× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার , ৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ১৪ বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

মত-মতান্তর

মোহাম্মদ শিশির মনির
১ নভেম্বর ২০২১, সোমবার
সর্বশেষ আপডেট: ৯:১৮ পূর্বাহ্ন

প্রাচীনকালে রাজ দরবারে উন্মুক্ত বিচারকার্য পরিচালনা করা হতো। রাজা নিজেই থাকতেন প্রধান বিচারক। সমাজ বিবর্তনের সঙ্গে বিচারকার্যের ভার বিচারকের ওপর অর্পিত হয়। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইন প্রণয়নের দায়িত্ব ও ক্ষমতা আইনসভার। আইনসভা আইন প্রণয়ন করলেও আইনের ব্যাখ্যা এবং বিচারিক পুনর্বিবেচনার (Judicial Review) দায়িত্ব আদালতের ওপর ন্যস্ত। প্রণীত আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে আদালত বাতিল ঘোষণা করতে পারে। ১৬১০ সালে বৃটেনে উৎ. ইড়হযধস্থং মামলায় সর্বপ্রথম বিচারিক পুনর্বিবেচনার ধারণার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এই ধারণার সবিস্তার আলোচনা হয় আমেরিকান সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ‘Murbury vs Madison’ মামলার রায়ে।
১৮০৩ সালে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে থমাস জেফারসন এবং জন এডামস এর মধ্যকার বিরোধ থেকেই এই মামলার সূচনা। যা পরবর্তীতে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। এই মামলার রায়ের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনর্বিবেচনা ভিত্তি লাভ করে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণের সাংবিধানিক নীতি প্রতিষ্ঠা পায়। মামলাটি বিচারিক পুনর্বিবেচনার মামলা হিসেবে বহুল পরিচিত।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভারসাম্য (Check &‌ Balance) রক্ষার জন্য ক্ষমতার পৃথকীকরণের (Separation of Power) ধারণা বিস্তার লাভ করে। এই ধারণার মূলকথা রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ (আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) পৃথকভাবে কাজ করবে এবং একে অন্যের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ (ঊহপৎড়ধপয) করবে না। ধারণা করা হয় ফরাসি দার্শনিক মনট্যাঁসকিউ (১৬৮৯-১৭৫৫) এর ÔTriaspoliticaÕ বা Separation of Power তত্ত্ব থেকেই এর বিকাশ। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের সংবিধান প্রণয়নে এই তত্ত্বের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। ১৭০১ সালে ইংল্যান্ডে দি অ্যাক্ট অব সেটেলমেন্টের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সীমিত করে বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং সংসদ পৃথক করার মাধ্যমে এই তত্ত্বের ব্যবহার শুরু হয়। আমেরিকা এই মডেল অনুকরণ করে সংবিধানের Article III-এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ বা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে। ধাপে ধাপে কমন ল’ দেশগুলো স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই মডেল অনুসরণ শুরু করে। বিচারিক পুনর্বিবেচনার ধারণার সঙ্গে বিচার বিভাগ বা বিচারকদের স্বাধীনতার বিষয়টি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। পর্যাপ্ত স্বাধীনতা না থাকলে বিচারিক পুনর্বিবেচনা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বিচার বিভাগ পৃথক এবং স্বাধীন থাকা আবশ্যক।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত গণপরিষদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের বিশদ আলোচনা হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘পকিস্তান আমলে বিচার বিভাগকে প্রশাসন বিভাগ থেকে আলাদা করে নেই- এই ভয়ে যে প্রশাসন বিভাগ দুর্বল হয়ে পড়বে, সরকার দেশ শাসন করতে পারবে না। কিন্তু আমাদের এই সংবিধানে বিচার বিভাগকে প্রশাসন বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা করা হয়েছে।’ ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হয়। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর অর্পণ করা হয়। একই বছরের ১৮ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সংবিধানে আদালতকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে এবং কেউ তাতে হস্তক্ষেপ করবে না।’ স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মলগ্নে এসব নিশ্চয়তা নিঃসন্দেহে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য শুভ সূচনা ছিল।
পরবর্তীতে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট বিখ্যাত কয়েকটি মামলার রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার স্বরূপ ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছে। ১৯৮৯ সালে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী মামলার [৪১ ডিএলআর (এডি) ১৬৫] রায়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রথম বারের মতো বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো (Basic Structure) হিসেবে ঘোষণা করে। এই মৌলিক কাঠামো কোনো সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবর্তন করা যাবে না মর্মেও অভিমত প্রকাশ করে। আদালতের ভাষায়- Separation of Powers, Independence of the Judiciary, Fundamental Rights are basic structures of the Constitution.
১৯৯৯ সালে মাসদার হোসেন মামলার রায়ে [৫২ ডিএলআর (এডি) ৮২] সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রকৃতি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের একটি অন্যতম মূলভিত্তি এবং কোনোভাবেই তা ব্যাহত করা যাবে না। রায়ে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ নিশ্চিত করতে ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এসব নির্দেশনার মধ্যে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ ও বরখাস্ত সংক্রান্তে বিধিবিধান প্রণয়ন, ম্যাজিস্ট্রেটদের পোস্টিং, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, শৃঙ্খলা (স্থগিতকরণ এবং অপসারণ ব্যতীত), ভাতা, পেনশন সংক্রান্তে আলাদাভাবে আইন বা বিধি প্রণয়ন, পৃথক জুডিশিয়াল পে-কমিশন প্রতিষ্ঠা অন্যতম। নির্দেশনাবলি ছাড়াও রায়ে কানাডিয়ান সুপ্রিম কোটের্র বিখ্যাত Walter Valente Vs. Her Majesty the Queen, (১৯৮৫) ২ R.C.S. ৬৭৩ মামলায় উল্লেখিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ৩টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের কথা বলেন; যথা- ১) চাকরির নিশ্চয়তা (Security of Tenure), ২) বেতনের নিশ্চয়তা (Security of Salary) ও ৩) আইন ও নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্তি (Independence of the judiciary from the Parliament and the Executive)। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আপিল বিভাগ আরও দুটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। যথা- (১) Judicial appointment, (২) Administrative and financial independence।
বিখ্যাত ১০ বিচারক মামলার [১৭ বিএলটি (এডি) ২৩১] রায়ে ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলেন- ‘Independence of judiciary…is a basic pillar of the Constitution and cannot be demolished or curtailed or diminished in aû manner except by and under the provision of the Constitution. রায়ে বিচারক নিয়োগকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অন্যতম অনুষঙ্গ বলে আদালত মত প্রদান করেন। ওই আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতার পৃথক্‌করণ মতবাদের বাস্তব প্রয়োগ হয় এবং এই আলোচনা কোনোভাবেই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) ক্ষুণ্ন করে না।
২০১০ সালে পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ে [৬২ ডিএলআর (এডি) ২৯৮] সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে বলেন- ‘Fifth Amendment …, also violated two other more basic features of the Constitution, namely, independence of judiciary and its power of judicial reviwe’
২০১৪ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ করার ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে সংসদের কাছে ন্যস্ত করা হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে এই সংশোধনী সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করে সুপ্রিম কোর্ট তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে [৭১ ডিএলআর (এডি) ১৬৫]। ষোড়শ সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করার অন্যতম কারণ ছিল- ওই সংশোধনী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে। বিচারকদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অন্য দুটি বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করার আবশ্যকতা সম্পর্কে আদালত মন্তব্য করেন- ‘So independence of judiciary cannot be obtained unless the judiciary is completely separated from other two organs, otherwise the Judges, appointed under the constitution, will not mentally feel that they are free in discharging their constitutional duties.’
সংবিধান প্রণয়নের পূর্বে গণপরিষদের আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকারসমূহ তা প্রতিপালনে আশানুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ১৯৭২ সালের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬ (২) অনুযায়ী উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবেই থেকে যায়। অপরদিকে অধস্তন আদালতে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হয়। সংবিধান কার্যকর করার চার বছর পর আলোচিত চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ থেকে এককভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট ন্যস্ত হয়। একইভাবে অধস্তন আদালতের বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তি ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাষ্ট্রপতির নিকট ন্যস্ত হয়। উচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট ন্যস্ত হওয়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত করে। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের নিকট অর্পণ করা হয়। সর্বশেষ ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের নিকট পুনঃহস্তান্তর করা হয়। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট ষোড়শ সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। আদালত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সংবিধান প্রণয়নের ৪৭ বছর পর ২০১৭ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালা ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা’ প্রণীত হয়। বিধিতে উল্লিখিত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বলতে আইন মন্ত্রণালয়কে বোঝানো হয়েছে। যার ফলে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের হাতেই রয়ে যায়। অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকা নিঃসন্দেহে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে অন্তরায়। আলোচিত ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি স্বাক্ষর সংক্রান্তে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ও সরকারের টানাপড়েন তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেন।
সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক্‌করণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ ৩৭ বছরেও কোনো সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। মাসদার হোসেন মামলার রায় ঘোষণার দীর্ঘ ৮ বছর পর ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর তৎকালীন সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের আদেশ জারি করে।
সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যথা নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠন, পৃথক পে-স্কেল নির্ধারণ, শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়ন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয়। রায়ের কিছু নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় অধস্তন আদালতের স্বাধীনতা ব্যাহত হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অর্থবহ করতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্তে আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও বিগত ৫০ বছরে তা করা হয়নি। বিচারপতি নিয়োগে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক প্রদত্ত সুপারিশ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মনোনীত ব্যক্তিদের তালিকা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা উচিত। প্রতিবেশী দেশ ভারতে কলেজিয়ামের সুপারিশের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে বিচারপতিদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। রাগিব রউফ বনাম বাংলাদেশ মামলায় [৬৯ ডিএলআর ৩১৭] উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৭টি বিষয় বিবেচনা করার তাগিদ দেন। আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার স্বার্থে বাজেটে বরাদ্দ বহুলাংশে বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ সংশোধন করতে হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্থলে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিস্থাপন করতে হবে।
ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে রাষ্ট্রকেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো হুমকির সম্মুখীন হবে।


[লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হেড অব চেম্বারস, ল’ ল্যাব।
সহযোগিতায়: যায়েদ বিন আমজাদ, রিসার্চ এসোসিয়েট, ল’ ল্যাব]
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর