× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২২ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার , ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

নির্বাচন কমিশন / আগামী দুই অধিবেশনের মধ্যে ইসি গঠনের আইন

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৯ নভেম্বর ২০২১, সোমবার

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন আনা হচ্ছে শিগগিরই। জাতীয় সংসদের আগামী দুটি অধিবেশনের মধ্যেই এটি বিল আকারে আনা হবে। তবে এবারের কমিশন এই আইনের অধীনে হবে না। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক বিল-২০২১ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এর আগে বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য প্রদানের সময় বিএনপির হারুনুর রশিদ ও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের কথা বলেন। চুন্নু এই আইনের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগেও আইন করার দাবি জানান। জবাবে আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিচারক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের দুটি আইনেরই খসড়া করা হচ্ছে। সম্প্রতি সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (নির্বাচন কমিশন গঠনে) একটি আইনের খসড়া করেছে, সেটা দিতে এসেছিলেন। তারা বলেছিলেন, এতে সবই আছে।
এটি অধ্যাদেশ আকারে করে দিলেও তো হয়ে যায়। তখন আমি পরিষ্কার বলেছি, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই আইন সংসদে আলোচিত না হওয়া পর্যন্ত আইনটি করা ঠিক হবে না। এতে আমি বোধহয় সংসদ সদস্যদের সম্মান কমাইনি, বাড়িয়েছি। আমি মনে করি, এটি সংসদে আলোচিত হওয়া উচিত। আমার পরিকল্পনা এর (চলতি সংসদের) পরের সংসদ বা তার পরের সংসদে আমরা এ নিয়ে আলোচনা করবো। কিন্তু অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ তাড়াহুড়া করে ২০২২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা যাবে না বলেই আমি বলেছি। প্র্যাক্টিক্যাল স্পিকিং অ্যান্ড স্পিকিং দ্য ট্রুথ ইজ দ্য রাইট থিং। সেজন্য আমি সুজন প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করিনি। তবে দুটোই আমরা করার চেষ্টা করছি।’

খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে নেই: আইনমন্ত্রী
‘বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে রয়েছে’, বিএনপি’র এই দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্ত দেয়া হয়েছে। তিনি দুটো শর্তে সম্পূর্ণ মুক্ত। উনি আমাদের কাস্টডিতে নেই। উনি সরকারের কাস্টডিতে নেই। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন। গতকাল জাতীয় সংসদে একটি আইন পাসের সময় যাচাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিলটির ওপর আলোচনাকালে বিএনপি’র এমপিরা অভিযোগ করেন খালেদা জিয়ার বাসাকে সাব-জেল বানিয়ে তাকে সেখানে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়ার বাসাকে সাব-জেল বানানোর দাবি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনারা কেবল বলেন সাব-জেল বানিয়ে রাখা হয়েছে। উনার বাসাটাকে কোনো জেলই বানানো হয়নি। উনাদের (বিএনপি’র) তথ্যে কেন এত বিভ্রাট তা বুঝতে পারি না। এতই যদি ভালোবাসা থাকে, তাহলে তো তথ্যটি জেনে এখানে কথা বলতে পারেন। এত সুপারফিসিয়ালি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে (খালেদা জিয়াকে) ৬ মাস করে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত। সেখানে দুটো শর্ত যুক্ত ছিল, সেটা এখনো আছে। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন। ৪০১ ধারায় যাকে মুক্তি দেয়া হবে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু কথা আছে শর্তযুক্ত অথবা শর্তমুক্ত। আমরা সেখানে বলেছি, উনি বিদেশ যেতে পারবেন না, বাংলাদেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন। উনি অবশ্যই মুক্ত। অবশ্যই মুক্ত। উনি আমাদের কাস্টডিতে নেই। উনি সরকারের কাস্টডিতে নেই। উনি এখানকার (দেশে) যেখানে ইচ্ছা, সেখানেই চিকিৎসা নিতে পারেন এবং সেটা তিনি নিচ্ছেন। বিএনপি’র সংসদ সদস্যরা বলছেন, উনাদের নেত্রী কাস্টডিতে। উনি কাস্টডিতে নেই। শি ইজ ফ্রি অ্যান্ড শি ইজ টেকিং ট্রিটমেন্ট অ্যাকোর্ডিং টু হার হুইল। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, একটা বিষয় সিদ্ধান্ত হলে সেখানে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এটা চাইলে উনাকে অরিজিনাল পজিশনে যেতে হবে। তারপর নতুন সিদ্ধান্ত হয়তো নেয়া যাবে। ৪০১ ধারার বিষয়ে বিএনপি থেকে যে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে আমার দ্বিমত আছে। আমি আমার অবস্থান থেকে নড়বো না।
শেষ হলো সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন: এদিকে গতকাল শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন। এই সমাপ্তি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনানোর মধ্য দিয়ে অধিবেশনের ইতি টানেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। অধিবেশন শেষ করার আগে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ৩রা জানুয়ারি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ভাষণের ভিডিওচিত্র অধিবেশন কক্ষের স্ক্রিনে দেখানো হয়। এর আগে অধিবেশনে সমাপনী ভাষণ দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। একজন সংসদ সদস্য মারা যাওয়ায় গত ১৪ই নভেম্বর শুরু হওয়া অধিবেশন একবার মুলতবি করা হয়। শেষ হওয়া অধিবেশনের কার্যদিবস ছিল ৯টি। ৯টি বিল উত্থাপন হয়েছে। পাস করা হয়েছে ৯টি বিল। ৭১ বিধিতে ৪২টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে একটিও আলোচনা হয়নি। এগুলোর লিখিত জবাব প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেয়ার জন্য মোট ৪১টি প্রশ্ন পাওয়া হয়েছিল, এরমধ্যে তিনি জবাব দেন ১০টির। অন্য মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন জমা পড়ে ১ হাজার ১২টি। তার মধ্যে ৫৬৬টি উত্তর তারা দিয়েছেন। যেগুলোর উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে। ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর দ্য ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকস’ প্রবর্তন করায় সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধিতে সাধারণ আলোচনা হয়। এটি জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবটি এনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে একটি বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়। আলোচনার শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বক্তৃতা করেন। এজন্য রাষ্ট্রপতিকে সংসদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার। তিনি বলেন, ‘এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি তার বক্তব্য রাখেন। এই প্রস্তাবের ওপর ২৪ ও ২৫শে নভেম্বর বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ৫৯ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের আলোচনা পরে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব সাধারণ গ্রহণ করা হয়।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর