× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার , ১৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

নতুন এক গবেষণার ফলাফল: / প্লাস্টিক উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াতে রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(২ সপ্তাহ আগে) জানুয়ারি ১৩, ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৫:৫৮ অপরাহ্ন

প্লাস্টিক থেকে রাসায়নিক পদার্থ নির্গমন সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশবাদী সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞরা একটি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল পলুটেন্টস এলিমিনেশন নেটওয়ার্ক (আইপেন) এর সহযোগিতায় আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এসডো প্রধান কার্যালয়ে ‘প্লাস্টিক টক্সিক কেমিক্যাল প্রব্লেম: এ গ্রয়িং পাবলিক হেল্থ ক্রাইসিস’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিং এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে,  প্লাষ্টিক উৎপাদনের প্রক্রিয়া মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য বড় ধরণের ঝুঁকির সৃষ্টি করে থাকে। আইপেন এবং ইন্টারন্যাশনাল পেলেট ওয়াচ (আইপিডব্লিউ), বাংলাদেশ সহ ৩৫টি দেশের বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে একত্রিত হয়ে একটি গবেষণা করেছে। যেখানে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ এবং দূষণকারী উপাদানগুলি তদন্ত করার জন্য সৈকতে পাওয়া বা উৎপাদনের সময় হারিয়ে যাওয়া প্লাস্টিক প্যালেট এবং ক্রয়কৃত পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক প্যালেট চিহ্নিত করেছে। এই গবেষণাটি ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়।
এই গবেষণার অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ থেকে এনভায়রনমেন্ট অ্যা- সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে এবং বাজারের পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক থেকে প্যালেট স্যাম্পলিং করেছে।
গবেষণায় প্যালেটে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ এবং দূষণকারী পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে যা মানুষ এবং পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। এই রাসায়নিক পদার্থগুলো স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে যেমন ক্যান্সার বা হরমোনাল সমস্যা (যা এন্ডোক্রাইন ডিসরাপশন নামে পরিচিত), প্রজনন সমস্যা এবং মস্তিষ্কের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ইত্যাদি। এছাড়াও এসব রাসায়নিক পদার্থগুলোর আরও নানাভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং পরিবেশে অনেক দিন বিদ্যমান থাকে।
গবেষণাটি মোট ১৮টি যৌগের উপর করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১১টি ব্রোমিনেটেড ফ্লেম রিটাডেন্ট, ৬টি ইউভি-স্ট্যাবিলাইজার এবং বিসফেনল এ।
১৮টি পদার্থের মধ্যে ১২টি পদার্থেই এন্ডোক্রাইন ডিসরাপশন ক্যামিকেলসর উপস্থিত পাওয়া গিয়েছে।

যখন পেলেটগুলিতে ব্রোমিনেটেড ফ্লেম রিটাডেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকে, তখন এর অর্থ হল যে ই-বর্জ্য থেকে পাওয়া পলিমারগুলি পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানগুলিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। যখন পেলেটগুলি বিসফেনল এ অন্তর্ভুক্ত করে, তখন এর অর্থ হল পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়ায় পলিকার্বোনেট প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে ।
এসডো- এর গবেষণা ও বাংলাদেশের ফলাফল:
পরিক্ষীত ৩ ধরনের রাসায়নিক পদার্থগুলো প্যালেটগুলোতে পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চারটি যৌগ ছিল: একটি ফ্লেম রিটাডেন্ট, দুটি ইউভি স্টেবিলাইজার এবং বিসফেনল-এ। এই নমুনাগুলিতে এন্ডোক্রাইন ডিসরাপশন ক্যামিকেলের উপস্থিত পাওয়া গিয়েছে। রাসায়নিক দূষণের কারণে এই প্যালেটগুলি নতুন পণ্যগুলিতে ব্যবহারের জন্য অনুপযুক্ত।
এসডো- এর সেক্রেটারি-জেনারেল এবং বিচ প্যালেট গবেষণার অন্যতম লেখক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেছেন, এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে যে প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্লাষ্টিকের ক্ষতিকর দিকগুলোর উপর নজর দেয়া আবশ্যক। তিনি বিভিন্ন রাসায়নিকের প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। ব্রোমিনেটেড ফ্লেম রিটার্ডেন্টস (বিপিএ) সাপ্রতিককালে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা টিস্যুতে জমা হয়, ক্যান্সার সৃষ্টি করে, হরমোনাল পরিবর্তন ঘটায়, প্রজনন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে মানসিক ব্যাধি সৃষ্টি করে। এছাড়াও, তিনি শিশুদের খেলনাগুলিতে উপস্থিত এন্ডোক্রাইন-ডিসরাপ্টিং কেমিক্যালস এবং এ দ্বারা তৈরী সমস্যাগুলোর উপর জোর দিয়েছেন, সেইসাথে কীভাবে তা বাচ্চাদের মধ্যে স্নায়ু আচরণগত সমস্যা সৃষ্টি করে তা ব্যাখা করেছেন।

আন্তর্জাতিক:
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, বিভিন্ন দেশ প্লাস্টিকের উপর আলোচনা করতে জাতিসংঘের পরিবেশ পরিষদে মিলিত হবে, যা মূলত বর্জ্য এবং সামুদ্রিক বর্জ্যের উপর জোর দিবে। আইপেন এর মতে, নতুন গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে প্লাস্টিক অনেক বেশি হুমকি স্বরূপ, বিশেষত নি¤œ এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলির জন্য যারা প্রাথমিকভাবে প্লাস্টিক উৎপাদন বা ব্যবহারের জন্য দায়ী নয় তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কারণ তাদের এসব বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ক্ষমতা নেই৷ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব হুমকি মোকাবিলা করা দরকার। এটি অনুমান করা হয় যে প্লাস্টিকগুলিতে ১০,০০০ -এর বেশি রাসায়নিক পদার্থ উপস্থিত রয়েছে; এর মধ্যে প্রায় ৫০০০ রাসায়নিক সংযোজন যা পণ্যের কার্যকারিতায় অবদান রাখে। বর্তমানে শুধু কিছু রাসায়নিক পদার্থগুলোই আইনের আওতা ভুক্ত, বাকিগুলো আইনের বাইরে। বিচ প্যালেট গবেষণায় মূল্যায়ন করা রাসায়নিকের মধ্যে দশটি ইউভি স্টেবিলাইজার এবং ১৩টি পলিক্লোরিনেড বাইফেনাইল (পিসিবি) অন্তর্ভুক্ত ছিল। পুনর্ব্যবহৃত প্যালেটগুলো গবেষণা মূল্যায়ন হয়েছে ১১টি ফ্লেম রিটাডেন্ট; বিসফেনল এ; এবং ছয়টি ইউভি লাইট স্টেবিলাইজার।

প্রাথমিকভাবে বর্জ্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যে প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু আইপেন এবং আইপিডাব্লিও এর মতে, প্লাস্টিক উৎপাদন, পরিবহন, ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার এবং নিষ্পত্তির সমস্ত ধাপগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া দরকার এবং নিয়ন্ত্রকদের প্লাস্টিকের হাজার হাজার বিষাক্ত রাসায়নিক সংযোজন দ্বারা সৃষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
এসডো এবং আইপেন-এর আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক চুক্তির জন্য আহ্বান:
প্লাস্টিক উৎপাদনে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে, প্লাস্টিকের প্রয়োজনীয় ব্যবহারগুলি চিহ্নিত করতে হবে অন্যান্য সমস্ত উৎপাদন হ্রাস করতে হবে এবং প্লাষ্টিক উৎপাদনের অবৃত্তাকার চক্র বন্ধ করতে হবে;  প্লাষ্টিক উৎপাদনকারীদের এই উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যের দ্বায়িত্ব নিতে হবে।
প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবহারের শেষ পর্যায়ের পরিণতি কি তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, আবর্জনা নির্গত না হয় বা জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান না রাখে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বর্জ্য রপ্তানি এবং পুড়িয়ে ফেলা নিষিদ্ধ করতে হবে; এবং   বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণের জন্য তহবিল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ইতিমধ্যে যেহেতু রাসায়নিক এবং প্লাস্টিক শিল্পগুলি তাদের পণ্যগুলিতে ব্যবহৃত উপাদান প্রকাশ করে না, সেজন্য রাসায়নিক এবং প্লাস্টিক শিল্প মালিকদের এই বিষয়ে স্বচ্ছ থাকতে হবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর