× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার , ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

সেনাপ্রধান ও ইমরান খানের মধ্যে উত্তেজনা, পাকিস্তানে নানা গুজব

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) অক্টোবর ১৪, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) নতুন মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বেসামরিক সরকারের মধ্যে। এই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া। এরপর তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী টুইট করে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টা চলছে। সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছে, তা ঠাহর করা গিয়েছিল আগেই। কারণ, আইএসআইয়ের মহাপরিচালক নিয়োগের এক্তিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হাতে। কিন্তু ৬ই অক্টোবর আইএসআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে লেফটেন্যান্ট নাদিম আনজুমের নাম ঘোষণা করে সামরিক মিডিয়া উইং ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর)। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তখনও ইমরান খানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। ফলে সরকারের সঙ্গে সংঘাতময় একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপরই সেনাপ্রধান সাক্ষাত করেন ইমরান খানের সঙ্গে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাকিস্তান সংস্করণ অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন লিখেছে, এসব নিয়ে টুইট করেছেন কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। এতে তিনি বলেছেন, আইএসআইয়ের নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়ার মধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে। তার ভাষায়, এখন আইএসআইয়ের নতুন ডিজি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব আরো একবার প্রমাণ করেছেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির জন্য সব প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হয়। তবে মন্ত্রী একথা বলেননি, সেনা মিডিয়া উইং থেকে ঘোষণা করা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুমকেই এ পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে কিনা।
উল্লেখ্য, ৬ই অক্টোবর সামরিক মিডিয়া উইং থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, আইএসআইয়ের বর্তমান মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদকে সরিয়ে এ পদে নতুন ডিজি নিয়োগ করা হবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুমকে। ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্সের (আইএসপিআর) ঘোষণায় বলা হয়েছিল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামদিকে পদ থেকে সরিয়ে পেশোয়ার কোর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।
কিন্তু একদিন পরেই পুরো দেশে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আইএসআইয়ের প্রধান নিয়োগ দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর বা অনুমোদন লাগে। তার সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই কিভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা বদলির সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেনাবাহিনী- এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলতে থাকে। তবে কি ইমরান খানকে অন্ধকারে রেখেই এ কাজ সম্পন্ন করতে চাইছেন সেনাপ্রধান! এমন ঘোষণা দেয়ার আগে কেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে আলোচনা করা হলো না! এমনিতেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিয়ে নানা বিতর্ক। বার বার তারা বেসামরিক সরকারকে হঠিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেনাবাহিনীর মতো প্রধানমন্ত্রীর অফিসেরও পবিত্র দায়িত্ব রয়েছে।
পরে তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আইএসআইয়ের ডিজি নিয়োগের কর্তৃত্ব আছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। এ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগুবে যথাযথ উপায়ে। এসব নিয়ে কয়েকদিন তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক হতে থাকে সামাজিক মিডিয়ায়। শেষ পর্যন্ত সরকারও এ ইস্যুতে অচলাবস্থর কথা নিশ্চিত করে। কারণ, এই অচলাবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া ম্যারাথন বৈঠক করে যাচ্ছিলেন। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, আইএসআইয়ের ডিজি হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে। নতুন ডিজি হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পাঞ্জাব রেজিমেন্টের লাইট এন্টি-ট্যাংক ব্যাটালিয়ন হিসেবে কমিশন্ড প্রাপ্ত। দীর্ঘ ক্যারিয়ার আছে তার। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের একজন ইন্সট্রাক্টরও তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর