× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার , ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজে ধীরগতি

শেষের পাতা

আল-আমিন
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার
ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজে ধীরগতি চলছে। এখন পর্যন্ত মাত্র পিলার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। যা মোট কাজের ৩০ শতাংশ বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের ছোবলের পর টার্মিনালের কাজের গতি কমে যায়। সেখানকার একাধিক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়। পরে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের বড় অংশ কাজ ফেলে বাড়ি চলে যায়। পরে কিছু শ্রমিক কাজে যোগ দিলেও যে পরিমাণ প্রকল্পের কাজ হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। এছাড়াও প্রকল্প এলাকা থেকে পাঁচ দফা শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।
ওই বোমাগুলো ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়কার বলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা জানিয়েছিল। পরে ওই বোমাগুলো বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিষ্ক্রিয় করে। বোমা আতঙ্কে অনেক শ্রমিক আবার পিলার স্থাপনের জন্য মাটি সরাতে ভয় পাচ্ছিলেন।
প্রকল্পের পরিচালকবৃন্দ শ্রমিদের আশ্বস্ত করেন যে, সেখানে আর কোনো বোমা নেই। এরপর শ্রমিকরা সেখানে ফের কাজ শুরু করেন। এই দু’টি কারণে প্রকল্পের কাজে বড় ধাক্কা লাগে। তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, টার্মিনালের ডিজাইনগত মান বৃদ্ধির জন্য নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও ৬ মাস বাড়তে পারে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটি শেষ হতে পারে। বিশ্বের বিখ্যাত মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন ও স্যামসাং যৌথভাবে এ প্রকল্পের কাজটি করছে। প্রকল্পে বর্তমানে কাজ করছেন প্রায় ১২০০ শ্রমিক। এই কাজ শেষে হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মান আরও উন্নত হবে। এতে করে বছরে উন্নত সেবা দেয়া যাবে আরও ২০ লাখ যাত্রীকে। পাশাপাশি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত। বেশি রাজস্ব পাবে সরকার।
তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৪শে অক্টোবর অনুমোদন পায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে। শুরুতে টার্মিনালটি নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে অবশ্য প্রকল্প ব্যয় ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়। সব মিলে এখন প্রকল্পটির খরচ ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় প্রকল্পের পরিচালক  মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে জানান, ‘প্রকল্পের কাজ ৩০ শতাংশ  সম্পন্ন হয়েছে।’  
তৃতীয় টার্মিনালের ভেতরের ভবনটির নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন। সিঙ্গাপুরের চ্যাংগি এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩, চীনের গুয়াংজুর এটিসি টাওয়ার ভবন, ভারতের আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্থাপনার নকশাকার তিনি। এ ছাড়াও মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, ব্রুনাই, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পের নকশা করেছেন এই বিখ্যাত স্থপতি।
সূত্র জানায়, তৃতীয় এই টার্মিনালে থাকছে ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ৩৭টি বিমান পার্ক করার জায়গা, ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি রাখার সুবিধা, ৬৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি আমদানি-রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্স ও ১১৫টি চেকইন কাউন্টার। এ ছাড়াও থাকবে রাডার, কন্ট্রোল টাওয়ার, অপারেশন ভবন ও বহুতল কারপার্ক।
সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের পিলার স্টিলের হবে না কংক্রিটের হবে তা নিয়ে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধা কাজ করে। পরে এর সমস্যার সমাধান হয়। এ ছাড়াও তৃতীয় টার্মিনালের আয়তন বাড়ানো হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা হলে নির্মাণকাজে ধীরগতি আসে। সেই বিষয়টিও সুরাহা হয়েছে। প্রকল্পে যে পরিমাণের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ নির্ধারণ করা হয়েছে তারাই প্রেক্ষিতে চলছে বিশাল নির্মাণযজ্ঞ। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই টার্মিনালের কাজ সম্পন্ন হলে শুধুমাত্র শাহজালাল বিমানবন্দরেই বছরে ২ কোটি যাত্রীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরে বছরে ৮০ লাখ যাত্রীর সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। টার্মিনালের কাজ শেষ হলে যাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং দেশের আরও দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চাপ কমে আসবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর