× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২১, সোমবার , ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ
ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন

তৃণমূলের সুপারিশ উপেক্ষিত

প্রথম পাতা

কাজী সোহাগ
১৬ অক্টোবর ২০২১, শনিবার

কক্সবাজার জেলার পি এম খালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবারে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দেলোয়ার হোসেন জনি। জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশে চারজনের মধ্যে তার নাম ছিল এক নম্বরে। জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে তালিকার শীর্ষে তার নাম রাখা হয়। কিন্তু মনোনয়ন বোর্ড তাকে মনোনয়ন দেয়নি। এভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নে তৃণমূলের বেশির ভাগ সুপারিশ উপেক্ষিত হয়েছে আওয়ামী লীগে। তিনজনের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক বিবেচনা করে এক নম্বরে যাদের নাম দেয়া হয়েছে তাদের বেশির ভাগকে এবার মনোনয়ন দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ এরকম অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মানবজমিনের কাছে এ অভিযোগ করেছেন। তাদের বক্তব্য- সিরিয়াল অনুযায়ী তাদের নাম এক নম্বরে থাকলেও দল মনোনয়ন দেয়নি।
জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে ২ বা তিন নম্বরে যাদের নাম এসেছে তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিরা কলকাঠি নেড়েছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা বলেন, এমপিরা এলাকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে অনেক নেতার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেছেন। দেখা গেল- এক নম্বরে নাম দিয়ে পরে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের অনুরোধ করেছেন অন্যকে মনোনয়ন দিতে। এসব বিষয় উল্লেখ করে এরইমধ্যে অনেক ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লিখেছেন। পাশাপাশি দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নানাভাবে অভিযোগ করেছেন। কেউ কেউ ফোনালাপ শুনিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দলের তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি কিছু সংস্থার প্রতিবেদনকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেখা গেল তৃণমূল থেকে যার নাম পাঠানো হয়েছে সংস্থার রিপোর্টে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সেসব দিক বিবেচনা করে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিতর্কিত কাউকে দলীয় প্রতীক না দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে এটা করা হয়েছে। তারা বলেন, দলীয় সভাপতির নির্দেশনা রয়েছে- ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয়তা রয়েছে এমন নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দিতে। আমরা সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছি। তারপরও যেসব মনোনয়নে বড় ধরনের ভুল মনে হয়েছে সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ পেলে সামনে আরও পরিবর্তন আসবে। এরই অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নৌকা প্রতীক পাওয়া দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বদল করেছে আওয়ামী লীগ। তারা হলেন নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে আবুল হাসেমের পরিবর্তে সাবেক ইউপি সদস্য পুতুল রানী বিশ্বাস এবং হরিপুর ইউনিয়নে দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখির পরিবর্তে ওয়াসিম আহমেদ। স্থানীয় সূত্র জানায়, মন্দির ও হিন্দু পল্লীতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলার আসামিকে দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড অজ্ঞতাবশত মনোনয়ন দেয়। পরে এ নিয়ে নাসিরনগরে সমালোচনা দেখা দিলে প্রার্থী বদলে দেয় ক্ষমতাসীন দল। দ্বিতীয় দফায় ১১ই নভেম্বর ভোটে অংশ নিতে গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ নাসিরনগর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। তাতে ২০১৬ সালে হিন্দুদের ওপর হামলার মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত এই দুই আসামিদের নাম দেখে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে দেশের অনেক জায়গাতেই। চলছে বিক্ষোভ, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন। কোথাও কোথাও ‘ত্যক্ত-বিরক্ত’ তৃণমূল নেতারা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়ে ফেলেছেন। আর ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে মনোনয়ন বঞ্চিতদের অনেকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে নির্বাচনকে ঘিরে ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলে বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা জানিয়েছেন, উপেক্ষার যন্ত্রণায় তারা ক্ষুব্ধ। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নে তাদের মতের প্রতিফলন ঘটেনি। তৃণমূল থেকে পাঠানো তাদের প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে এসে বদল হয়ে গেছে। তাদের সুপারিশ করা প্রার্থীর বদলে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে গেছেন মন্ত্রী-এমপি কিংবা প্রভাবশালী নেতাদের ‘পছন্দের প্রার্থীরা’। এক্ষেত্রে বেশ জোরেশোরেই উঠেছে মনোনয়ন বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। তৃণমূল নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই শেষে চূড়ান্ত মনোনয়নের সুপারিশ করে কেন্দ্রে নাম পাঠিয়েছিলেন তারা। কথা ছিল, জেলা-উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে ছয় সদস্যের স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী ঠিক করে মনোনয়নের সুপারিশ পাঠাবে কেন্দ্রে। আর প্রার্থী বাছাইয়ের এ প্রক্রিয়ায় বেশির ভাগ জায়গায়ই ভোটাভুটির আশ্রয়ও নিতে হয়েছে। জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিচারে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের পর যে সিদ্ধান্ত এসেছে- তাতে দেখা গেছে, তৃণমূল মনোনীত প্রার্থীকে পেছনে ফেলে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে গেছেন অন্য একজন। ভোটের ফলে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিলেন- এমন প্রার্থীও কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যাওয়ার ঘটনা রীতিমতো ‘বিস্মিত’ করেছে তাদের। এরই অংশ হিসেবে মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দলীয় সভাপতি বরাবর তারা বিষয়টি নিয়ে চিঠিও দিয়েছেন। দুই উপজেলার তৃণমূল পর্যায় থেকে পাঠানো তালিকা দলের মনোনয়ন বোর্ডে জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, অদৃশ্য শক্তির কারণে তৃণমূলের পাঠানো তালিকা পরিবর্তন হয়ে গেছে। ফলে ১৩টি ইউনিয়ন থেকে তৃণমূলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হলেন। মনোনয়ন পেয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত ও অব্যাহতি পাওয়া এবং বিএনপি’র সাবেক নেতাসহ দলের হাইব্রিডরা। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ই নভেম্বর ৮৪৮ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। এতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৪ হাজার ৪৫৮ জন প্রার্থী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০শে অক্টোবর থেকে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করতে আবারো মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু হবে। মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ৮ই অক্টোবর। এর আগে থেকেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দলের তৃণমূলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রে অভিযোগ পড়তে শুরু করে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ইউপি নির্বাচনে বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় প্রার্থীর নাম পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে তথ্য গোপন এবং নানা অনিয়ম ও জালিয়াতি করে কেন্দ্রে নাম পাঠিয়েছেন। যারা এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
কাজি
১৫ অক্টোবর ২০২১, শুক্রবার, ২:৫২

ওবায়দুল কাদের মাত্র সেদিন বললেন বিএনপিতে গণতন্ত্র নাই আওয়ামীলীগে আছে । এই কি সেই গণতন্ত্র যেখানে তৃণমূলের মতামত অগ্রাহ্য ?

অন্যান্য খবর