× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার , ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত চেয়ারম্যানরা, অনাহারে দেড় হাজার জেলে

অনলাইন

মোঃ সোহাগ হোসেন, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
(১ মাস আগে) অক্টোবর ২১, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৩:২৯ অপরাহ্ন

আসন্ন তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চেয়ারম্যানরা। দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাদান কত কাজ তাদের। দলীয় মনোনয়ন পেতে ছুটে চলছে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতার দ্বারে দ্বারে। কিন্তু ভুলে গেছেন অসহায় গরীব জেলেদের কথা। নিষেধাজ্ঞার ১৮ দিন পেরুলে এখনও উপজেলার দেড় হাজার জেলে পরিবারকে দেয়া হয়নি ত্রানের চাল। অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অথচ চেয়ারম্যানরা পারি জমিয়েছেন ঢাকায়। দলীয় ফরম সংগ্রহ ও জমা দেয়া নিয়ে করছেন নিরলস দিন পার।

জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে কেবল দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের দুই শত ৭৩ জেলে পরিবার চাল পেয়েছেন। মাধবখালী, মির্জাগঞ্জ, আমড়াগাছিয়া, কাকড়াবুনিয়া ও মজিদবাড়িয়াসহ পাঁচটি ইউনিয়নের জেলেদের ভাগ্যে এখনও জুটেনি চাল।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় দুই হাজার ১৬ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজার ছয়শ’ ২৮জন জেলে ত্রাণের চাল পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মাধবখালী ইউনিয়নে তালিকাভূক্ত জেলে রয়েছেন একশ’ ৭৭জন, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে পাঁচশ’ জন, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে ৫৮জন, দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুইশ’ ৭৩ জন, কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নে দুইশ’ ৬৮জন, মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে তিনশ’ ৫২ জন।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে তালিকাভূক্ত প্রত্যেক জেলে পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। মির্জাগঞ্জ গ্রামের জেলে শহিদ ও হানিফ জোমাদ্দার বলেন, মাছ ধরতে পারিনা ১৮ দিন ধরে। চাল দেওয়ার কথা তাও পাইনা। এখন কী ছেলে পান নিয়া না খাইয়া মরমু।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা জেলে মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ আশরাফ আলী আকন বলেন, জেলেদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হলো মাছ শিকার। ফলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে থাকে। এই মুহূর্তে ২০ কেজি করে চাল পেলেও জেলেরা কয়েকদিন ভালোভাবে চলতে পারতো। চেয়ারম্যানরা এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আর অন্যদিকে জেলেরা না খেয়ে মরতেছে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের ১৭-১৮ দিন পার হলেও চাল পায়নি জেলেরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলেদের ত্রাণের চাল দেয়ার জন্য ডিও ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা যে কোন সময় চাল নিয়ে জেলেদের মাঝে বিতরণ করতে পারেন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম বলেন, ২০শে অক্টোবরের মধ্যে সকল জেলেদের মাঝে চাল বিতরণের জন্য বলা হয়েছে। সোমবার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে।

মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ মনিরুল ইসলাম লিটন সিকদার বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দেয়া নিয়ে একটু ব্যস্ত ছিলাম। তালিকা করা হয়েছে ২/১ দিনের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চাল বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। অবরোধ শুরু হওয়ার পূর্বেই এই তালিকা মৎস্য অফিস ইউনিয়ন কমিটির নিকট থেকে সংগ্রহ করবে। এখনও চেয়ারম্যানরা তালিকা পায়নি, এটি তাদের উদাসীনতা। আগামী তিনদিনের মধ্যে সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এই বিতরণ কার্যক্রম শেষ করবেন মর্মে জানিয়েছেন। ব্যর্থতায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর