× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার , ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ
সিলেটের রাজনীতি

ছাত্রলীগে বিভক্ত আওয়ামী লীগ

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
১৫ অক্টোবর ২০২১, শুক্রবার

হিসাব মিলছে না সিলেট ছাত্রলীগের। কেউ কারও ছাড় দিতে নারাজ। এ কারণে বাড়ছে ক্ষোভও। আর এই ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে সিলেট আওয়ামী লীগ। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নেতারা। দায়িত্বশীল নেতারাও কমিটি সমঝে না নিতে অনড় অবস্থানে। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় সিলেটে প্রতিদিনই চলছে মহড়া।
এসব মহড়ার কারণে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার ঘোষিত হয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। প্রায় ৪ বছর পর এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ভাই ও দাদাদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। ঘোষিত কমিটিতে সিলেট আওয়ামী লীগের ৩ নেতার নেতৃত্বের বলয় মূল পদ ভাগিয়ে নিয়েছে। এরমধ্যে জেলার সভাপতি পদ পেয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের বলয়, মহানগরের সভাপতির পদ পেয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী বলয়, মহানগর সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহার বলয়। আর জেলার সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছিল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের নেতৃত্বের বলয়। কিন্তু নাসির উদ্দিন খান ছাড়া অপর ৩ বলয়ের শীর্ষ নেতারা পদে খুশি হয়েছেন। নাসির উদ্দিন খানের বলয়ের নেতারা জানিয়েছেন, তারা সভাপতি পদে জাওয়াদ খানকে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই পদ তারা পাননি। উল্টো তাদের বলয়ের নেতা রাহেল সিরাজ নিজ থেকে লবিং করে জেলার সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এ কারণে এখন রাহেল সিরাজের ওপর সব ক্ষোভ তেলিহাওর গ্রুপের নেতাদের। কমিটি ঘোষণার পর রাহেল সিরাজের বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছে তার নিজ বলয়ের নেতারা। রাহেল সিরাজের কারণেই জাওয়াদ খান সভাপতি হতে পারেননি বলে মনে করছে বলয়ের নেতারা। এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ নাসির উদ্দিন খানও। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিকে ঘিরে সিলেট আওয়ামী লীগের বলয় নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এরমধ্যে এক ভাগে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রঞ্জিত সরকার। আর পদ বঞ্চিত হওয়ার কারণে এক সারিতে এসে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। ড্রয়িংরুমের রাজনীতি থেকে মাঠের রাজনীতিতেও তারা এখন মুখোমুখি। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনকেও না জানিয়ে কমিটি ঘোষণা করায় তারা ক্ষুব্ধ। তাদের ভাষ্য হচ্ছে, মূল দল আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কমিটি দেয়া হয়েছে। আর কমিটি নিয়ে সিলেটে ক্ষোভ দেখা দেয়ায় তারাও কমিটির উপর নাখোশ। এই কমিটির কোনো দায় দায়িত্ব তারা নিতে পারবেন না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ও আওয়ামী লীগ নেবে না। এদিকে, এখনো সিলেট জেলা ও মহানগরের দায়িত্বশীল নেতাদের দেখা পাননি ঘোষিত ছাত্রলীগ কমিটির নেতারা। গত বুধবার রাতে মহানগর সভাপতির বাসায় সিলেট আওয়ামী লীগের সিনিয়র ৪ নেতার বৈঠককালে সেখানে যেতে চেয়েছিলেন ছাত্রলীগের পদ পাওয়া নেতারা। দোয়াও নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের দেখা করার অনুমতি দেননি। বরং তারা বিষয়টি নিয়ে বিব্রতও। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল চাইছেন, দ্বন্দ্ব দূর করে সিলেট ছাত্রলীগকে এক করতে। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অনড় অবস্থানের কারণে তার এই প্রক্রিয়াও সফল হচ্ছে না। তবে নাদেল তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ নেতারা। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজকে নিয়ে নাটকীয়তার অন্ত নেই। রাহেল সিরাজ এখন দলছুট নেতা। তেলীহাওর গ্রামের নেতারা তার বিরোধী। এ কারণে রাহেল সিরাজ এখন অন্য বলয়ের শেল্টার চাচ্ছেন। কিন্তু পছন্দমতো শেল্টার পাচ্ছেন না। রাহেল সিরাজের ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারা সর্বশেষ সিলেটে আনোয়ারুজ্জামান ও আজাদ বলয়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। ওই দুই বলয়ের শেল্টার তারা চেয়েছিলেন। কিন্তু তারাও এই মুহূর্তে রাহেল সিরাজকে মেনে নিচ্ছে না। এ কারণে গোলাপগঞ্জের বলয়ের নেতারা রাহেল সিরাজের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতারা জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জের স্থানীয় মেয়র গ্রুপের নেতারা রাহেল সিরাজকে সমঝে নিচ্ছেন। তারাই এখন রাহেল সিরাজকে নিয়ে সিলেটের রাজনীতিতে নতুন করে অবস্থান নিতে চাচ্ছেন। এ নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগে নতুন করে অসন্তষ দেখা দিয়েছে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর