরগুনা পৌর শহরের কলেজ ব্রাঞ্চ সড়কের বিলকিস রিনা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৫৩ বছর। তার কনিষ্ঠ সন্তান এখন লেখাপড়া করছে দশম শ্রেণিতে। তিনিও ২০১৯ সালে এ প্রকল্পের অধীনে সহায়তা পাচ্ছেন উৎকোচের বিনিময়ে। তিনি ছয় হাজার টাকা দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলি এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা সরকারের শিশু নেই। অথচ তিনি কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন। শুধু নারীই নয়, ঘুষের বিনিময়ে একজন পুরুষও পাচ্ছেন এ ভাতা।
আল-আমিন চৌকিদার বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ছোট পোটকাখালী এলাকার বাসিন্দা। তিনিও দুগ্ধদায়ী মাতা হিসেবে ভাতা পেয়ে আসছেন। তালিকায় নামের জায়গা খালি থাকলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি রয়েছে। তার স্ত্রী সুখী বেগমও রয়েছেন এ তালিকায়। আল-আমিন ও সুখী দম্পতি জানায়, দু’জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে অফিস সহকারী নাজমুল ইসলামকে ছয় হাজার টাকা দিয়েছেন।
বরগুনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নাজমুল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘুষ নেয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে সালিশ বৈঠকের ভিডিও দেখালে তিনি চুপ হয়ে যান। বরগুনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন্নাহার মুন্নি দাবি করেন, নীতিমালা মেনেই সুবিধাভোগী বাছাই ও ভাতা দেয়া হচ্ছে। ঘুষ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তবে অফিস সহকারীর ঘুষ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার (নাজমুলের) বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর