× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার , ১০ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

মুদি দোকানি থেকে যেভাবে মানব পাচারকারী

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৪ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার

সাইফুল ইসলাম ওরফে টুটুল। বয়স আটত্রিশ বছর। এইচএসসি পাস করে প্রথমে ছিলেন মুদি দোকানদার। পরবর্তীতে অধিক লাভের আশায় মানব পাচার চক্রে জড়িয়ে পড়েন। মেহেরপুরের গাংনী থানার বাসিন্দা টুটুল শুরুতে দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সিতে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন। পরে নিজেই খোলেন তিনটি ওভারসিজ প্রতিষ্ঠান। তবে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের বৈধতা না থাকায় অন্য বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেকার ও শিক্ষিত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে বিদেশে পাচার করেছেন। এভাবে হাতিয়ে নেন কোটি টাকা।
টুটুলের প্রতারণার কাজে অন্যতম সহযোগী এবং দালাল ছিলেন মো. তৈয়ব আলী (৪৫)। তিনিও চায়ের দোকানদার হলেও পরিচয় দিতেন একটি স্বনামধন্য এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার হিসেবে। মুদি দোকানদার থেকে তিনটি ওভারসিজ এজেন্সির মালিক বনে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা টুটুল এবং তার অন্যতম সহযোগী তৈয়বসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে তারা। চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন, গোপালগঞ্জের শাহ্‌ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন (৩৮), মেহেরপুরের মো. মারুফ হাসান (৩৭) ও লালটু ইসলাম (২৮), শরীয়তপুরের আল আমিন হোসাইন (৩০), কুষ্টিয়ার আব্দল্লাহ আল মামুন (৫৪)।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। বলেন, সমপ্রতি একাধিক নারী ভিকটিমের অভিভাবকের মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত বাড্ডা থানার লিংকরোডে টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজে অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ ৪ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি পাসপোর্ট, ৭টি ফাইল, ৪টি সিল, ১৭টি মোবাইল, ৫টি রেজিস্টার, ব্যাংকের চেক বই, ২টি কম্পিউটার, ৩টি লিফলেট এবং নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, এইচএসসি পাস টুটুল মেহেরপুরের গাংনী থানার বামন্দী গ্রামে মুদি দোকানদার হিসেবে কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসতেন। লোভে পড়ে মানবপাচারকারী চক্রে জড়িয়ে পড়েন। শুরুতে চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানো শুরু করেন। পরে নিজেই রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় খুলে বসেন টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ নামে তিনটি এজেন্সি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার ও শিক্ষিত বহু নারী ও পুরুষকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা প্রতারণামূলক আত্মসাৎ করেন টুটুল।
তিনি বলেন, আবু তৈয়ব হচ্ছেন টুটুলের প্রতারণার অন্যতম সহযোগী। টুটুলের প্ররোচনায় চক্রে জড়িয়ে প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে মানব পাচারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নামে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। অনেককে দিয়েছেন চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্রও। মানব পাচার চক্রের অন্যতম সহযোগী শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন ও মারুফ হাসান ছিলেন বেতনভুক্ত কর্মচারী। জাহাঙ্গীর আলম, লালটু ইসলাম, আল আমিন হোসাইন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন টার্গেট সংগ্রহ, প্রার্থীর পাসপোর্টের ব্যবস্থা, কথিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, টাকা সংগ্রহ, প্রাথমিক মেডিকেল সম্পূর্ণ করাসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা করে আসছিল।
প্রতারক টুটুল ও তৈয়বের নির্দেশে চক্রের সদস্যরা টার্গেট করে দেশের বেকার ও অসচ্ছল যুবক-যুবতীদের সৌদি আরব, জর্ডান ও লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে লোভনীয় বেতনে কাজ দেয়ার নাম করে প্রলুব্ধ করতেন। এরপর বিদেশ যেতে আগ্রহীদের ঢাকায় মূল হোতা টুটুল ও তৈয়বের কাছে পাঠানো হতো। টুটুল ও তৈয়ব তাদের অফিসে এনে ভিকটিমদের বিদেশে বাসাবাড়িতে কাজের নামে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ভুয়া রসিদ দিতেন। এর বিপরীতে প্রত্যেকের থেকে দুই থেকে ৫ লাখ টাকা নেয়া হতো। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাচারকারী চক্রের কয়েকজন সদস্য নিজেদের উচ্চশিক্ষিত বলে পরিচয় দিতেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বাসাবাড়িতে কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভিকটিমদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আদায় করা হতো। পাসপোর্ট অফিসের দালালদের সঙ্গেও সখ্য ছিল চক্রের সদস্যদের। কথিত মেডিকেল টেস্ট শেষে নারী ভিকটিমদের সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ, জর্ডান ও লেবাননে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, পাচার হওয়া ব্যক্তিরা বিদেশে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারতেন না। যাদের বিদেশে পাঠানো সম্ভব হতো না টাকা ফেরতে চাইলে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো।
চক্রের অন্যতম মূলহোতা তৈয়ব নিজেকে এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের উচ্চ বেতনে লোভনীয় চাকরির কথা বলে যোগাযোগ করেন। এরপর নিজ কার্যালয়ে নিয়ে আসতেন। বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে চাকরিসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে ভুয়া চাকরির যোগদানপত্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তৈয়ব।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর