× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার , ৯ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

সিলেটে রায়হান হত্যা /নতুন অভিযোগ সালমা বেগমের

এক্সক্লুসিভ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
৬ ডিসেম্বর ২০২১, সোমবার

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যার সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন মা সালমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেছেন- ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে কারাগারে থাকা আসামিদের পক্ষ থেকে এই ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নগরীর সুইপার কলোনি কাস্টঘরের চুলাই লাল নামের এক সাক্ষী দু’মাস আগে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন। গতকাল সিলেটের আদালতে ছিল আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার শুনানি। চার্জশিট গ্রহণ করে আদালত রায়হান হত্যার পলাতক আসামি নোমানের মালামাল ক্রোকের জন্য পরোয়ানা জারি করেছিলেন। গতকাল পর্যন্ত সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে জারিকৃত ক্রোকি পরোয়ানা তামিল হয়ে না আসায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। রায়হানের পরিবারের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএ ফজল চৌধুরী শুনানি শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মামলার পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমান ঘটনার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। পলাতক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মালামাল ক্রোকি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
আদালতে পরোয়ানা তামিল হয়ে না আসায় আদালত পুনরায় আরেকটি ধার্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এ সময় আদালতে মামলার বাদী ও রায়হানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ১০ই অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট নগরীর নেহারীপাড়ার যুবক রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে এনে নির্মমভাবে নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পরদিন সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় রায়হানকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। চলতি বছরের ৫ই মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস, সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান। এদিকে গতকাল আদালতে মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে নতুন অভিযোগ তুলে ধরেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন- ‘রায়হানকে কাস্টঘরের চুলাই লালের ঘর থেকে সুস্থভাবে ধরে আনে পুলিশ। তাকে মারধর করে রায়হানকে ধরে আনা হয়। চুলাই লাল হলো প্রথম সাক্ষী। সে নাকি দুই মাস আগে মারা গেছে। এখন আমি শুনছি, কেউ কেউ বলছে, পুলিশও বলছে, সে নাকি আত্মহত্যা করেছে। আমি সঠিক জানি না- সে আত্মহত্যা করেছে কিনা বা সে কীভাবে মারা গেছে।’ সালমা বেগম জানান, ‘আরেকজন সাক্ষী, যে পাশের কুদরতউল্লাহ মার্কেটের দু’তলা থেকে, হাসান নামের একজন বলেছিল, সারারাত আমার রায়হান যে কাঁদছিল, চিৎকার করছিল- সে নিজের কানে শুনেছে। সকালে সে আমাদেরকে জানিয়েছিল যে, রায়হান মারা গেছে। সে এখন ঢাকায় আছে। তাকেও এখন হুমকি দেয়া হচ্ছে।’ সালমা বেগমের এ অভিযোগ প্রসঙ্গে নগরীর কাস্টঘর এলাকার সর্দার হিরণ লাল বিকালে জানিয়েছেন; ‘শুনেছি চুলাই লাল আত্মহত্যা করেছে। তবে আমি দেখিনি। নেশা করতো বেশি। হয়তো এ কারণে মারা গেছে বলে জানান তিনি।’ রায়হান হত্যা মামলার সাক্ষী চুলাই লালের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়হানের পরিবারের পক্ষে আইনজীবীরা জানান, ‘চুলাই লাল কীভাবে মারা গেছে সেটা দেখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এটা আমাদের কোনো বিষয় নয়।’ রায়হানের মা ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রায়হানের হত্যার বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কারাগারে থাকা বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর সহ অন্য আসামিরা বিগত সময় নানা ভাবে রায়হানের পরিবারকে নানা প্রলোভন দেখিয়েছে। এমনকি রায়হানের স্ত্রীকে বিয়ে করে তার সন্তানের দায়িত্ব নেয়ারও কথা বলেছে আকবর। এ ছাড়া, কারাগারে আসামিদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণকালেও রায়হানের চাচার পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেছে আসামি। রায়হানের মা সালমা বেগম জানিয়েছেন, ‘আমাদের একটি দাবিই হচ্ছে; এ ঘটনার ন্যায়বিচার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই আমার রায়হানের আত্মা শান্তি পাবে।’
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর