× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার , ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

পুলিশ পরিচয়ে দেড় হাজারের বেশি ছিনতাই

প্রথম পাতা

মরিয়ম চম্পা
১৭ অক্টোবর ২০২১, রবিবার

প্রাইভেটকার নিয়ে প্রতিদিন নিয়ম করে চার ঘণ্টা ছিনতাইয়ের কাজ করে তারা। বাকি সময় নিজেদের মতো করে কাটায়। ছিনতাইয়ের শুরু হয় ভোর ৪টায়, আর মিশন শেষ করে সকাল ৮টায়। এই ছিনতাইকারী চক্রের শিকার মধ্য বয়সী, প্রবীণ এবং রিকশা আরোহীরা। গতিরোধ করে ছিনিয়ে নেয় স্বর্ণালঙ্কার, টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। চক্রটি গত পাঁচ বছরে ঢাকা মহানগরীতে দেড় হাজারেরও বেশি ছিনতাই করেছে। সম্প্রতি পাঁচ সদস্যের এমনই এক ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগরের তেজগাঁও বিভাগ। মহানগর তেজগাঁও বিভাগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭শে সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৪০ মিনিট। রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক নিজ বাসার সামনের একটি গাছ থেকে পূজার ফুল কুড়িয়ে রাখেন আরতি রানী বণিক। প্রতিদিনের মতো ফুল কুড়িয়ে বাসার কাছের একটি রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সকাল পৌনে ৭টায় সড়কে এসে থামে সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেটকার। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ১৪-১১৬৩।
এলোমেলোভাবে ঘোরাঘুরির কিছুক্ষণ পর গাড়িটি হঠাৎ করে রাস্তায় থামে। এ সময় গাড়ি থেকে সাদা শার্ট এবং কালো প্যান্ট পরা দু’জন ব্যক্তি নেমে আসে। দু’জনের মধ্যে আরতি রানীকে একজন অনুসরণ করছে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীর কাছে এসে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয়। সঙ্গে থাকা পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ড দেখিয়ে আরতি রানীকে ভয় দেখায়। তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হঠাৎ এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা সাড়ে তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের বালা ও গলার হার ছিনিয়ে নিয়ে সাদা রংয়ের প্রাইভেট কারটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
ভুক্তভোগী আরতি রানী বণিকের বরাত দিয়ে তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার দীপংকর বণিক মানবজমিনকে বলেন, মা প্রতিদিনের মতো ফুল কুড়িয়ে রাস্তার পাশে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে পেছন থেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে অনুসরণ করছিলেন। মা ভেবেছিলেন পাশেই একটি ভবনে নির্মাণকাজ চলছে সেটা পরিদর্শনে এসেছেন হয়তো। তিনি নিজের মতো করে হাঁটতে থাকলে বারবার অনুসরণ করতে থাকে ওই ব্যক্তি। যখন মূল সড়কের এক পাশে আসেন এ সময় ওই ব্যক্তি এসে মা’কে বলেন, এখানে গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গি সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আপনি জানেন না? কেন সকালে হাঁটতে বেরিয়েছেন। এ সময় পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ড দেখিয়ে বলে, আমি থানা থেকে এসেছি। পুলিশের লোক। আপনার সঙ্গে থাকা স্বর্ণগুলো দেখতে হবে কত ক্যারেটের। সঙ্গে থাকা স্বর্ণের গহনা খুলে দেন। এ সময় কেন খুলে দিবেন জানতে চাইলে হঠাৎ সে মায়ের গলা থেকে টান দিয়ে চেইন এবং হাতের বালা খুলে নিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ মা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরবর্তীতে যখন তিনি চিৎকার করেন তখন লোকটি পালিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এ ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার আরতি রানীর ছেলে দীপংকর বণিক ঘটনার পরদিন বাদী হয়ে ২৮শে সেপ্টেম্বর আদাবর থানায় ১৭০/৩৯২ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর ২৩। পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত গাড়িটিকে খুঁজে বের করে জব্দ করে পুলিশ। গাড়ির সূত্র ধরে শনাক্ত করা হয় ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে। রাজধানীর ডেমরা ও কদমতলী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে চক্রের মূল হোতা শওকত, রাশেদ, সুমন, মাসুম এবং বিল্লালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গলিত স্বর্ণ, ওয়াকিটকি ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফ। তদন্ত সূত্র জানায়, পথচারী সেজে শিকার ঠিক করে সুমন। পুলিশ কর্মকর্তা সেজে ছিনতাইয়ের কাজ করে মূল হোতা শওকত ও রাশেদ। গাড়ি চালায় মাসুম। এছাড়া ছিনতাইকৃত জিনিস বিক্রির বিষয়টি সম্পন্ন করে বিল্লাল। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা গত পাঁচ বছরে ঢাকা মহানগরীতে দেড় হাজারের বেশি ছিনতাই করার কথা স্বীকার করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক এবং মহাসড়কেও মাঝেমধ্যে ছিনতাই করতো এই চক্রটি। চক্রটি প্রতিদিন চার থেকে ছয়টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাতো। চক্রের মূল হোতা শওকত ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ জানান, গত পাঁচ বছরে চক্রটি সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা সাধারণত নির্দিষ্ট বয়সের ব্যক্তি বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করে ছিনতাইয়ের কাজ করতো। এ ছাড়া ছিনতাইকৃত স্বর্ণালঙ্কার নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করতো। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন মানবজমিনকে বলেন, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দুই থেকে তিনটি করে মামলা রয়েছে। এছাড়া ছিনতাইকৃত স্বর্ণালঙ্কার যাদের কাছে বিক্রি করতো এমন এক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর