× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার , ৩ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

গোলাপগঞ্জের মেয়র রাবেল সাময়িক বরখাস্ত

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
৭ ডিসেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার

সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার আলোচিত মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল। লন্ডনে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে গত রোববার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের ঘটনায় গোলাপগঞ্জে ফের আলোচিত হচ্ছেন রাবেল। তাকে নিয়ে নানা জল্পনাও চলছে। লন্ডন সফরে থাকা রাবেল কয়েকদিন আগে সিলেটে এসেছেন। নভেম্বরের শেষদিকে লন্ডনে সফর করেন পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল। সফরকালে তিনি লন্ডনে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের এই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে রাবেল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ সচিবদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
তার বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। তার এই বক্তব্যের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে গতকাল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মেয়রকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়র পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে এবং তা দ্রুত কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়; ‘আমিনুল ইসলাম রাবেল ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন। হানিকর বক্তব্য প্রদান করায় এহেন অপরাধমূলক কার্যক্রম পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি বলে সরকার মনে করে। এ কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’ গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল গত পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে জয়লাভ করেছিলেন। এ সময় তিনি ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিও। দলের সিদ্বান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ার কারণে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এখনো বহিস্কৃত অবস্থায় রয়েছেন রাবেল। লন্ডনে দেয়া ওই বক্তব্যে গোলাপগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিষয়ে মেয়র রাবেল জানিয়েছিলেন- ‘গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আমি এখন পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকার কাজ করেছি। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডকে আমি সাজিয়েছি। লাইটিং করেছি। আরিফ ভাই যেভাবে টাউনকে উন্নত করেছেন আমি সেইভাবে গোলাপগঞ্জের উন্নয়ন করেছি। আমরা প্রবাসী থাকায় বাংলাদেশের মতো মনমানসিকতা নয়। এ কারণে কাজ করতে পেরেছি।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে চ্যালেঞ্জের বিষয়ে রাবেল অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবকে গিয়ে বলেছিলাম আমি একজন প্রবাসী নির্বাচন করবো। কিন্তু তিনি দেননি। ‘প্রবাসে যাও’- বলে দিয়েছিলেন। আমি তখন চ্যালেঞ্জ করে উনাকে বলেছিলাম, আপনারা যে প্রার্থীই দেন আমি পাস করবো। আপনার বাংলাদেশি প্রার্থী পাস করতে পারবে না। এরপর তিনি আমাকে মনোনয়ন দেননি। আসলে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র এখনো টিক হয়নি।’ দেশের উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু দুর্নীতি কমছে না এমন বক্তব্যে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন- ‘দেশ খুব সুন্দর এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আরও উন্নত হোক- এটা আমরা আশা করি। একজন ভালো মানুষ গোটা দেশকে ভালো করবে সেটি সম্ভব নয়। দেশে এখনো প্রচুর পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে। আমরা যারা জনপ্রতিনিধি, আমরা তো গিয়ে ফান্ডিং আনি। আমরা মন্ত্রণালয়ে যাই। সচিবালয়ে সচিবদের সঙ্গে মিটিং করি, এলজিইডি মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করি। তাদের কাছ থেকেই আমাদের ফান্ড আনতে হয়। ওখানে বিরাট একটা পার্সেন্টেজ দিয়ে আনতে হয়। আপনি ১০০ কোটি টাকার ফান্ড নিয়ে আসলেন। সেখানে ৫ পার্সেন্ট আগেই দিয়ে আসতে হয়। এটাই হচ্ছে বাস্তব দিক। একটি বরাদ্দ তিনি ৫ পার্সেন্ট টাকা দিয়ে আনতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।’ এদিকে, গোলাপগঞ্জের পৌর মেয়র রাবেলের সাময়িক বরখাস্তের খবরে গোলাপগঞ্জে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে- লন্ডনে দেয়া বক্তব্যকে অনেকেই গ্রহণ করতে পারেননি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারাও তার উপর চরম ক্ষুব্ধ। বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামেও আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তারা জানিয়েছেন, নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করে দল থেকে বহিস্কৃত হলেও আওয়ামী লীগের মানুষ হিসেবেই সবার সঙ্গে বিচরণ ছিল পৌর মেয়র রাবেলের। কিন্তু তার লন্ডনে দেয়া বক্তব্যের পর থেকে অনেকেই ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা তার জন্য ধৃষ্টতা বলেও মন্তব্য করেছেন তারা। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া আহমদ পাপলু জানিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একজন জাতীয় নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি জানান, ‘দু’দফা সাড়ে তিন বছর মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে আমিনুল ইসলাম রাবেল নজিরবিহীন দুর্নীতি করেছেন- এটা লন্ডনে দেয়া তার বক্তব্যে প্রমাণ করে। কারণ- তিনি বলেছেন; ১০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ওই টাকার ৫ ভাগ কাজ হয়নি। গোলাপগঞ্জ পৌরবাসী মনে করে এতে দুর্নীতি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুদকের অনুসন্ধান দাবি করেন পাপলু।’
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর