× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার , ৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

ছাত্রলীগ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, অধ্যাপকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তদন্ত কমিটি / উত্তাল কুয়েট

প্রথম পাতা

রাশিদুল ইসলাম, খুলনা থেকে
৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার

ছাত্র শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুয়েট ক্যাম্পাস। এদিকে ৬ বছরের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের স্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৭৬তম জরুরি সভায় উত্থাপন করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যাদি পর্যালোচনা করে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণের আওতায় সিন্ডিকেট নিম্নবর্ণিত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন- সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিএসই বিভাগ, রোল-১৩০৭০২৪, তাহামিদুল হক ইশরাক, সিই বিভাগ, রোল-১৫০১০৯০, সাদমান সাকিব, এলই বিভাগ, রোল-১৫১৯০৩৩, আ. স. ম. রাগীব আহসান মুন্না, এলই বিভাগ, রোল-১৫১৯০৪৮, মাহমুদুল হাসান, সিই বিভাগ, রোল-১৬০১০২৯, মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, এমই বিভাগ, রোল-১৬০৫০৩৯, রিয়াজ খান নিলয়, সিএসই বিভাগ, রোল-১৬০৭০৭৫, ফয়সাল আহমেদ রিফাত, এমই বিভাগ, রোল-১৬০৫০৯৩, নাইমুর রহমান অন্তু, এমএসই বিভাগ, রোল-১৬২৭০১০।
৩০শে নভেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন। বয়স ৩৮ বছর। তার ৬ বছরের ছোট্ট একটি সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- সম্প্রতি কুয়েটের লালনশাহ হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য-ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে ফজলুল হক হলের সদস্য ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান তার অনুগতদের ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচিত করার জন্য ড. সেলিমকে চাপ দেন।
ঘটনার দিন দাপ্তরিক কক্ষে অশালীন আচরণ ও মানসিক নির্যাতনেরও শিকার হন তিনি। সেদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্ররা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা শুরু করেন। পরে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ওই শিক্ষকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরে শিক্ষক ড. সেলিম হোসেন দুপুরে খাবারের জন্য ক্যাম্পাসের কাছে বাসায় যাওয়ার পর ২টায় তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে কিছু সাধারণ ছাত্রের জেরা, অপমান, অবরুদ্ধ করে রাখা ও মানসিক নির্যাতনে তার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে অপমৃত্যুর অভিযোগ এনে ড. মো. সেলিমের কফিনসহ এম্বুলেন্স নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে বিচার চান। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলার জোর দাবি জানান। ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় ওইদিন রাতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ কমিটির সভাপতি ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া দু’জন সদস্য হলেন- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান ও ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. কল্যাণ কুমার হালদার। তবে তাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. কল্যাণ কুমার হালদার লিখিতভাবে ও ড. মো. আরিফুল ইসলাম অলিখিতভাবে তদন্ত করতে অপারগতা জানিয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটির এই দুই সদস্য ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ চালাতে বিব্রতবোধ করছেন। সেলিমের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে শুক্রবার রাতে ৫ সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিসহ ৫ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান শিক্ষকরা।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সিন্ডিকেট সভা ?অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেনসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা অংশ নেন। ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তাল হওয়ায় এ জরুরি সিন্ডিকেট সভার ডাক দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৩রা ডিসেম্বর দুপুরে সিন্ডিকেট সভায় ১৩ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধসহ বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর ৭টি আবাসিক হলে থাকা প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী হল ছাড়েন।
সেদিন মুখে হাসি নিয়েই কুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন। ৩৮ বছর বয়সী এই অধ্যাপক বাসায় ফেরেন বিধ্বস্ত হয়ে- এমনটাই জানান কুয়েট শিক্ষকের স্ত্রী সাবিনা খাতুন রিক্তা। তিনি বলেন, বাসায় ফিরে বললো, ছাত্ররা ধরে নিয়ে গেছে। দায়িত্বই ছেড়ে দেবো।
রিক্তা বলেন, আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি চাই। ছয় বছরের মেয়েকে এতিম ও আমাকে স্বামীহারা করলো। আমি আমার মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই।
সে দিনের ঘটনা বর্ণনা দিয়ে সাবিনা খাতুন রিক্তা বলেন, ৩০শে নভেম্বর সকালে তার স্বামী হাসি মনে কুয়েটে যান। আর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বাসায় আসেন। তখন তাকে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। বাসায় এসেই ছাত্ররা আমাকে ধরে নিয়ে গেছে বলে জানান। দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন বলেও জানান। তখন তার চোখ-মুখের খুব খারাপ অবস্থা দেখাচ্ছিল। এরপর তিনি গোসল করতে বাথরুমে ঢোকেন। কিন্তু বের হতে দেরি হলে দরজায় নক করি। কোনো সাড়া না পেয়ে চিন্তায় পড়ে যাই।
রিক্তা বলেন, সাড়া না মেলায় চিল্লাপাল্লা করি। তখন আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। এরপর বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে বসা অবস্থায় দেখি। কিন্তু চোখ বন্ধ। মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। মুখে পানি ছিটা দিলে চোখ খোলে। কিন্তু কথা বলতে পারেননি। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।
তিনি বলেন, ছয় বছরের প্রেম ছিল আমাদের। তারপর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এরপর কেটে গেছে আরও ১০টি বছর। সংসারের সব কাজে সাহায্য করতো আমাকে। বাসায় রাতের মশারিও নিজে টাঙাতো। বাসায় থাকাকালে আমাকে কোনো কাজ করতে দিতো না। চাকরিতে চলে গেলেও বাসার খোঁজ রাখতো সব সময়। সেই মানুষটার এমন মৃত্যু আমি সইতে পারছি না। আট বছর আগে পিএইচডি করতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আমাকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেখানে চার বছর থাকার পর দেশে ফিরে এসে কুয়েটে যোগ দেন। করোনার মধ্যে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। একইসঙ্গে হলের প্রভোস্ট হন।
স্বামী হারানো রিক্তা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, কুয়েট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা নিয়ে মামলা না করলে আমি নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবো। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাইবো। আমার মেয়েকে এতিম করা হয়েছে। জড়িতদের ফাঁসি চাই। ক্ষতিপূরণ চাই।
কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সেলিমের মৃত্যুর পর সাধারণ সভা করে আমরা এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে কুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি শিক্ষক সেলিমের নিয়মিত পাওনার বাইরে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা পরিবারকে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান শুক্রবার খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। যা রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তার দাবি, শিক্ষক সেলিম হোসেন ১১ মাস আগে কুয়েটের লালন শাহ হলের দায়িত্ব পান। হলগুলোতে যখনই নতুন প্রভোস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত হন, ছাত্রকল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে প্রভোস্টের সঙ্গে হলের ফাইনাল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করে পূর্বনির্ধারিত মিটিংয়ে যোগ দিতে আনুমানিক ৪০ মিনিট বিলম্ব হয়। ঘটনাক্রমে আমাদের দেরি হওয়ায় পথে স্যারের সঙ্গে দেখা হয়। সে সময় তিনি বলেন, তোমরা এখন আসছো? আমিতো বের হয়ে আসছি। তারপর আমাদের বিলম্বের কারণ জানালে স্যারই তার কক্ষে আসতে বলেন। এরপর স্যার সবাইকে চা অফার করেন।
ছাত্রলীগের এই নেতা আরও বলেন, আমরা স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে রুম থেকে বের হই। এর ঘণ্টাখানেক পর দুপুরে স্যারের অসুস্থতার সংবাদ পাওয়া মাত্র হলে থাকা ছাত্ররা সিটি মেডিকেলে যায়। সিটি মেডিকেলের ডাক্তাররা জানান, পথিমধ্যেই তিনি মারা গেছেন। স্যারের লাশ ক্যাম্পাসে পৌঁছালে অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী তার জানাজায় শরিক হন।
এদিকে কুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আলহাজ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
এ ছাড়াও সদস্য করা হয়েছে কুয়েটের অধ্যাপক ড. খন্দকার মাহবুব, খুলনা জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধিকে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে করোনায় বন্ধ থাকার পর ফের ক্যাম্পাস বন্ধে উদ্বিগ্ন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কুয়েট শিক্ষার্থীরা জানান, অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাস খোলার কিছু দিনের মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনার জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এতদিন তো পড়ালেখা শেষ হয়ে যেত। ২৫শে অক্টোবর ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। আবার ভ্যাকেন্ট। আমাদের জন্য কষ্টদায়ক।
এদিকে অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যু ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে খুলনা মহানগর বিএনপি।
এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মানসিক নির্যাতনে শিক্ষক ড. সেলিম হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে ছাত্রলীগ ও শিক্ষকরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকা এবং দুই দফায় সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কুয়েট বন্ধ ঘোষণা কোনো সমাধান নয়। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেড় বছর বন্ধ থাকার পর চালুর তিন সপ্তাহের মাথায় কুয়েট বন্ধ ঘোষণা একদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বিঘ্নিত করছে অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুয়েটের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বিবৃতিদাতারা হলেন- খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু প্রমুখ।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর