× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২১, রবিবার , ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল কিনা, প্রশ্ন ফখরুলের

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(২ দিন আগে) নভেম্বর ২৫, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ২:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকা অবস্থায় তার শরীরে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল কিনা- সরকারের কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব প্রশ্ন রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য এক এগারোতে যেমন ষড়যন্ত্র হয়েছিল, চক্রান্ত হয়েছিল, সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে তাকে একটি মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের একটা পরিত্যক্ত ভবনে, স্যাঁতস্যাঁতে একটি ঘরের মধ্যে তাকে প্রায় দুই বছর আটক করে রাখা হয়েছিলো। এর পরে তাকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।

সেখানেও তাকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শরীরে যে রোগের সূত্রপাত হয়েছিল, আজকে অনেকের মধ্যে একটা প্রশ্ন এসেছে, সেদিন কি বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিংয়ের কোন ব্যবস্থা করা হয়েছিল? আমরা এটা পরিষ্কার করে জানতে চাই। কারণ এদের (সরকার) পক্ষে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

সম্প্রতি কুমিল্লায় কাউন্সিলরসহ দু’জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশের জন্য অশনি সংকেত মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এই সরকার দেশকে একটা নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


তারা এখন নিজেরা নিজেদের উপর হামলা চালাচ্ছে। কুমিল্লায় কমিশনারকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। এটা একটি অশনি সংকেত। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা এমন এক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। যাদের কাজ হচ্ছে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা, মানুষকে হত্যা করা এবং আমাদের সমস্ত স্বপ্নগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করা। এর জন্য আমাদের এই যুদ্ধে সাবধান এবং কৌশলীভাবে যেতে হবে।

আপনাদের সঙ্গে আমি একমত, আমরা চাই আজকেই এই সরকারকে ঘাড় ধরে ফেলে দেই। সবাই চাই, এদেশের প্রত্যেকটা মানুষ চায়। শুধু, আমি, আপনি, বিএনপি না দেশের প্রতিটা মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। যদি আমরা ভুল করি তাহলে আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব। সুতরাং আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। ডাক্তাররা বলছেন, আমাদের জ্ঞান প্রায় শেষ। আমরা এখানে এর বেশি কিছু করতে পারবনা।

চিকিৎসকরা বলছেন, অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো দরকার। শেখ হাসিনা তা শুনতে চায় না। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা বলছে মানবিক কারণে তাকে বিদেশে যেতে দেয়া উচিত। আর সারা দেশের সাধারণ মানুষ থেকে সব পেশার মানুষ তো বলছেই। কিন্তু শেখ হাসিনা এটা শুনতে চান না। কারণ তার মধ্যে প্রতিহিংসা। বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি নয়, জীবন থেকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য চক্রান্ত করছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান প্রমূখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
জামশেদ পাটোয়ারী
২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৯:২১

দেশের সাধারণ মানুষও তা-ই মনে করে। জেলে থাকা অবস্থায় তাকে স্লো পয়জন দেয়া হয়ে থাকতে পারে। সরকার যখন নিশ্চিত হবে যে খালেদা জিয়া এই অবস্থা থেকে আর বেঁচে আসতে পারবেনা তখন সরকার তাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দিবে। সাপও মরবে লাঠিও ভাংবেনা। বিদেশে গিয়ে ভালো হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকলে বিদেশে যেতে দেয়া হবেনা।

N. Huda
২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৫:৩৫

মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য, সকল প্রাণীকে একদিন আগে-পরে মরণের স্বাদ নিতেই হবে, কেউ কি বলতে পারবে আমি অনন্ত কাল বেছে থাকবো। কয়েক হাজার বছর আগে মানুষ ৩/৪ শত বা ১/২ হাজার বেঁচে ছিল. এখন মানুষের হায়াৎ বেশির বেশি ১০০+ তার পর সব অতীত, দেশে অনেক মন্ত্রী ও নেত্রী মনে করে, ওনারা জানেন কত বছর পর মরবেন, বা মরবেন না উন্নত কাল. আল্লাহ বলেছেন ভালো মন্দের বিচার হবেই-মালেক ইয়া মে-দীন, দুনিয়াতে জীবিত মানুষের বিচার হয়, কোনো মৃত মানুষের না. খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে তাকে সাজা দিতে পারবেন, যদি আপনার ক্ষমতা থাকে, মানুষ হিসাবে "খালেদা জিয়াকে" বেঁচে থাকার মানবিকতা আপনারা দেখাতে পারেন। সব কিছুতে রাজনীতি কি ঠিক? মনে রাখবেন দুনিয়াতে সব ফেরাউন খুব ক্ষমতাবান ছিল, কিন্তু কোনো ফেরাউন বেঁচে নেই, শুটকি হয়ে কেউ কেউ নির্দর্শন হিসাবে দুনিতে আছে, আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন।

Abdur Razzak
২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৫:০৩

সরকারকে প্রতিহিংসার রাজীতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষার্থে বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে।

আবুল কাসেম
২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৩:১১

একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টি আকর্ষণ করা করা যেতে পারে। আপনাদের আছে লাখ লাখ নেতা কর্মী। অতএব, আছে লাখ লাখ নারী ও শিশু। লাখ লাখ নারী তাদের শিশুদের নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে মানবিক আবেদন করতে পারেন। মা বোনেরা শিশুদের হাত ধরে ধীরলয়ে হেঁটে চলবেন শিশুদের হাতে সক্ষমতা অনুযায়ী থাকবে প্লেকার্ড। অল্প সময়ের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে। এটা একটা মানবিক কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।

আবুল কাসেম
২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ২:৩৫

গনতন্ত্রের কোন যোদ্ধার জন্য গল্পটি বেমানান। তবুও মানবিক মর্যাদার গুরুত্ব বুঝাতে তা বলতে হচ্ছে। যতদূর মনে পড়ে, নবম দশম শ্রেণির বাংলা ব্যায়াকরণ বইয়ের প্রবন্ধ/রচনার অংশে পড়েছিলাম গদ্য রচনা 'একটি চোরের আত্মকাহিনী।' পিতা তার ছোট্ট মেয়ে শিশুকে নিয়ে বাজারে গেলেন। এক পর্যায়ে দেখতে পেলেন একজন মানুষকে অনেকে মিলে গণপিটুনি দিচ্ছে। হৈচৈ শুনে মেয়ে শিশুটি দেখতে চাইলে বাবা ভিড় ঠেলে লোকটার কাছে গেলেন। মেয়ের জিজ্ঞাসা, 'বাবা-বাবা ওরা লোকটাকে মারছে কেন?' বাবার উত্তর, 'ও চোর।' মেয়ের তাৎক্ষণিক উত্তর, না বাবা, ওতো মানুষ!' কথাটা শুনে পকেটমারের চোখ অশ্রুসজল হলো। তার দুঃখ মানুষরূপীরা বুঝতে পারেনি, বুঝেছে একটি অবুঝ শিশু। রচনাটি পড়তে পড়তে মনের অজান্তে নিজের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছিলো, মন বেদনা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলো। কি যে এক মধুর অনুভূতি মন আলোড়িত করলো সে স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। কিশোর মন এমনই। অনেকটা শিশুর মতোই। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এমনই হয়। মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব। মনে পড়ে আরো পড়েছি, 'একটি নদীর আত্মকথা।' এবং 'একটি বটগাছের আত্মকথা।' নদীকে যেমন বলা হয় সভ্যতার ধাত্রী, তেমনি গনতন্ত্রকেও সভ্যতার ধাত্রী বলতে হবে। কারণ গনতন্ত্রই সভ্যতার উন্মেষ ঘটিয়েছে। মানুষ যখন বলার, লেখার, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তখন গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাই মানুষের সব অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। নদী নিজের বুকে ধারণ করে মানুষকে বানিজ্যের সুবিধা দেয়। পানি ধারণ করে মানুষের জমি সিক্ত করে, ফসল ফলতে দেয়। মানুষের পরম উপকারী সেই বন্ধু নদী দূষিত করে মানুষেরাই। মানুষের কলকারখানার বর্জ্য নদীর পানি প্রতিনিয়ত বিষাক্ত করে দিচ্ছে। তেমনি যে গনতন্ত্র মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছে সেই গনতন্ত্র মানুষেই বিপন্ন করে দিচ্ছে। যেমন একটি বটগাছের আত্মকথা। ভরদুপুরে তপ্ত দাহ থেকে বটগাছ তার মোটা মোটা ভারি পত্রপল্লবের নিচে একজন পথিককে শীতল ছায়ায় আশ্রয় দেয়। পথিকের ক্লান্তি মুছে দেয়। ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বটগাছ রক্ষা করে মানুষের বাড়িঘর। সেই বটগাছ কেটে নিয়ে মানুষ জ্বালানি করে, বটগাছের জায়গায় ইমারত তৈরি করে। মানুষের চরিত্রই এমন অবিশ্বাস্য! নিষ্ঠুরতাও সামিল আছে। তবে কি মানুষ বিশ্বাসঘাতক? সমাজবিজ্ঞানীদের বিষয়। তাই বেশি কিছু বলতে পারিনা। গনতন্ত্র মানুষকে ছায়া দেয়, বঞ্চনার হাত থেকে বাঁচায়। গনতন্ত্রের জন্য যে জীবন সংগ্রাম করে করে জীবন সায়াহ্নে তার জন্য গনতন্ত্র সংকুচিত। ক্ষণে ক্ষণে দম আসে আর যায় কোনো মৃত্যু পথ যাত্রী মুমূর্ষু রোগীর জন্য যে চিকিৎসা উপযুক্ত সে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে যদি তিনি পরপারে চলে যায় তাহলে মানুষ হিসেবে মানুষের দায় এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। 'মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য' মানবাতাবাদী কিংবদন্তি ভূপেন হাজারিকার এই উদাত্তকণ্ঠ নিস্তব্ধ হয়ে যাবে। মরণাপন্নের বাঁচা মরার ওপর রাজনৈতিক রং ছিটিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় খুবই সহজে হয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে শুনে কোনো অবুঝ শিশু কি আড়ালে থেকে হতবাক হচ্ছে! শিশুটিকে মনের অজান্তেই বলে ওঠছে ওতো আসামির উপরেও মানুষ! কোনো মানুষের হৃদয় কি বিগলিত হচ্ছে! আগামীতে কি কেউ লিখবে মনের অজান্তে 'একজন মৃত্যু পথ যাত্রীর আত্মকথা!'

আবুল কাসেম
২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ২:২৫

গনতন্ত্রের কোন যোদ্ধার জন্য গল্পটি বেমানান। তবুও মানবিক মর্যাদার গুরুত্ব বুঝাতে তা বলতে হচ্ছে। যতদূর মনে পড়ে, নবম দশম শ্রেণির বাংলা ব্যায়াকরণ বইয়ের প্রবন্ধ/রচনার অংশে পড়েছিলাম গদ্য রচনা 'একটি চোরের আত্মকাহিনী।' পিতা তার ছোট্ট মেয়ে শিশুকে নিয়ে বাজারে গেলেন। এক পর্যায়ে দেখতে পেলেন একজন মানুষকে অনেকে মিলে গণপিটুনি দিচ্ছে। হৈচৈ শুনে মেয়ে শিশুটি দেখতে চাইলে বাবা ভিড় ঠেলে লোকটার কাছে গেলেন। মেয়ের জিজ্ঞাসা, 'বাবা-বাবা ওরা লোকটাকে মারছে কেন?' বাবার উত্তর, 'ও চোর।' মেয়ের তাৎক্ষণিক উত্তর, না বাবা, ওতো মানুষ!' কথাটা শুনে পকেটমারের চোখ অশ্রুসজল হলো। তার দুঃখ মানুষরূপীরা বুঝতে পারেনি, বুঝেছে একটি অবুঝ শিশু। রচনাটি পড়তে পড়তে মনের অজান্তে নিজের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছিলো, মন বেদনা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলো। কি যে এক মধুর অনুভূতি মন আলোড়িত করলো সে স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। কিশোর মন এমনই। অনেকটা শিশুর মতোই। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এমনই হয়। মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব। মনে পড়ে আরো পড়েছি, 'একটি নদীর আত্মকথা।' এবং 'একটি বটগাছের আত্মকথা।' নদীকে যেমন বলা হয় সভ্যতার ধাত্রী, তেমনি গনতন্ত্রকেও সভ্যতার ধাত্রী বলতে হবে। কারণ গনতন্ত্রই সভ্যতার উন্মেষ ঘটিয়েছে। মানুষ যখন বলার, লেখার, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তখন গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাই মানুষের সব অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। নদী নিজের বুকে ধারণ করে মানুষকে বানিজ্যের সুবিধা দেয়। পানি ধারণ করে মানুষের জমি সিক্ত করে, ফসল ফলতে দেয়। মানুষের পরম উপকারী সেই বন্ধু নদী দূষিত করে মানুষেরাই। মানুষের কলকারখানার বর্জ্য নদীর পানি প্রতিনিয়ত বিষাক্ত করে দিচ্ছে। তেমনি যে গনতন্ত্র মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছে সেই গনতন্ত্র মানুষেই বিপন্ন করে দিচ্ছে। যেমন একটি বটগাছের আত্মকথা। ভরদুপুরে তপ্ত দাহ থেকে বটগাছ তার মোটা মোটা ভারি পত্রপল্লবের নিচে একজন পথিককে শীতল ছায়ায় আশ্রয় দেয়। পথিকের ক্লান্তি মুছে দেয়। ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বটগাছ রক্ষা করে মানুষের বাড়িঘর। সেই বটগাছ কেটে নিয়ে মানুষ জ্বালানি করে, বটগাছের জায়গায় ইমারত তৈরি করে। মানুষের চরিত্রই এমন অবিশ্বাস্য! নিষ্ঠুরতাও সামিল আছে। তবে কি মানুষ বিশ্বাসঘাতক? সমাজবিজ্ঞানীদের বিষয়। তাই বেশি কিছু বলতে পারিনা। গনতন্ত্র মানুষকে ছায়া দেয়, বঞ্চনার হাত থেকে বাঁচায়। গনতন্ত্রের জন্য যে জীবন সংগ্রাম করে করে জীবন সায়াহ্নে তার জন্য গনতন্ত্র সংকুচিত। ক্ষণে ক্ষণে দম আসে আর যায় কোনো মৃত্যু পথ যাত্রী মুমূর্ষু রোগীর জন্য যে চিকিৎসা উপযুক্ত সে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে যদি তিনি পরপারে চলে যায় তাহলে মানুষ হিসেবে মানুষের দায় এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। 'মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য' মানবাতাবাদী কিংবদন্তি ভূপেন হাজারিকার এই উদাত্তকণ্ঠ নিস্তব্ধ হয়ে যাবে। মরণাপন্নের বাঁচা মরার ওপর রাজনৈতিক রং ছিটিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় খুবই সহজে হয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে শুনে কোনো অবুঝ শিশু কি আড়ালে থেকে হতবাক হচ্ছে! শিশুটিকে মনের অজান্তেই বলে ওঠছে ওতো আসামির উপরেও মানুষ! কোনো মানুষের হৃদয় কি বিগলিত হচ্ছে! আগামীতে কি কেউ লিখবে মনের অজান্তে 'একজন মৃত্যু পথ যাত্রীর আত্মকথা!'

sdd
২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ২:৫৬

ফখরুলের মতলবী মস্তিষ্কের আবিষ্কার।

অন্যান্য খবর