× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

আচরণবিধি লঙ্ঘনের এন্তার অভিযোগ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে
১৩ জানুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ। বিগত ২রা নভেম্বর অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রায় নিয়মিত আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। আগামী ৩১শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। আজ বৃহস্পতিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে আগামীকাল শুক্রবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ছাড়পত্র পাবেন প্রার্থী। এ পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এবার মাঠে নেমেছেন সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ। আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থনে দলের বর্ধিত সভা, কর্মিসভা ইত্যাদি নামে সভা-সমাবেশ করছেন তিনি। এসব সভা-সমাবেশ থেকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে দিচ্ছেন কড়া বার্তা, ভোট চাচ্ছেন দলীয় প্রার্থীর জন্য। ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী প্রচারণার সময়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিধিমালা রয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারেন না। এ ছাড়া বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। অথচ প্রতীক বরাদ্দের আগেই এসব বিধিমালা লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থনে সভা-সমাবেশ করে চলেছেন। বিগত পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে নূর মোহাম্মদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এ উপজেলার চলমান ইউপি নির্বাচনে তিনি যেন দ্বিগুণ উৎসাহে আচরণবিধি লঙ্ঘনের উৎসবে মেতেছেন। এমনকি সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ হিসেবে পরিচিত ‘আমাদের নূর মোহাম্মদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার রাতে এসব প্রচারণার বেশকিছু ছবি আপলোডও দেয়া হয়েছে। পাকুন্দিয়া উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে বর্ধিত সভা, কর্মিসভার নামে কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রচারণায় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ অংশ নিলেও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং কোনো প্রার্থী এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ ওঠলে তিনি বিষয়টি কমিশনের নজরে আনবেন বলে জানান। এদিকে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রতীক বরাদ্দ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে সভা-সমাবেশ করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ায় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে বক্তব্য রাখায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে অনেক প্রার্থীই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সংসদ সদস্যের কড়া বার্তায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কয়েকজন আবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথাও ভাবছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৫ই জানুয়ারি উপজেলার ৭নং নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নারান্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ। সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভাটি জনসভায় রূপ নেয়। ওই বর্ধিত সভায় এ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ভিপি মো. শফিকুল ইসলাম শফিকও বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তিনি চরফরাদী, জাঙ্গালিয়া ও এগারসিন্দুর- এ তিনটি ইউনিয়নে পৃথক কর্মিসভা করেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ডাকা এসব কর্মিসভায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬৪ জন, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য পদে ১১৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য পদে ৩৬২ জন মিলিয়ে মোট ৫৪২ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। ৬৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ২০ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৪ জন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী, ৭টি ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী, ৩টি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং ১টি ইউনিয়নে জাসদ প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা হচ্ছেন, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সরকার শামীম আহম্মদ, নারান্দী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ভিপি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, সুখিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ টিটু, পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাব উদ্দিন, চণ্ডিপাশা ইউনিয়নে বিগত নির্বাচনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন, হোসেন্দী ইউনিয়নে জেলা পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ হাদিউল ইসলাম হাদি, বুরুদিয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহবুবুর রহমান, চরফরাদী ইউনিয়নে বিগত নির্বাচনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান এবং এগারসিন্দুর ইউনিয়নে বিগত নির্বাচনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী নূরুজ্জামান মিয়া বাবু।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর