× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২২ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার , ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

মেকারের সহকারী হানিফ ময়লাবাহী গাড়ির চালক

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৮ নভেম্বর ২০২১, রবিবার

রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় সংবাদকর্মী আহসান কবীর খান (৪৬) নিহত হওয়ার ঘটনায় চালক হানিফ ওরফে ফটিককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২ একটি অভিযানিক দল। র‌্যাব জানিয়েছে, হানিফ প্রকৃতপক্ষে সিটি করপোরেশনের গাড়িচালক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন মেকানিক। করপোরেশনের তেল চুরির বিনিময়ে গাড়ি চালাতেন। তার কোনো বেতন-ভাতাও ছিল না। করপোরেশনের গাড়ি থেকে প্রতিদিন ১৭ থেকে ২০ লিটার তেল চুরি করতেন। গতকাল কাওরান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, হানিফ বৃৃহস্পতিবার পান্থপথ থেকে গাবতলীতে দুইবার ময়লা নিয়ে ডাম্পিং করেন।
তৃতীয়বার যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে আরোহী আহসান কবীর নিহত হন। ঘটনার পর ভয় পেয়ে হানিফ ও তার সহকারী কামরুল (১০) ভয়ে গাবতলী পালিয়ে যান। এরপর সেখান থেকে কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুরে নানার বাড়িতে আত্মগোপনে যান হানিফ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ হানিফকে ধরতে দেশের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। এরপর চাঁদপুর থেকে হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কমান্ডার মঈন বলেন, হানিফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরেছি, তিনি গত ৬-৭ বছর ধরে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্কশপে সহকারী মেকানিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বেতনভুক্ত বা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী না। প্রতিদিন মেকানিকের সহকারী হিসেবে কাজ করলে কেউ যা বকশিশ দিতো, সেটাই তার একমাত্র আয় ছিল। এর বাইরে গত ৩ বছর ধরেই তিনি ডিএনসিসির বিভিন্ন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ২০১৯ সালে হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স পেলেও ময়লাবাহী ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স তার ছিল না। এরপরেও গত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি এই ময়লাবাহী ভারী ট্রাক চালাতেন।
মঈন বলেন, গত কয়েক বছরে হানিফের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কয়েকজনের সখ্যতা হয়। সেই সখ্যতা থেকেই তিনি গাড়ি চালানোর সুযোগ পেয়ে যান। এ জন্য তিনি কোনো মাসিক বা দৈনিক হাজিরার বেতন পেতেন না। তবে গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত তেল থেকে প্রতিদিন ১৭-২০ লিটার তেল বাঁচাতেন।  সেই তেল বিক্রির অর্থই ছিল তার আয়ের উৎস। তিনি বলেন, হানিফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের কাছে ২-১ জনের নাম বলেছে। যাদের সঙ্গে সখ্যতার জেরে তিনি গাড়িটি চালানোর সুযোগ পান। এর মধ্যে ডিএনসিসি’র স্থায়ী কর্মী এবং মাস্টার রোলের কর্মীও রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো যাচাই বাছাই করতে ডিএনসিসি’র সঙ্গে আলোচনা করবো। তারা নিশ্চই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। মঈন বলেন, এ ঘটনায় রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হানিফকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও  বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন।
সমপ্রতি সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ি চাপায় দুইজন নিহতের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত চালকদের কেউই পেশাদার বা করপোরেশন নির্ধারিত চালক নয়। করপোরেশনের ২-১ জনের যোগসাজশে ময়লাবাহী গাড়ি চালাতেন তারা, তাদের আয় বলতে ছিল তেল চুরির অর্থ।
এর আগে গত ২৪শে নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লবাহী গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে চালক রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরে শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে মূলচালক হারুনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩। নটর ডেমের শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ডিএসসিসি’র ময়লাবাহী গাড়িচালক গ্রেপ্তার হারুনের ব্যাপারে র‌্যাব জানিয়েছে, গত দেড় বছর ধরে হারুন গাড়িটি চালালেও তার নামেও গাড়িটি বরাদ্দ ছিল না। তিনি মূলচালক নন। তার কাছে লাইসেন্সও ছিল না।  ঘটনার দিন তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাই রাসেলকে সেদিন গাড়ি চালাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন ছাড়াও রাসেলকে মাঝেমধ্যে গাড়ি চালাতে দিতেন হারুন। রাসেল যখন এক্সিডেন্ট করে তখন অন্যদের মাধ্যমে খবর পান।  পরে তিনি ভয় পেয়ে পালিয়ে যান। রাসেলও গাড়ি চালানোর জন্য ডিএসসিসি’র কাছ থেকে কোনো বেতন পেতেন না। বেঁচে যাওয়া তেল বিক্রিই তার একমাত্র আয় ছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তাররা জানে না গাড়িগুলো কার নামে বরাদ্দ। তবে হানিফের কাছ থেকে আমরা ২-১ জনের নাম পেয়েছি। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো। তারা হয়তো এ বিষয়ে বলতে পারবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর