× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার , ৯ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

জয়ের অভিষেকে যা বললেন কোচেরা

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক
৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার

বাংলাদেশের ৯৯তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্যাপ পেলেন মাহমুদুল হাসান জয়। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় বাংলাদেশের এই তরুণ টপঅর্ডার ব্যাটারের। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের শুরুতে মাহমুদুলের মাথায় বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেন সাকিব আল হাসান।  জয়ের টেস্ট অভিষেক দেখে অবাক হননি মাহমুদুলের ছোটবেলার কোচ শামীম ফারুকী। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পরই চাঁদপুরের ছেলে মাহমুদুলকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি। গতকাল কোচ শামীম ফারুকী বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, জয়ের (মাহমুদুল হাসান) অভিষেক হবে টেস্ট দিয়ে। সে টেস্টের জন্য আদর্শ ক্রিকেটার। একদম ঠান্ডা মাথার ছেলে। কাল (শুক্রবার) সে আমাকে ফোন করেছিল খবরটা জানাতে।
খুব খুশি হয়েছি তার অভিষেকের খবর শুনে। আমি বলেছি একদম ফুরফুরে থাকতে। আর দশটা ম্যাচ যেভাবে খেলে, ঠিক সেভাবেই খেলতে বলেছি।’
১৩ বছর বয়স থেকেই মাহমুদুলকে দেখছেন চাঁদপুরের একটি ক্রিকেট একাডেমির কোচ শামীম। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আর দশটা ছেলের মতো এলাকায় টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতেন মাহমুদুল। কিন্তু বড় ভাইদের ভিড়ে ব্যাটিংয়ের সুযোগ খুব একটা পেতেন না কিশোর বয়সের মাহমুদুল। তবে খেলার নেশা তাতে কমনি। বরং বেড়েছে। এ জন্য ব্যাংকার বাবার বকাঝকাও শুনতে হতো।
কিন্তু খেলার নেশা কি আর দমিয়ে রাখা যায়? এরপর মাহমুদুলের চাচার পরামর্শে তাকে বিকেএসপিতে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন বাবা। তার আগে মাহমুদুলকে চাঁদপুরের একাডেমিতে ভর্তি করানো হয়। কোচ শামীম বলেন, ‘জয়ের আব্বার তাকে বিকেএসপিতে ভর্তি করানোর ইচ্ছে ছিল। তাই আমার কাছে দিয়ে গিয়েছিল এক-দেড় বছরের জন্য। এরপর তো বিকেএসপিতেই চলে গেল। তখনো সে শান্তশিষ্ট ছিল। আমি ওর নাম দিয়েছিলাম ‘হাসিখুশি’। সব সময় মুখে একটা হাসি লেগে থাকে। যা বলতাম, ঠিক তাই করতো। যে যাই বলুক, খুব মন দিয়ে শোনে।’
২০১৪ সালের শেষের দিকে চাঁদপুরের একাডেমি থেকে  বিকেএসপিতে ভর্তি হন মাহমুদুল। সেখানকার কোচ মন্টু কুমার দত্ত বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্রই টেস্ট ক্রিকেটার হয়েছে। জয় যে একদিন টেস্ট খেলবে সেটা আমি অনেক আগেই বলেছিলাম। সে খুব সুন্দর সোজা ব্যাটে খেলে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার পর জয় বলেছিলেন, এবারের জাতীয় লীগের নৈপুণ্য সাহস জোগাচ্ছে তাকে। জাতীয় লীগের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাহমুদুলের অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ৩ ম্যাচের। তাতে ফিফটি ছিল একটি, ৩০-৪০ ছিল গোটা তিনেক।
এবারের জাতীয় লীগ শুরু হয় গত অক্টোবরের শেষ দিকে। প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই শূন্য। পরের ম্যাচে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকালেন জয়। পরের ম্যাচে আবার সেঞ্চুরি, এবার বরিশালের বিপক্ষে। চতুর্থ ম্যাচে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে খেলেন ৮৩ রানের ইনিংস। ওই ম্যাচের মাঝপথেই টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পান জয়।
অবশ্য শুধু এবারের জাতীয় লিগ দেখেই তাকে নেয়া হয়নি। গত বছর দেড়েক ধরেই তিনি ছিলেন প্রক্রিয়ার মধ্যে। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের জয়ে উপহার দিয়েছিলেন ধ্রুপদি এক সেঞ্চুরি। টুর্নামেন্টে দলের সর্বোচ্চ স্কোরারও ছিলেন তিনি।
জয় ব্যাট হাতে নৈপুণ্য দেখান এ বছর বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ টি-টোয়েন্টিতে। আইরিশদের বিপক্ষে গত মার্চে ওয়ানডে সিরিজে ৭১.২৫ গড়ে সর্বাধিক ২৮৫ রান করেন জয়। এরপর প্রিমিয়ার লীগ টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৩৯২ রান করেন তিনি।
বিসিবি হাই পারফরম্যান্স বিভাগের কোচ টবি রেডফোর্ডও মাহমুদুলের ব্যাটিং কৌশলের বিরাট ভক্ত। তবে টেস্ট অভিষেকটা একটু দ্রুত হয়ে গেল কি না, এ নিয়ে একটু সন্দেহ আছে এই ইংলিশ কোচের। টবি বলেন, ‘মাহমুদুল দারুণ প্রতিভা। বিশেষ করে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের জন্য তার খেলাটা বেশ মানানসই। কিন্তু এখনই টেস্ট ক্রিকেট, সেটাও আবার পাকিস্তানের মতো বড় দলের বিপক্ষে- এটা হয়তো চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে আমার মনে হয় তার সেই সামর্থ্য আছে। হয়তো মানিয়ে নিতে কয়েকটি ইনিংস লাগবে মাহমুদুলের।’
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর