× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার , ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

লোহাগাড়ায় অবাধে বালু উত্তোলন হুমকির মুখে ডলু ব্রিজ

বাংলারজমিন

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর ২০২১, শনিবার

ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ডলু খালের উপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ। এটির পিলারের কাছে সৃষ্টি হয়েছে ৩০-৪০ ফুট গর্ত। ব্রিজটির নিচে ও পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নিচের পিলার ভেসে উঠেছে। এতে ব্রিজটি হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, উপজেলার পুঁটিবিলা-চুনতি এই দুই ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ডলুখাল। ওই খালের ওপর পুঁটিবিলা-চুনতি সংযোগ সড়কে ২০ বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছে ব্রিজটি। এটি লোহাগাড়া, বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ব্রিজ থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করেই বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়েছে। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন শতশত যান চলাচল করছে। স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে। বালু উত্তোলনের কারণে ব্রিজটির বেইজড দেখা যাচ্ছে। গাড়ি চললে ব্রিজটি নড়ে ওঠে। ওই মুহূর্তে মনে হয় ব্রিজ ভেঙে পড়ে যাবে। এর কারণে বর্তমানে এটি হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, বেইলি ব্রিজটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্রিজ ভেঙে পড়লে হাজার হাজার মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হবে। বালু উত্তোলনের কারণে এই ব্রিজটি হুমকির মুখে। বালু উত্তোলনকারীরা অনেক বেশি প্রভাবশালী। এরা প্রভাব খাটিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এই বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আমাদের কৃষি জমি রক্ষা করা মুশকিল হয়ে পড়বে। অচিরেই ব্রিজটির দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি। এলাকার বাসিন্দা কৃষক হোসেন বলেন, নিজের ১০ শতক জমিতে চাষাবাদ করে তার সংসার চলতো। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীদের কারণে সব ডলুর পেটে গেছে। এ ব্যাপারে পুটিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ জানান, পুটিবিলা-চুনতি এই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ। এলাকার কিছু বালুখেকো বালু উত্তোলনের কারণে ব্রিজটির বেইজড ৩০ ফুটের বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে, অনেক ঝুঁঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি। এ বিষয়ে কথা হলে চুনতি ইউপির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জনু কোম্পানী জানান, ব্রিজের নিচে অবৈধভাবে বালু উত্তোলেনের কারণে এখন হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দ্রুত সংস্কারের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইফরাদ বিন মুনীর বলেন, ডলু খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহসান হাবিব জিতু জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুখেকোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বহু বালু জব্দ করা হয়েছে। বহু বালুখেকোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ডলু খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটির নিচ থেকে কোনো ধরনের বালু উত্তোলন করা যাবে না বলে জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর