× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২১, সোমবার , ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

বাজারে অসহায়, টিসিবি’র ট্রাকে ভিড়

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৫ অক্টোবর ২০২১, শুক্রবার

নিত্যপণ্যের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। এ অবস্থায় অসহায় হয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র ট্রাক সেলের লাইনে। এ লাইনও প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে। পণ্য কিনতে ভোগান্তি জেনেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে মানুষ। ট্রাক সেলে যা বরাদ্দ থাকে তা বিক্রি হতে সময় লাগে বড়জোর আড়াই ঘণ্টা। এর পরেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ২০-৩০ জন ফেরত যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরের দিন ঠিক আগের মতোই পণ্য কিনতে আসছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন্ন-মধ্যবিত্তদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখনো অনেক পণ্যের দাম বাড়ছে। সংসার চালাতে নিম্ন্ন ও মধ্যবিত্তরা দিশাহারা। এ অবস্থায় সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি’র পণ্য কিনতে ভিড় জমিয়েছেন তারা। তাদের ভরসা যেন টিসিবি’র ট্রাক সেল।

সরজমিন রাজধানীর নির্ধারিত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, টিসিবি’র ট্রাকে পণ্য কিনতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে শরীর ভিজে গেলেও জায়গা হারানোর ভয়ে লাইন থেকে সরছেন না তারা। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মহিলা ও বৃদ্ধরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ট্রাকে চাহিদার চেয়ে পণ্য কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা যায়। এদিকে সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) দেখা গেল- হঠাৎ চলতি পথে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করা ট্রাক দেখেই মোটরসাইকেল থেকে নেমে সিরিয়ালে দাঁড়ালেন পণ্য কেনার জন্য।

জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় টিসিবি’র ট্রাক সেল। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পণ্য হিসেবে থাকে চিনি, সয়াবিন তেল, পিয়াজ ও মসুর ডাল। একেকটি ট্রাকে ৬০০ লিটার তেল, ৫০০ কেজি চিনি এবং ৪০০ কেজি মসুরের ডাল বরাদ্দ থাকে। টিসিবি’র ট্রাকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকা, পিয়াজ ৩০ টাকা, চিনি ও মসুর ডাল ৫৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। টিসিবি’র ট্রাকে সে তেল মিলছে ১০০ টাকা লিটার। এতে ২ লিটার তেলে প্রায় ১২০ থেকে ১২৫ টাকা সাশ্রয় হয়। ডাল বাজারে মানভেদে ৯০ টাকা থেকে ১১০ টাকা কেজি। টিসিবি’র ট্রাকে ডাল পাওয়া যায় ৫৫ টাকা কেজি। চিনি বাজারে ৭৬ থেকে ৮০ টাকা কেজি। টিসিবি’র ট্রাকে ৫৫ টাকা কেজি। জনপ্রতি টিসিবি’র ট্রাক থেকে ২ লিটার তেল ২ কেজি ডাল ও ২ কেজি চিনি কিনতে পারেন। এতে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ টাকা সাশ্রয় হয়। আর পিয়াজে সাশ্রয় হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
বাজারে এসব নিত্যপণ্যের দাম চড়া হওয়ায় ট্রাক সেলে দিন দিন লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। এমনকি যারা কোনোদিন টিসিবি’র লাইনে দাঁড়াননি, তারাও এখন কম দামে টিসিবি’র পণ্য খুঁজছেন। আবার ট্রাক সেলে বরাদ্দ থাকা পণ্য লাইনে অপেক্ষমাণ সবাই নিতে পারেন না। তার আগেই শেষ হয়ে যায় বিক্রি।    
টিসিবি’র ট্রাক সেলে একসময় কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে আসতো নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা পেশায় কেউ ছিল দিনমজুর, রিকশাচালক, গাড়িচালক কিংবা গৃহকর্মী। এখন সেই লাইনে পণ্য কিনতে দাঁড়াচ্ছেন মধ্যবিত্তরাও।

ঢাকার কয়েকটি ট্রাক সেলের স্থান ঘুরে এমনটাই জানা গেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন শিক্ষক, চাকরিজীবী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

রাজধানীর অন্য এলাকার মতো খামারবাড়ী এলাকায়ও টিসিবি’র ট্রাক সেল শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে। দুপুর ১২টাতেই ট্রাকের পণ্য প্রায় শেষ হয়ে যায়। অথচ তখনও প্রায় ৭০-৮০ জন ক্রেতা লাইনে দাঁড়ানো থাকে। এই লাইনে পণ্যের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক। তিনি বলেন, আমি ১১টার দিকে এসেছি। লাইন অনেক লম্বা। তারপরও কিছু করার নেই, বাজার থেকে অনেক কম দামে অন্তত তিনটা পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই তেল, চিনি, ডালের প্রয়োজন পড়ে, কম কম করে ব্যবহার করলেও এসব লাগবেই। বাজার থেকে প্রায় ৭০-৮০ টাকা কমে এখানে পাচ্ছি। তাই যত দেরি হোক সমস্যা নেই, নিয়ে যাবো।

লাইনে অপেক্ষমাণ সালেহ উদ্দিন জানান, তিনি আগে কখনও টিসিবি’র লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনেননি। বাজারে যখন নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যায় তখন তিনি ভরসা করেন টিসিবি’র ট্রাকেই।
খামারবাড়িতে টিসিবি’র ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকা মো. মনির হোসেন জানান, বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, মানুষের আর উপায় কি। আমরা একদিন পর পর এই জায়গায় আসি। একজন ২ কেজি’র বেশি নিতে পারে না। যে পরিমাণ পণ্য আমাদের দেয়া হয়, তা দিয়ে লাইনে দাঁড়ানো সবাইকে দেয়া যায় না।

জাতীয় প্রেস ক্লাব পাশেই টিসিবি’র একটি ট্রাক দাঁড়ানো। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারীর কাজ করেন শফিউল। আধাঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে মাঝামাঝি এসেছেন তিনি। বলেন, বেতন দিয়ে এমনিতেই সংসার চালানো কষ্ট। বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়। যদি নিজের খাওয়ার পেছনেই পয়সা শেষ হয়ে যায়, তাহলে বাড়ি পাঠামু কি? তাই অফিসের কাছেই আছে এজন্য কিনে নিলাম।
গতকাল বাংলামোটর লিংক রোডে দুপুর একটার দিকে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। কাছে গিয়ে দেখা যায় টিসিবি’র ট্রাক এসেছে। ধীরে ধীরে লাইনে এসে দাঁড়াচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে পণ্য আগে নেয়ার জন্য ধাক্কাধাক্কিও শুরু করেন।

লাভলী হালদার নামে এক গৃহিণী প্রখর রোদের মাঝে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় চোখে মুখে রোদে পোড়ার ছাপ ষ্পষ্ট। টিসিবি’র ট্রাকের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। ঘণ্টা দেড়েক দাঁড়িয়ে থাকার পর তিনি টিসিবি’র পণ্য হাতে পান। বলেন, বাসাবাড়িতে কাজ করি। কাঁঠালবাগানে পরিবার নিয়ে থাকি। বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। বাজার থেকে বেশি দামে না কিনে টিসিবি থেকে কিনলাম। তাতে কিছু টাকা খরচ কম হবে। ওই টাকা দিয়ে অন্য কিছু করা যাবে। আমরা গরিব। ছেলে মেয়ের মুখে তো খাবার দেয়া লাগে। ১২টার দিকে টিসিবি’র গাড়ির কথা শুনে এখানে এসেছি। প্রায় ঘন্টা দেড়েক রোদে পুড়ে অপেক্ষা করার পর এখন পণ্যগুলো হাতে পেলাম। ডাল, চিনি, পিয়াজ, তেল, নিয়েছি।

এদিকে কলাবাগানে টিসিবি ট্রাক সেলের সামনেও দীর্ঘ লাইন। এখান থেকে নূরজাহান বেগম চিনি, তেল, পিয়াজ, ডাল নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। তার স্বামী চা বিক্রি করে সংসার চালান। স্বল্প আয়ে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন, এমনিতে করোনার পর খুব কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে। কোনো আয় নেই। সংসারে অনেক খরচ। টিসিবি’র ট্রাকে একটু দাম কম। এজন্য বাজার থেকে না কিনে এই এখান থেকে কিনছি। এতে মোটামুটি কয়েকদিন ভালোভাবে যাবে।

বসুন্ধরা শপিং মলের পিছনে থাকেন মো. শাওন। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। বাজারে সবকিছুর দাম অনেক বেশি। এই জন্য কষ্ট হলেও একটু কম দামে টিসিবি পণ্য কিনতে পারছি। বাজার থেকে চড়া দামে ক্রয় না করে এখান থেকে নিলে কিছু টাকা বাঁচানো যায়।
ফজিলাতুননেছা বলেন, ছোট দুইটা ছেলে-মেয়ে আছে। তাদের অনেক বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়। আমার স্বামী রিকশা চালায় তাতে কি আর সংসার চলে। সবকিছুর দাম এত বেশি হলে আমাদের তো না খেয়ে মরতে হবে। কয়েকদিন ধরে খুব একটা ভালো খাবার ছেলে-মেয়েদের খাওয়াতে পারি না। আজ টিসিবি’র গাড়ি আসছে পাশের একজনের কাছে শুনে সব কাজ ফেলে চলে আসছি।

টিসিবি’র বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, এক কেজি ডাল, দুই কেজি তেল, দুই কেজি চিনি, পাঁচ কেজি পিয়াজসহ একটি প্যাকেজে দেয়া হচ্ছে। পাঁচশ’ টাকার মধ্যে এই প্যাকেজটি। বিক্রি ভালোই হচ্ছে। আরেক বিক্রেতা জসিম বলেন, দুপুর একটা থেকে বিক্রি শুরু করেছি। এরপর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। চার ঘণ্টায় বিক্রি শেষ।

রাজধানীর কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেড়ে বড় দানার মসুর ডাল ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে লিটারে খোলা সয়াবিন ২০ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিনে ২৫ টাকা বেড়ে ১৪২ ও ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা, যা জানুয়ারিতে ৭০ টাকায় পাওয়া যেত। প্রতি কেজি আটা (খোলা ও প্যাকেটজাত) বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকা, যা ২৮-৩৩ টাকা ছিল। প্রতি কেজি পিয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক মাস আগেও ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। এই সুযোগে কেউ যাতে অসাধুভাবে মুনাফা করতে না পারে সেজন্য সারা দেশে তদারকি করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Anwarul Azam
১৫ অক্টোবর ২০২১, শুক্রবার, ১:২৩

টিসিবির ট্রাকে সকাল থেকেই ভিড়। কারণ একটাই নিয়ন্ত্রিত মূল্যে তেল পেঁয়াজ ও চিনি পাওয়া যায়। ৫/৬ ঘন্টার উপর এরা থাকেনা। সরবরাহ কম। উপায় হল লজিস্টিক সাপোর্ট।

Kazi
১৪ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৬:২১

ক্ষুধার্ত উন্নয়ন বুঝে না । পদ্মা সেতুর মূল্য ও গুরুত্ব দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে যত টুকু ঢাকার বাসিন্দা নিম্ন বেতন ভুক চাকরি জীবি ও দিন মজুরের কাছে ততটুকু নয়। নির্বাচনে জিততে এদিকে সরকার খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে টিসিবির ট্রাকের সংখ্যা বাড়িয়ে নিত্য পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করুন । দেশের সব জাগায় । নেতারা এক চোখা নীতি হরিণের মত সিদ্ধান্ত নিলে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয় আছে । আমরা চাই না আওয়ামী পরাজিত হউক ।

অন্যান্য খবর