× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২১, শনিবার , ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় ধর্মপ্রাণ কেউ জড়িত নয়: মুফতি রেজাউল

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(৪ সপ্তাহ আগে) অক্টোবর ২৭, ২০২১, বুধবার, ৭:৪৫ অপরাহ্ন

পরিকল্পিতভাবে পূজামণ্ডপে কোরআন রেখে ও পরবর্তীতে সারাদেশে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, একথা স্পষ্ট যে, এসব ঘটনায় ধর্মভিত্তিক কোনো দল, সংগঠন বা ধর্মপ্রাণ নাগরিক জড়িত নয়। ইসলামী সংগঠনের তৎপরতা বন্ধের লক্ষ্যে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে।
বুধবার সকালে পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘দেশের চলমান সংকট উত্তরণে করণীয়’ নির্ধারণে ওলামা মাশায়েখ ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, কথিত কিছু বুদ্ধিজীবী দেশে কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটলেই আলেম-ওলামা ও ইসলামী সংগঠনগুলোকে একতরফা দায়ী করে। তার সুযোগ বুঝে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া এবং দেশে ইসলামপন্থিদের সব তৎপরতা বন্ধের দাবি তোলেন।
রেজাউল করিম বলেন, ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশে বসেও একটি শ্রেণি তাতে তাল মেলাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের সংখ্যালঘুরা রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা মুসলমানদের চেয়ে বেশি ভোগ করছে, যা বিশ্বে বিরল। সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে কেউ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র সাজিয়েছে কি না, তা দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। সংকট নিরসনে তিনি দলমত নির্বিশেষে সব দেশপ্রেমিক শক্তির জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারি সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতী মুহিব্বুল্লাহিল বাকি নদভী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, বগুড়া জামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল হক আজাদ, প্রখ্যাত গবেষক ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ, সন্ধিপের পীর সাহেবের জামাতা মুফতী ওমর ফারুক সন্ধিপী, বেফাকুল মাদারিসে দ্বীনিয়ার মহাসচিব মুফতী মোহাম্মদ আলী, গবেষক-রাজনীতিক অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জিরি মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ খোবায়েব, সাবেক এমপি প্রফেসর ডা. আক্কাস আলী সরকার, বরিশাল মাহমুদিয়া মাদরাসার মুহতামিম মুফতী ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, ফরায়েজী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহমান ফরায়েজী, বাংলদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি মুফতী আব্দুর রহীম সাঈদ প্রমূখ।।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২৭ অক্টোবর ২০২১, বুধবার, ৮:১৫

যখনই হিন্দু অথবা বৌদ্ধদের ধর্মীয় স্থাপনায় কোনো দুর্বৃত্ত হামলা করে তখনই কেউ কেউ উদ্দেশ্য মূলক ভাবে ইসলামী সংগঠনকে আকারে ঈঙ্গিতে আবার কেউ কেউ সরাসরিও দোষারোপ করেন। ইসলামী সংগঠনকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বলে গালিও দিতে দেখা যায় কাউকে কাউকে। যাদের সংগঠন চলে ইসলাম ধর্মের নিয়মনীতি অনুযায়ী তারা কুরআনের আদর্শ ধারণ করেন বিধায় ভিন্ন ধর্মের লোকদের ক্ষতি সাধন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। ইসলামের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 'আর (হে ঈমানদারগণ!) এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকে তোমরা তাদেরকে গালি দিয়ো না। কেননা, এরা শিরক থেকে আরো খানিকটা অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত যেন আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে। আমি তো এভাবে প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের কার্যক্রমকে সুশোভন করে দিয়েছি। তারপর তাদের ফিরে আসতে হবে তাদের রবের দিকে। তখন তিনি তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে তাদেরকে জানিয়ে দেবেন।' সূরা আল-আনয়াম, আয়াতঃ১০৮। সুতরাং, উদ্দেশ্য মূলক ভাবে ইসলামি সংগঠন গুলোকে আক্রমন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আরেকটি কথা হলো- ইসলাম সাম্প্রদায়িক নয়। মুসলিম অথবা বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের গণ্ডির মধ্যে ইসলামের শিক্ষা সীমাবদ্ধ করা হয়নি। সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্রয় ইসলামে নেই। ইসলাম বিশ্বজনীন, সর্বজনীন ও যুগান্তকারী একটি মতবাদ। আইয়ামে জাহেলিয়াত বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধকার যুগের উপর বিজয়ী হয়ে ইসলাম পৃথিবীতে নবযুগের সৃষ্টি করেছে। আইয়ামে জাহেলিয়াতের অর্থ হচ্ছে অজ্ঞ, মূর্খ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, বর্বর ও অন্ধকার যুগ। ৮ম হিজরীর ১৭ই রামাযান, ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ই জানুয়ারী সোমবার মক্কা নগরীতে ইসলাম বিজয়ের পূর্ববর্তী এক শতাব্দিকে ড. নিকলসন আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ বলে গণ্য করেছেন। অধ্যাপক পি.কে হিট্টির মতে, সাধারণভাবে আইয়ামে জাহেলিয়াত বলতে বুঝায় বর্বরতার বা অজ্ঞতার যুগ (Age of Ignorance)। সে সময় আরব সমাজ বিভিন্ন গোত্র বা সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিলো। গোত্রে গোত্রে ছিলো দম্ভ, অহংকার, শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়াইয়ের লড়াই। তাদের মধ্যে ঐক্য, সদ্ভাব, সম্প্রীতির লেশমাত্র ছিলোনা। আন্তঃগোত্রীয় কলহ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিলো। সর্বত্র বিরাজমান ছিলো 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতি এবং এটাই ছিলো তাদের রাজনৈতিক দর্শন। ঐতিহাসিক গীবনের মতে, অন্ধকার যুগে আরবে এক হাজার সাত শত যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো শুধু মাত্র গোত্রীয় দ্বন্দ্বের কারণে। মক্কা বিজয়ের পরে রহমাতুল্লিল আলামীন সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোত্র ভিত্তিক সাম্প্রদায়িক প্রথার মূলে কুঠারাঘাত করেন এবং শতধা বিভক্ত একটি জাতিকে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক, আঞ্চলিক সীমারেখা ও দেশ, কাল, বর্ণ, ভাষা, গোত্রের গণ্ডি পেরিয়ে সার্বজনীন মর্যাদাবান জাতিতে পরিণত করেন। কুরআন মজিদে ইরশাদ হচ্ছে, 'হে মানবজাতি, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে দিয়েছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। তোমাদের মধ্যে যে অধিক পরহেজগার সে-ই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদার অধিকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ‌ মহাজ্ঞানী ও সবকিছু সম্পর্কে অবহিত।' সূরা আল হুজুরাত, আয়াতঃ১৩। এই ছোট্ট একটি আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেন বংশ, বর্ণ, ভাষা, দেশ এবং জাতীয়তার গোঁড়ামী ও সংকীর্ণতা মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি নয় ; বরং আল্লাহকে ভয় করে চলার নীতিতে যে যতো বেশি অগ্রসর সে-ই সবচেয়ে বেশি মর্যাদার হকদার। আর যেহেতু সকল মানুষের বংশধারা একই পিতা-মাতা থেকে উৎসারিত, সকল মানুষের সৃষ্টির মৌলিক উপাদান একই, আর একই স্রষ্টার সৃষ্টি সকল মানুষ এবং কোনো ব্যক্তির কোন বিশেষ দেশ, জাতি বা গোষ্ঠীতে জন্মলাভ করা একটি কাকতালীয় ব্যাপার মাত্র। এতে তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার, পছন্দ-অপছন্দের বা চেষ্টা-সাধনার কোন দখল নেই, তাই মানুষে মানুষে উচ্চ নিচের পার্থক্য, ভেদাভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টি করা অন্যায়, অনৈতিক, অযৌক্তিক ও অমানবিক। মক্কা বিজয়ের পরে রাসূলুল্লাহ স. তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, 'সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি তোমাদের থেকে জাহেলিয়াতের দোষ-ত্রুটি ও অহংকার দূর করে দিয়েছেন। হে লোকেরা! সমস্ত মানুষ দু’ভাগে বিভক্ত। একঃ নেককার ও পরহেজগার- যারা আল্লাহর দৃষ্টিতে মর্যাদার অধিকারী। দুইঃ পাপী ও দূরাচার যারা আল্লাহর দৃষ্টিতে নিকৃষ্ট। অন্যথায়, সমস্ত মানুষই আদমের সন্তান। আর আদম মাটির সৃষ্টি।' (বায়হাকী--ফী শুআবিল ঈমান, তিরমিযী)। বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, 'হে লোকজন! সাবধান! তোমাদের আল্লাহ একজন। কোন অনারবের ওপর কোন আরবের ও কোন আরবের ওপর কোন অনারবের, কোন কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের ও কোন শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই আল্লাহভীতি ছাড়া। তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহভীরু সেই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান। বলো, আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছি?' সবাই বললোঃ 'হে আল্লাহর রসূল, 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন, 'তাহলে যারা এখানে উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিত লোকদের কাছে এ বাণী পৌঁছিয়ে দেয়।' (বায়হাকী)। উপরের আলোচনা থেকে একথা প্রমাণিত হয়েছে, ইসলাম নির্দিষ্ট কোনো বংশ, গোত্র ও সম্প্রদায় এবং ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয় বরং ইসলাম একই উপাদানের ও একই স্রস্টার সৃষ্টি সব মানুষকে ঈমানের বন্ধনে জড়িয়ে বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। যেখানে বর্ণ, বংশ, গোত্র, ভাষা, দেশ ও জাতীয়তার কোন ভেদাভেদ নেই, যেখানে উচ্চ-নীচ, ছুত-ছাত এবং বিভেদ ও পক্ষপাতিত্বের কোন স্থান নেই। রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, 'যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।' সুনানে আবু দাউদঃ৫১২৩। এবার দেখা যাক, মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন মজিদ বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের জন্য, নাকি সমগ্র বিশ্ববাসির জন্য। এ প্রসঙ্গে কুরআন মজিদ থেকেই কয়েকটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হচ্ছে। 'সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি জগতসমূহের রব।' সূরা আল ফাতিহা, আয়াত-২। বলা হয়েছে আল্লাহ তায়ালা জগতসমূহের রব। 'রব' শব্দটিকে আরবি ভাষায় তিনটি অর্থে ব্যবহার করা হয়। (১) মালিক ও প্রভু (২) অভিভাবক, প্রতিপালনকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী ও সংরক্ষণকারী, (৩) সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারি, শাসনকর্তা, পরিচালক ও সংগঠক। আর আমরা যে পৃথিবীতে বসবাস করছি তা একটি জগত। এর বাইরেও আল্লাহ তায়ালার আরো অসংখ্য জগত রয়েছে। আরবি শব্দ 'আ'লামিন' দ্বারা বহু সংখ্যক জগত বুঝানো হয়েছে। 'রব' শব্দটির তিনটি অর্থের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা কেবলমাত্র পৃথিবীর নন, বরং সকল জগতের 'রব'। অর্থাৎ আল্লাহর বিধান কুরআন মজিদ শুধুমাত্র মুসলিম ও পৃথিবীর মানুষের জন্য নয় বরং তা নিখিল বিশ্ব জাহানের সকল কিছুর জন্য। '[হে নবী (সা)] আমি সব মানুষের জন্য এ সত্য (বিধান সহ) কিতাব নাযিল করেছি। সুতরাং যে সোজা পথ অনুসরণ করবে সে নিজের জন্যই করবে। আর যে পথভ্রষ্ট হবে তার পথভ্রষ্টতার প্রতিফলও তাকেই ভোগ করতে হবে। তার জন্য তুমি দায়ী হবে না।' সূরা আয-যুমার, আয়াত-৪১। এই আয়াতে বলা হয়েছে, কুরআন মজিদ শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য নয় বরং, পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য। 'রমযানের মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়...।' সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত-১৮৫। এই আয়াতে বলা হয়েছে কুরআন মজিদ সমগ্র মানব জাতির জন্য হিদায়াত ও পথ নির্দেশনা। 'এটি মানব জাতির জন্য একটি সুস্পষ্ট সতর্কবাণী এবং যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশ।' সূরা আলে-ইমরান, আয়াত-১৩৮। এই আয়াতে বলা হয়েছে কুরআন মজিদ সমগ্র মানব জাতির জন্য সুস্পষ্ট সতর্কবাণী। 'এখন কি এরা আল্লাহ‌র আনুগত্যের পথ (আল্লাহ্‌র দ্বীন) ত্যাগ করে অন্য কোন পথের সন্ধান করছে? অথচ আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহ‌র হুকুমের অনুগত (মুসলিম) এবং তাঁরই দিকে সবাইকে ফিরে যেতে হবে।' সূরা আলে-ইমরান, আয়াত-৮৩। এই আয়াতে বলা হয়েছে, নিখিল বিশ্ব চরাচরের সবকিছুই আল্লাহর বিধানের অনুগত। 'আলিফ লাম্‌ র। হে মুহাম্মাদ। এটি একটি কিতাব, তোমার প্রতি এটি নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর মধ্যে নিয়ে আসো তাদের রবের প্রদত্ত সুযোগ ও সামর্থ্যের ভিত্তিতে, এমন এক আল্লাহর পথে যিনি প্রবল প্রতাপান্বিত ও আপন সত্তায় আপনি প্রশংসিত।' সূরা ইবরাহীম, আয়াত-১। এই আয়াতে বলা হয়েছে সমগ্র মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসার জন্য কুরআন মজিদ রাসূলুল্লাহর স. প্রতি নাজিল করা হয়েছে। 'আমি এ কুরআনকে উপদেশ লাভের সহজ উৎস বানিয়ে দিয়েছি। এমতাবস্থায় উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?' সূরা আল-ক্বামার, আয়াত-১৭। এই আয়াতে কারিমায় বলা হয়েছে কুরআন মজিদকে উপদেশ লাভের সহজ উৎস করে দেয়া হয়েছে। মানব জাতির যে কেউ ইচ্ছে করলে কুরআন মজিদ থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। পরিশেষে বলতে হচ্ছে, যে কোনো ধর্মের অনুসারী কোনো ধার্মিক মানুষ অন্য ধর্মের অবমাননা করতে পারেনা। তাই কুরআন মজিদের অবমাননা হিন্দু ধর্মের কেউ করেনি, করেছে দুর্বৃত্তরা। আর কোনো ধার্মিক মুসলমান হিন্দুদের মন্দিরে হামলা করেনি, করেছে দুর্বৃত্তরা। সুতরাং, ধর্মীয় সংগঠন ও ধার্মিক মানুষদের দোষারোপ ন্যায়ানুগ নয়।

তাজুল
২৭ অক্টোবর ২০২১, বুধবার, ৮:০১

ঠিক কথা

অন্যান্য খবর