× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ১ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার , ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদানের আহ্বান

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(১ মাস আগে) অক্টোবর ২৩, ২০২১, শনিবার, ৭:৫৫ অপরাহ্ন

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করতে ‘প্যারিস রুল-বুক’ চূড়ান্তকরণের দাবি এবং গ্ল্যাসগো সম্মেলনে (কপ-২৬) বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের নাগরিক সমাজ। শনিবার ডেইলি স্টার সেন্টার কনফারেন্স হলে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), কোস্ট ফাউন্ডেশন, সিডিপি, ক্লিন, আরআইবি, এসডিএস-সহ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ‘ইউএনসিসিসি-এর ২৬তম জলবায়ু সমঝোতা সম্মেলন (কপ-২৬) এর প্রাক্কালে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে এই আহ্বান জানানো হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য রাখেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধরিত্রী সরকার, সিডিপি’র নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গির হাসান মাসুম, এসডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম, কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে শামসুদ্দোহা বলেন, বৈশ্বিক কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে ২০২০ সালে ‘কপ’ অনুষ্ঠিত না হওয়ার প্রেক্ষিতে এবারের ‘কপ’ (জলবায়ু সমঝোতা সম্মেলন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্যারিস অ্যাগ্রিমেন্টের পূর্ণতা দান করা সব থেকে বেশি জরুরি। আমরা আশা করছি ২৬তম জলবায়ু সমঝোতা সম্মেলন (কপ-২৬) প্যারিস রুল-বুককে চূড়ান্ত করবে। প্যারিস রুল-বুক চূড়ান্ত করণের মধ্য দিয়েই মূলত: প্যারিস অ্যাগ্রিমেন্ট অপারেশনাল রূপ পাবে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যকর পন্থাটি হচ্ছে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন কমানো এবং এই লক্ষ্যে কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য একটি যথাযথ লক্ষ্যমাত্রা (এনডিসি) তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রাকে শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে যথেষ্ট নয়। এমনকি নতুন করে যে রাষ্ট্রগুলো সংশোধিত লক্ষমাত্রা জমা দিয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণেও বেরিয়ে এসেছে যে এই হারে কার্বন নির্গমন কমানো হলে সেটি বৈশ্বিক গড়তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ অথবা ২.০০ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারবে না, ফলে কপ-২৬ কার্বন কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে বলে আমরা আশা করি। এ পর্যন্ত হওয়া কপগুলোতে জলবায়ু পরির্বতনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত অনেক দাবির বিষয়ে যথাযথ গুরুত্বারোপ না করে আর্থিক সুবিধা দিয়ে দাবিগুলোকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এই স্বল্প পরিমাণ অর্থায়ন বা অপর কোন উদ্যোগই কাজে আসবে না যদি না কার্বন নির্গমন কমানোর বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

তিনি বলেন, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করার কথা থাকলেও শিল্পোন্নত দেশসমূহ এই প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাহ অব্যাহত রাখতে হবে এবং ২০২৫ সালের পরের পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থায়ন এর পরিমাণ পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে দাবি জানিয়ে আসছি, শিল্পোন্নত দেশসমূহকে ২০৩০ সালের মধ্যে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বকে ২০৪০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। আমরা কপ-২৬ এর কাছে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনতে শক্ত পদক্ষেপ আশা করি। লস অ্যান্ড ড্যামেজের বিষয়ে প্যারিস এগ্রিমেন্ট-এর ‘আর্টিক্যাল-৮’ এ বলা থাকলেও এর ফাইনান্সিং মেকানিজম এখনো তৈরি হয়নি, কপ-২৬ এ একটি ফাইনান্সিং মেকানিজম চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ধরিত্রী সরকার বলেন, উন্নত বিশ্ব বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে প্রাক-শিল্প বিপ্লব সময়ের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে বলেছে, কিন্তু আইপিসিসি রিপোর্ট -৬ এর পর এটি আরও স্পষ্ট হয়েছে যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যথাযথ এনডিসি’স ডকুমেন্টই পারে এই বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে আনাতে।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আমাদের সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা মনে করি জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে সরকার, গবেষক, নীতি-নির্ধারক এবং নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। আমরা এই অন্দোলনে সকলকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি সিপিআরডি সহ আয়োজক সংগঠন গুলোকে ধন্যবাদ দেন।

আমিনুল হক বলেন, কয়েকটি দেশ আইপিসিসি’র রিপোর্টকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, সে দেশগুলো এবার কপেও তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে বলে মনে করি। আমাদের পক্ষ থেকে অংশ নেয়া নেগোশিয়েটর এবং নাগরিক সমাজকে আগামী কপে তাদের সেই অপচেষ্টাকে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি সিভিএফ ফোরামকে একটি নেগোশিয়েশন স্টেটাস প্রদান করার আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গির হাসান মাসুম বলেন, ইউএনসিসিসি মূলত দাঁড়িয়েছিল কার্বন মিটিগেশনকে উদ্দেশ্য করে। আমরা যদি কার্বন নির্গমন কমানোর উপরই মূল চাপ প্রয়োগটি অব্যাহত রাখতে পারতাম তাহলে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন রকম থাকত। তিনি অভিযোগ করে বলেন উন্নত বিশে^র পক্ষ থেকে কার্বন নির্গমন কমানোর বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ইস্যুকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিয়ে আসা হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর