× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার , ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

ডাক আদান-প্রদানে কবুতর

ইতিহাস থেকে

শামীমুল হক
২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার

ডাক আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কবুতরের ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। মুসলমান শাসিত অঞ্চলে এ ব্যবস্থা অধিক জনপ্রিয় ছিল। ১১৬৭ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদের সুলতান কবুতরের সাহায্যে সিরিয়া ও মিশরে সংবাদ প্রেরণের ব্যবস্থা করেছিলেন। একজন মিশরীয় সুলতান এজন্য ২০০০ কবুতরের এক বিশাল বাহিনী গঠন করেছিলেন। জেরুজালেম নিয়ে ধর্মযুদ্ধ চলার সময় শিকারি পাখির আঘাতে আহত হয়ে একটি কবুতর অবরোধকারীদের মাঝে এসে পড়ে। কবুতরের পাখার নিচে একখ- কাগজ পাওয়া যায়, যার মধ্যে যুদ্ধ পরিকল্পনার কথা লেখা ছিল। প্রাচীন গ্রিক কবি এনাক্রিয়েনের লেখায় কবুতরের মাধ্যমে প্রেমপত্র প্রেরণের কথা জানা যায়। এশিয়ার চীন ও মঙ্গোলিয়াতে উন্নত ডাকব্যবস্থার লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়।
মঙ্গোলিয়ার শাসক কুবলাই খান ডাকস্টেশন শুধুমাত্র সরকারি ডাক চলাচলের জন্যই ব্যবহার করেননি। এ পোস্টাল রুট দিয়ে যে সকল সরকারি, সামরিক কর্মকর্তা, বিদেশি প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করতেন তাদের নিরাপত্তার জন্য ডাকচৌকি ব্যবহার করতেন। কুবলাই খানের শাসন আমলের শেষ দিকে এ রকম ১৪০০ ডাকচৌকি স্থাপিত হয়। এ সকল  ডাকচৌকিতে ৫০ হাজার ঘোড়া, ১৪০০ ষাঁড়, ৪শ’ ঘোড়ার গাড়ি, ৬৭০ গাধা, নৌকা, ২০০ কুকুর এবং দেড় হাজার ভেড়া কাজ করতো। প্রতিটি ডাকচৌকি ১৪ থেকে ৪০ মাইল দূরত্বে স্থাপন করা হতো। ভারতবর্ষে শেরশাহের আমলে সর্বপ্রথম ঘোড়ার ডাকের প্রচলন শুরু হয়। কথিত আছে, সে সময় শেরশাহ্ ভারতবর্ষের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্র্যাংক রোড তৈরি করে এ ঘোড়ার মাধ্যমে ডাক আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করেন। এরপর থেকে রানারদের আর দৌড়ে ডাক বহন করতে হতো না। ঘোড়ায় চড়ে তারা নির্দিষ্ট স্টেশন পর্যন্ত যেতেন। সেখানে ছিল ঘর। যেখানে ঘোড়া রাখা হতো। রানার থাকতো। আবার  এ স্টেশন থেকে অপর ঘোড়া ও রানার ডাক নিয়ে চলে যেতো। আবার ফিরতি ডাক নিয়ে এলে এখানে অবস্থানরত রানার তা নিয়ে ফিরে আসতো। রোমে অগাস্টাসের আমলে ডাক ব্যবস্থার প্রচলন হয়। পরে দ্রুতগামী ঘোড়ার সাহায্যে এ ডাক পরিবহন করা হতো। সে সময়ে ধীরগতির আরেকটি ডাক সার্ভিস চালু ছিল। যা দুই চাকার গাড়িতে ষাঁড় বহন করে নিয়ে যায়। দ্রুতগামী ডাকে সরকারি আর ধীরগতির ডাকে জনসাধারণের মেইল পরিবহন করা হতো। এ সময় রানার ও ঘোড়ার ডাক বহন হতো। রানাররা দৈনিক ৪৪ ঘণ্টা আর ঘোড়া দৈনিক ১২৫ মাইল পথ অতিক্রম করে বিভিন্ন রিলে স্টেশনে ডাক পৌঁছে দিতো।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর