× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২১, সোমবার , ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

সেই পেগাসাস প্রস্তুতকারক কোম্পানির বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(৫ দিন আগে) নভেম্বর ২৪, ২০২১, বুধবার, ১:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

ভোক্তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে প্রযুক্তি বিষয়ক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। তাদের ব্যবহারকারীদের টার্গেট করার কারণে সেই পেগাসাস নজরদারিকারী বিষয়ক প্রযুক্তির প্রস্তুতকারক ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মামলা ঠুকে দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে অ্যাপলের যেকোনো রকম সফটওয়্যার, সার্ভিস এবং ডিভাইস যাতে এনএসও গ্রুপ ব্যবহার না করে সেজন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে ওই মামলায়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের আইফোন ব্যবহারকারী আছেন কমপক্ষে ১০০ কোটি।

তাদেরকে টার্গেট করা থেকে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনএসও গ্রুপের পেগাসাস নামের সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংশ্লিষ্টরা ভিন্ন মতাবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে গোপন গোয়েন্দাগিরি চালায়। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তুমুল হট্টগোল দেখা দেয়। এমন স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বাঘা বাঘা রাষ্ট্রনায়ক এবং অন্যদের নাম।
বলা হয়, এনএসও গ্রুপের তৈরি করা পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে দেশে দেশে লাখ লাখ অধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং রাজনীতিককে টার্গেট করেছে সংশ্লিষ্টরা।

তবে এনএসও গ্রুপ দাবি করে, যদি এমনটা কোনো দেশ করে থাকে, তা তাদের অজ্ঞাতে বা জানার বাইরে। এই বিতর্কে যখন চারদিকে গুমোট ক্ষোভ, তখন প্রচ- এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এনএসও গ্রুপ। এরই মধ্যে এই কোম্পানিটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার সঙ্গে নতুন করে যোগ হলো সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের মামলা। যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের কারণে এখন আর এনএসও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপগুলোর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি করতে পারবে না।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল কোর্টে অ্যাপল তার মামলা করেছে। এরপর তারা বিবৃতি দিয়েছে। বলেছে, অ্যাপল ব্যবহারকারীদের আরো আক্রমণ এবং ক্ষতি বন্ধ করতে অ্যাপলের যেকোনো সফটওয়্যার, সার্ভিস অথবা ডিভাইস ব্যবহারে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশা করে তারা। মামলায় আরো বলা হয়, বিবাদীপক্ষ কুখ্যাত হ্যাকার। তারা একবিংশ শতাব্দীর ভাড়াটে দুর্বৃত্ত। তারা তৈরি করেছে অত্যাধুনিক সাইবার সার্ভিলেন্স মেশিনারিজ।

এটা দিয়ে নিয়মিতভাবে এবং দারুণভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করা যায়। অন্যদিকে কোনো অন্যায় করার কথা অব্যাহতভাবে দাবি করে আসছে এনএসও গ্রপ। তারা দাবি করছে, এই সফটওয়্যার আবিষ্কার করা হয়েছে শুধু সন্ত্রাস এবং অন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের ব্যবহারের জন্য। তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছে, শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নকারী এবং সন্ত্রাসীরা প্রযুক্তিকে নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে অবাধে ব্যবহার করতে পারে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমরা সরকারগুলোকে আইনসম্মত হাতিয়ার হিসেবে এই সফটওয়্যার দিয়ে থাকি। এনএসও গ্রুপ অব্যাহতভাবে সত্যের পক্ষে থাকবে।

পেগাসাস সফটওয়্যার দিয়ে সহজেই স্মার্টফোনকে আক্রান্ত করে গোয়েন্দাবৃত্তির একটি পকেট ডিভাইসে পরিণত করা যায়। এই স্পাইওয়্যার ব্যবহারকারী এর মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর যেকোনো টার্গেটেড ম্যাসেজ পড়তে পারেন, দেখতে পারেন তার ছবি, তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেন। এমনকি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতে তার মোবাইলের ক্যামেরাও ব্যবহার করতে পারেন এই স্পাইওয়্যারের ব্যবহারকারী। তাই অ্যাপল বলেছে, সারাবিশ্বে তাদের ১৬৫ কোটি সক্রিয় ডিভাইস আছে। এর মধ্যে একশত কোটির বেশি আছে আইফোন।

এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রযুুক্তি জায়ান্ট হিসেবে অ্যাপলই প্রথম মামলা করেছে এমন নয়। ২০১৯ সালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপ্লব সৃষ্টিকারী ফেসবুক। এতে ফেসবুক অভিযোগ করেছে যে, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও অন্যদের বিরুদ্ধে সাইবার গোয়েন্দাগিরি করার জন্য এই গ্রুপটি হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করছে। এই মামলা করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে। তাতে বলা হয়েছে, প্রায় ১৪০০ ডিভাইসে এই ম্যালিসিয়াস সফটওয়ার ব্যবহার করে টার্গেট করা হয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে তা ব্যবহার করে মূল্যবান তথ্য চুরি করা হয়েছে।

ব্রিচকোয়েস্ট সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের জ্যাক উইলিয়াম বলেছেন, এসব খবর এনএসও’র জন্য মোটেও ভাল নয়। এই কোম্পানিটি বর্তমানে কমপক্ষে ৫০ কোটি ডলারের বেশি ঋণে আছে বলে রিপোর্ট হয়েছে। সম্প্রতি তাদের প্রধান নির্বাহী পদে অদলবদল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ দেয়ার পর ফ্রান্সও তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনা বন্ধ করে দিচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর