× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৯ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

শিশু উমায়েরের মৃত্যু 'আতশবাজি'তে না হলেও ভয়ে কেঁপে ওঠার জন্য দায়ী কে?

মত-মতান্তর

তারিক চয়ন
৪ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার

‘কী বিকট শব্দ! আমার ছোট বাচ্চাটি এমনিতে হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুব আতঙ্কে রাত পার করছি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এই লেখাটি হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্মগ্রহণ করা মাত্র চার মাস বয়সী শিশু তানজিম উমায়ের এর হতভাগা পিতা ইউসুফ রায়হানের।

মানবজমিনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, উমায়ের আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। ওই ফেসবুকে পোস্ট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইউসুফ জানান, বর্ষবরণের রাতে আতশবাজির বিকট শব্দে ভয়ে তার ছেলেটি বারবার কেঁপে উঠছিল। সারা রাত ঘুমাতে পারেনি। সকাল থেকেই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট।
হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তার ছোট্ট উমায়ের।

এদিকে, ফেসবুকে পোস্ট করা ইউসুফের আবেগঘন স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। মন্তব্যের ঘরে আতশবাজির তীব্র সমালোচনা করেন অনেকেই। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাজধানীজুড়ে টানা বিকট শব্দে নিজের ছেলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কান্না শুরু করে এবং ভয়ে কাঁপতে থাকে বলে তার বাবা ইউসুফ অভিযোগ করেন।

অনেকেই অভিযোগ করছেন- ইংরেজি নববর্ষের রাতে প্রতি বছরই ঢাকায় পটকা ফোটানো ও আতশবাজি হলেও এ বছরের মতো এতটা বেপরোয়া কখনোই দেখা যায় নি। করোনা-সহ নানা ধরনের সংকটের মধ্যেও দেশের যুব সম্প্রদায় এভাবে আতশবাজি করলো কেন তার সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে গবেষণারও দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

যারা উমায়েরের মৃত্যুর জন্য আতশবাজির বিকট শব্দকে দায়ী করছেন তাদের সাথে ফেসবুকে তর্ক জুড়ে দিয়ে অনেকে আবার প্রশ্ন রাখছেন, শব্দের কারণে কারও কি মৃত্যু হয়? কিন্তু তাদের সেসব প্রশ্ন অবশ্য ধোপে টিকছে না। একজন লিখেছেন, 'শব্দে হার্ট এটাক হতে পারে। আমি নিজেই যে পটকার শব্দে কতবার চমকে উঠেছি এবং প্যালপিটিশন (ধড়ফড়) হয়েছে সেটা আর বলছি না।' আরেকজন লিখেছেন, 'মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণ নিশ্চয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ এতে অনেকের বিশেষ করে বয়স্কদের হার্টে প্রভাব ফেলতে পারে ৷ অনেক বছর আগের একটা কথা বলা যায়৷ আমার পরিচিত এক ভদ্রমহিলার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন তার কাছে একটা কোমল পানীয় এর ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়ে বোতলগুলো একসাথে বিস্ফোরণের শব্দের জন্য৷'

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের বিকট শব্দে বাজানো গান নিয়েও আপত্তি এবং তীব্র প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী। এ কেমন সংস্কৃতি যা অন্য মানুষ কে হত্যা করে? এমন প্রশ্নও করছেন অনেকেই। বেপরোয়াভাবে ও নিয়ন্ত্রণহীন আতশবাজির কারণে যে কোন সময় যে কোন ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডও ঘটে যেতে পারে বলে আতঙ্কিত অনেকেই।

সে যাই হোক, শিশু উমায়ের এর মৃত্যু 'শব্দ' এর কারণে হয়েছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। কিন্তু সদ্য সন্তান হারানো পিতা যদি মিথ্যে না বলে থাকেন তাহলে এটুকুতো অন্তত বলা যায় 'সে রাতে প্রচণ্ড শব্দে ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠছিল আর খুব ভয় পাচ্ছিল মৃত্যুপথযাত্রী উমায়ের'।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আব্দুল করিম হুসাইন
৪ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৭:৪৩

এই পটকা-বাজি সরকারি ভাবে বন্ধ করা হউক

আবুল কাসেম
৪ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৪:৪৭

নববর্ষ উদযাপনের নামে এক শ্রেণির মানুষ যা করেছে তা এক কথায় বর্বরতা ছাড়া অন্য কিছু ভাবা যায় না। আরে আমাদের তো একটা স্বতন্ত্র ইতিহাস আছে। স্বতন্ত্র ঐতিহ্য আছে। ভাষার ঐতিহ্য, সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং ইতিহাস আমাদের হাজার বছরের। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার পরে যা করা হয়েছে তা অপসংস্কৃতি। বিজাতীয় সাংস্কৃতিক। এটাকে আনন্দ বলা যায় না। আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গেও এসব যায় না। আমার মুসলমান। অনেকে রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে, ইবাদত বন্দেগি করে। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ঘুমের ঘোরে আচমকা বুক ধড়ফড় করে ওঠেছে। মাথা ঘুরে ওঠেছে। যে আনন্দ আরেক জনের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তা কি সভ্য সমাজে চলে? কোনো সভ্য মানুষের পক্ষে কি সম্ভব আরেক জনের জীবনের শান্তি নষ্ট করা? অথচ সে রাতে তা-ই করা হয়েছে। ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন তারকা হোটেলে। তরুণ তরুণী থেকে শুরু করে বয়সীরাও মদ খেয়ে মাতাল হয়েছে, ঢলাঢলি করেছে। আতশবাজি ফোটানো হয়েছে মুহূর্মুহু। ফানুস পোড়ানো হয়েছে বেশুমার। খবরে প্রকাশ ঢাকা সহ সারা দেশে অন্তত কুড়ি জায়গায় ফানুস পোড়ানো থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘরবাড়ি দোকানপাটে আগুন ধরেছে। অনেকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তায় বের হলে, মার্কেটে গেলে ভিক্ষুকের হাতপাতার করুণ দৃশ্য দেখে মন ভারী হয়ে ওঠে। ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে অপচয়, অপব্যয় ও অপবিত্রতার সম্পর্ক নিবিড়। বাংলা ভাষা আমাদের গৌরবের। বাংলা ভাষার জন্য শহীদ হওয়ার ইতিহাস আছে। কিন্তু, বিজাতীয় একটা ভাষার বর্ষ উদযাপনের নামে জীবন ও সম্পদ হানী কখনো মেনে নেয়া যায় না। শিশু উমায়েরের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের আইনের চোখে তারা অপরাধী কিনা তা সনাক্ত হওয়া উচিত ভবিষ্যতে এমন মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার তাগিদে। উমায়েরের মতো হার্টের রোগী পাড়ায় পাড়ায় আছে। উচ্চ রক্তচাপের রোগী আছে। এসব কি কর্তৃপক্ষের অজানা নাকি উদাসীনতা! কাজেই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আনন্দের নামে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুদের জন্য বসবাস নিরাপদ করতে হবে এবং বয়সীদের জন্যও। এপ্রসঙ্গে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কবিতাটি মনে পড়ছে। 'যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে/ তার মুখে খবর পেলুমঃ/ সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,/ নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার/ জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।/ খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত উত্তোলিত,/ উদ্ভাসিত কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।/ সে ভাষা বোঝে না কেউ,/ কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।/ আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা।/ পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের/ পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর/ অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।/ এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;/ জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে / চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।/ অবশেষে সব কাজ সেরে/ আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে করে যাব আশীর্বাদ,/ তারপর হব ইতিহাস।'

এডভোকেট কামাল হোসেইন
৪ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৪:৫২

পটকা ফুটানো, পাড়া মহল্লায় কারণে অকারণে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, আবাসিক এলাকায় সভা সমিতিতে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো - এইগুলা শব্দ সন্ত্রাস, বাংগালের বদ অভ্যাস, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এইগুলা বন্ধ করতে হবে।

অন্যান্য খবর