× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০২৪, শুক্রবার , ১৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ শওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক চেয়ারম্যান / ইভ্যালির পরিচালক বোর্ড গঠন

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৯ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে চেয়ারম্যান করে ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বোর্ড গঠন করেন। পর্ষদে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবীর মিলন (ওএসডি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে থাকবেন। আগামী ৩০শে অক্টোবর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করে এ সময়ের মধ্যে পর্ষদকে বৈঠক করে অগ্রগতি জানাতে বলেছেন আদালত। আদালত  বলেন, কোম্পানি সংক্রান্ত ফৌজদারি অপরাধের বিচার প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে। এ আদালত শুধু কোম্পানি সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখবে।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএম মাসুম ও সৈয়দ মাহসিব হোসেন। যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী একেএম বদরুজ্জামান। বাণিজ্য মন্ত্রলায়ের পক্ষে শুনানি করেন- আইনজীবী তাস কান্তি বল।
কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা মাহবুব কবীর মিলন প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেন, মাহবুব কবীরের সঙ্গে কথা বলেছি।
কাজের প্রতি তার আগ্রহ দেখে ভালো লেগেছে। তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। রেল বিভাগের নানা অনিয়ম দূর করতে নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। গত বছরের ৬ই আগস্ট তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। মাহবুব কবীর এর আগে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিছু সময়ের জন্য ছিলেন কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও। এ সময় তিনি খাদ্যে ভেজাল ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচিত হন।
এদিকে, সাবেক বিচারপতি মানিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারলাম। সব কাগজপত্র দেখতে হবে। তবে এ মুহূর্তে যেটা বলতে পারি তা হলো ইভ্যালিকে কার্যকরী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দাঁড় করানো হবে আমাদের প্রথম কাজ। তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে আরো সদস্য আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ করে ইভ্যালিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার পাশাপাশি যারা পয়সা দিয়েছেন তাদেরকে তা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
গত ১২ই অক্টোবর মামলার শুনানিতে আদালত বলেছিলেন, বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় চারজনের বোর্ড হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সচিব ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ চার-পাঁচজনকে বোর্ডে রাখা যেতে পারে। সেদিন আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কথা বলে বর্তমান বা সাবেক সচিব, অতিরিক্ত সচিব এমন তিনজনের নাম দিতে বলেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ই অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত সাবেক তিনজন সচিবের নাম আদালতে দাখিল করেন তাদের আইনজীবী। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আদেশের জন্য ১৮ই অক্টোবর  তারিখ রাখেন। সে অনুসারে সোমবার মামলাটি কার্যতালিকায় ওঠে।
 ক্রমানুসারে মামলাটি উঠলে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দিয়ে আদালত বলেন, হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পরপরই তাঁরা (সদস্য) বোর্ড মিটিংয়ে বসবেন। তারা সবকিছু বুঝে নেবে, কোথায় কী আছে। কোম্পানি যেভাবে চলে, সেভাবে প্রথমে বোর্ড মিটিং বসবে। তাদের (বোর্ড) দায়িত্ব হলো টাকাগুলো কোথায় আছে, কোথায় দায় আছে, তা দেখা। আদালত আরও বলেন, কোম্পানি কোর্টের কাজ হলো, যদি দেখা যায়, কোনো একটি মিটিং করা সম্ভব হচ্ছে না, তখন কোম্পানি কোর্টের স্যুয়োমোটো ক্ষমতা আছে। আদালত বোর্ড গঠন করে দিতে পারেন। এখন এই বোর্ড গঠন করে দেওয়া হলো। তারা (বোর্ড) বসে বিষয়গুলো দেখবে। অডিট লাগবে, তারা অন্যান্য কাজগুলো দেখবে। এরপর সবকিছু করার পর বোর্ড যদি দেখে, কোম্পানিটি চলার যোগ্যতা নেই, তখন অবসায়নের জন্য প্রসিড করবে। কোম্পানি অবসায়ন চেয়ে আবেদনকারী আবেদন করেছে। তখন আবেদনকারীর সঙ্গে বোর্ডও বলবে, কোম্পানিটি অবসায়ন করতে হবে। আর যদি বলে চালানো সম্ভব, তাহলে কোম্পানিটি চলবে। বোর্ড প্রথম বোর্ড মিটিং করে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেবে।
 গত মে মাসে ইভ্যালিতে ইলেকট্রনিকস পণ্য অর্ডারের পর অর্থ পরিশোধ করে পণ্য ও টাকা না পেয়ে কোম্পানিটির অবসায়ন চেয়ে গ্রাহক ফরহাদ হোসেন গত ২২শে সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আবেদন করেন। এতে ইভ্যালি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য বোর্ড গঠনের আরজিও জানানো হয়।
প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বর্তমানে ইভ্যালির নাম দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত। প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতিমধ্যে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে আছেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর