× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার , ১৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

গোলাপগঞ্জে আলোচনায় মেয়র রাবেল

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
২৮ নভেম্বর ২০২১, রবিবার

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলের বক্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তার বক্তব্যকে ঘিরে গতকাল দিনভর পৌর শহর ছিল সরব। দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়াও। এতে করে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল নিজেই। এদিকে, রাবেলের উন্নয়ন সম্পর্কিত বক্তব্যের চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া আহমদ পাপলু। বর্তমানে লন্ডন সফর করছেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল। তিনি ২০১৮ সালের উপ নির্বাচন ও ২০২০ সালের নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। এর আগে তিনি নির্বাচন করলেও পরাজিত হয়েছিলেন।
শেষবার নির্বাচনের সময় বিদ্রোহী হওয়ার কারণে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদটি তার হাতছাড়া হয়। নির্বাচনে জয়লাভ করলেও এখনো তার উপর দলীয় শাস্তির খড়গ চলছে। এই অবস্থায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে লন্ডন সফর করা মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য রাখেন। ওই সভায় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে মন্তব্য করেন। বলেন- ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে চ্যালেঞ্জের বিষয়ে রাবেল অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবকে গিয়ে বলেছিলাম আমি একজন প্রবাসী নির্বাচন করবো। কিন্তু তিনি দেননি। ‘প্রবাসে যাও’- বলে দিয়েছিলেন। আমি তখন চ্যালেঞ্জ করে ওনাকে বলেছিলাম- ‘আপনারা যে প্রার্থীই দেন; আমি পাস করবো। আপনার বাংলাদেশি প্রার্থী পাস করতে পারবে না।’ এরপর তিনি আমাকে মনোনয়ন দেননি। ‘আসলে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র এখনো টিক হয়নি।’ গোলাপগঞ্জে স্থানীয় উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে সরকারের মন্ত্রী, সচিব ও আমলাদের সমালোচনা করে রাবেল বলেন, ‘দেশে এখনো প্রচুর পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে। আমরা যারা জনপ্রতিনিধি, আমরা তো গিয়ে ফান্ডিং আনি। আমরা মন্ত্রণালয়ে যাই। সচিবালয়ে সচিবদের সঙ্গে মিটিং করি, এলজিইডি মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করি। তাদের কাছ থেকেই আমাদের ফান্ড আনতে হয়। ওখানে বিরাট একটা পার্সেন্টেজ দিয়ে আনতে হয়। আপনি ১০০ কোটি টাকার ফান্ড নিয়ে আসলেন। সেখানে ৫ পার্সেন্ট আগেই দিয়ে আসতে হয়। এটাই হচ্ছে বাস্তব দিক। একটি বরাদ্দ ৫ পার্সেন্ট টাকা দিয়ে আনতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’ তার এই বক্তব্য সম্পর্কে গতকাল বিকাল পর্যন্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগের পদবিধারী নেতারা কোনো মন্তব্য করেননি। তার বক্তব্যের সত্যতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে এখনো এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাইনি। আমরা পর্যালোচনা করছি। তবে- আমার ব্যক্তিগত কথা হচ্ছে; যদি রাবেল ৫ পার্সেন্ট দেয়ার কথা বলে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমরা তার কাছে প্রমাণ চাইবো। কোথায় তিনি দিয়েছেন সেটিও জানতে চাইবো। দুর্নীতিবাজ যারা তারাই কেবল দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ে আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্বের তুলনায় এখন গোলাপগঞ্জ শহরের উন্নয়ন হচ্ছে এটা সত্য। গত তিন বছরে গোটা শহরেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।’ এদিকে, রাবেলের ১০০ কোটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া আহমদ পাপলু। তিনি জানিয়েছেন, ‘বর্তমান পৌর মেয়র ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প এনে কোথায় কাজ করেছেন; সেটি কেউ জানে না। যদি পৌর শহরের উন্নয়নে ওই টাকা আসে তাহলে কাজ না করে দুর্নীতি করা হচ্ছে। আমি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদককে অনুরোধ করবো- বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। ৫ পার্সেন্টেজের বিষয়টি সত্য হলে অবশ্যই এ ব্যাপারে অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।’   

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর