× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার , ১০ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে সজনু

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার
১৩ অক্টোবর ২০২১, বুধবার

গৃহবধূ স্বর্ণা বেগমকে হত্যার ঘটনায় স্বামী সজনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।  গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে সিআইডি’র সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডি’র এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধর। তিনি বলেন, পরকীয়ায় বাধা ও যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারার কারণে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর স্বর্ণাকে হত্যা করা হয়। ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরানীর টেঙ্গুরী ভাড়া বাসায় স্বর্ণা বেগমকে তার স্বামী সজনু মিয়া গরম তেলে ঢেলে শরীর ঝলসে দেয়। রাত ২টায় স্বর্ণার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না করে মজনু পালিয়ে যায়। এরপর হাফিজুর ও অন্যরা মিলে স্বর্ণাকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে এম্বুলেন্সে আশুলিয়া থেকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পিংনা গ্রামে নিয়ে যায়। এ সময় সজনু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও স্বর্ণাকে সেখানে ভর্তি না করেই আত্মগোপন করেন তারা।
সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধর বলেন, পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্র্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়। এরপর ভুক্তভোগী স্বর্ণার মা শিরিনা বেগম সজনু মিয়ার নামে ঢাকার আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে সজনু এবং স্বর্ণার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সজনু মিয়ার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন স্বর্ণা। এ সময় সজনু স্থানীয় বাজারে রেডিমেড গার্মেন্টের ব্যবসা করতো। তাদের সংসারে ওমর ফারুক সিফাত নামের ১১ বছরের একটি ছেলে ও খাদিজা নামের দুই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে জানার পর এতে বাধা দেন স্বর্ণা। অন্যদিকে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই স্বর্ণাকে নির্যাতন করতো সজনু। এমনকি সজনু মিয়া সংসারের ভরণ পোষণও দিতো না। এ বিষয়ে অতীতে যৌতুকের দাবিতে একাধিকবার স্বর্ণাকে নির্যাতনসহ গুরুতর জখম করার অভিযোগে স্বর্ণার ভগ্নিপতি মো. ময়নুল ইসলাম বাদী হয়ে সজনু মিয়ার বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় দুই মাস ১৯ দিন জেল হাজতে ছিল সজনু। পরে স্থানীয় গণ্যমান্যদের মধ্যস্থতায় বাদী তার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
কিছুদিন পরে আবার স্বর্ণার ওপর নির্যাতন শুরু করলে অতিষ্ঠ হয়ে ছয়মাস আগে সন্তানসহ বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জে চলে যান তিনি। অভাবের কারণে ছেলে-মেয়েকে মায়ের কাছে রেখে ঢাকার আশুলিয়ার ডরিন গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিকের কাজ নেন স্বর্ণা। সজনু কৌশলে তার স্ত্রীর ঠিকানা সংগ্রহ করে ঢাকায় এসে অশান্তি শুরু করে। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্ত্রী স্বর্ণাকে গরম তেলে পুড়িয়ে হত্যা করে বলে স্বীকার করেছে সজনু।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর