× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার , ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

নাসিক নির্বাচন /পরীক্ষাটা আইভীর ভাবমূর্তিরও

প্রথম পাতা

সাজেদুল হক, ঢাকা, বিল্লাল হোসেন রবিন ও শাহনেওয়াজ ব
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার

রাজনীতিতে তার আসা উত্তরাধিকার সূত্রে। বিখ্যাত পিতার কন্যা। কিন্তু অল্পদিনেই নিজেকে আলাদা করেছেন অন্যদের থেকে। উচ্চ শিক্ষিত। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেও জয়ী হয়েছিলেন শামীম ওসমানের মতো প্রভাবশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ভোটের রাজনীতিতে পর্দার আড়ালে নানা খেলা হয়। অত্যন্ত পারদর্শিতার সঙ্গে বিরোধী ভোট টেনেছিলেন নিজের বাক্সে।
বিএনপির হিসাবও সহায়ক ছিল তার জন্য। পরের ভোটে অবশ্য উতরে যান নৌকা প্রতীক নিয়েই।

একটা সময় ছিল ভোটারদের বলা হতো একদিনের বাদশাহ। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও ছিল। সেদিন অবশ্য এখন আর নেই। যদিও নারায়ণগঞ্জে ভোটের আগেও পুরনো আলোচনা নতুন করে ফিরে এসেছে। রেফারি নির্বাচন কমিশন নিয়ে অবশ্য তেমন কোনো উচ্চবাচ্য নেই। হুদা কমিশনের জন্য এটা পরীক্ষাও নয়। তবে আগামী ১৬ই জানুয়ারি রোববার ভিন্নরকম এক পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ নির্বাচনে জয়ী হওয়া তো তার একটা চ্যালেঞ্জ বটেই। কিন্তু সম্ভবত এটাই তার প্রধান চ্যালেঞ্জ নয়। চেয়ারে থাকলে নানা বিতর্ক হয়। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা আইভীর ক্ষেত্রে যে তা একেবারে হয়নি তা নয়। কিন্তু মাথা তার উঁচুই ছিল। এবার সে ভাবমূর্তি কি তিনি ধরে রাখতে পারবেন? গায়েবি ভোটের কোনো দাগ কি তার হাতে লাগবে? সব কিছু ছাপিয়ে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সম্ভবত এ চ্যালেঞ্জটা আইভী নিজেও বুঝতে পারছেন। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ যেন পরিচ্ছন্ন থাকে। আমার নারী ভোটাররা যেন আসতে পারে। আমি সব সময় শান্তির পক্ষে। আমি মনে করি না যে, সেরকম কিছু হবে আমার তরফ থেকে। গত তিন নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন তার জন্য বেশি চ্যালেঞ্জিং স্বীকার করেছেন তিনিও।

পাল্টে গেছে দৃশ্যপট
রাত পোহালেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। শেষ হয়েছে মাঠের প্রচারণা। গতকাল শেষ দিনে নগরীর অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন প্রার্থীরা। প্রার্থনা করেছেন ভোট। দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সর্বত্রই এখন আলোচনা। কেমন হবে ভোট? মানুষ ভোট দিতে পারবে তো? এতদিন ভোট নিয়ে প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও এক বৈঠককে ঘিরে পাল্টাতে শুরু করেছে দৃশ্যপট। চলছে নানা আলোচনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের তিন নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম। এ সময় জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ও পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকের পর থেকে প্রার্থীরা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। করছেন নানা অভিযোগ। তারা বলছেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ শুরু থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ অনেকটা শান্তিপ্রিয় ছিল। কিন্তু এই বৈঠকের পর থেকে আমরা আশঙ্কা করছি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে। যদিও বৈঠকের বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এটি অনির্ধারিত বৈঠক হলেও এ নিয়ে গুঞ্জন বা আলোচনার কিছুই নেই। এটা কোনো গোপন বৈঠক ছিল না। আর এতে লুকানোর কিছুই নেই। এদিকে এমন বৈঠকে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। মানবজমিনকে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যদি কোনো কাজে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এটা তো নির্বাচনে সম্পৃক্ত হয় না। নির্বাচনের বিধিনিষেধের নির্ধারিত সময় পরে তারা বৈঠক করেছেন কি-না আমি তো সেটা জানি না। তবে দিন শেষে এটা দেখা উচিত- নির্বাচনে প্রশাসনের যারা দায়িত্বে আছেন তারা অবৈধভাবে কারো পক্ষে কোনো সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে কিনা। আর যদি এটা হয়ে থাকে তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।   

এমন বৈঠক জনমনে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার মানবজমিনকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের হোটেলগুলো চেক করলে দেখা যাবে, সরকারি দলের বিভিন্ন জেলার লোকজনকে এনে রাখা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ডিসি-এসপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে জনমনে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার বক্তব্য ও দেখা করতে যাওয়ার সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত, তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও না। এটা আমি অন্যায় মনে করি। একজন উচ্চপর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের জনগণ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা মাসুম বিল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন বৈঠক নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বলে আমরা মনে করি। এটা নির্বাচনের জন্য অশুভ সংকেত। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ হয়ে থাকে তাহলে তারা এ বৈঠকে কি কথা হয়েছে জনগণের কাছে তা উপস্থাপন করবেন। আমরা মনে করি- এটা একটা চক্রান্ত। আমরা এমন ডিসি, এসপির প্রত্যাহার দাবি করছি।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে কিছু জানেন না জানিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আমি ঠিক জানি না উনারা কী আলাপ করেছেন। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা সব ওয়ার্ডে গেছেন। তারা দেখেছেন ভোটারদের কাছে আমার অবস্থান কী। আমার মনে হয় না যে, কেন্দ্রের নেতারা এখানে কাউকে প্রভাবিত করছেন। উনারা হয়তো অন্য কোনো কারণে এখানে পর্যবেক্ষণে এসেছিলেন। অবজার্ভ করছেন। এখানে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, অথবা নিজ দলে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেসব বিষয়ই দেখতে হয়তো উনারা এসেছিলেন।  

ভোটের সমীকরণ
শেষ সময়ে এসে ভোট নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ। সবাই চায় যার হাত ধরে নগরবাসীর উন্নয়ন হবে তিনিই নির্বাচিত হোন। এর মধ্যে ভোট দেয়া নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, নৌকা এবং হাতির মধ্যেই মূলত ‘যুদ্ধ’টা হবে। প্রচার প্রচারণা দু’জনই সমান তালে চালিয়েছেন। দুই প্রতীকের অবস্থানে খুব বেশি দূরত্ব নেই। সে কারণে নারী ও নতুন ভোটারদের দৃষ্টি যেখানে পড়বে তাদের পাল্লাই ভারী হবে। প্রধান দুই প্রার্থী ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মো. মাসুম বিল্লাহ।

২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ভোট। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী এ বি এম সিরাজুল মামুন, ঘোড়া মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির হাতঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মো. রাশেদ ফেরদৌসও গিয়েছেন ভোটারদের কাছে। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে সবার দৃষ্টি এখন নৌকা আর হাতির দিকেই।

ভোটের মাঠে যত ফ্যাক্টর
টানা ১০ বছর নগরমাতার দায়িত্ব পালন করে নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজ এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের আস্থা অর্জন করেছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু মেয়র হিসেবে তিনি কতটা সফল? প্রচারণা শেষে এমন প্রশ্নও ঘুরছে নগরবাসীর মুখে মুখে। আইভীর সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তাছাড় এবারের নির্বাচনে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রচারণা শেষ করেছেন আইভী। বিগত দু’টি নির্বাচনে তার প্রচারণার অগ্রভাগে যাদের দেখা গেছে এবার তাদের কেউ ছিলেন না। তবে আইভী গতকালও জোর দিয়ে বলেছেন তার বিজয় নিশ্চিত। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি শঙ্কার কথাও বলেছেন। গতকাল তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, নৌকাকে পরাজিত করতে দলের ভেতর ও বাইরের সব পক্ষ মিলে গেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রচারণায় এসে ঘোষণা দিয়েছেন আইভী লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করবেন।

তবে আইভীর আগের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে ২০১১ সালে তার নির্বাচনী ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য নারায়ণগঞ্জে একটি অত্যাধুনিক মেডিকেল কলেজ, পূর্ণাঙ্গ একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, শীতলক্ষ্যা নদীকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, পুরো সিটি করপোরেশন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরে আধুনিক পার্ক নির্মাণ- এসব ২০২১ সালেও আলোর মুখ দেখেনি।

২০১৬ সালে আইভীর নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে কার্বণমুক্ত, পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, নতুন বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সিটি সার্ভিস চালু, শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষণমুক্ত রাখার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ এগুলোও বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া দীর্ঘ ১০ বছরে চালু হয়নি সিটি সার্ভিস ও আধুনিক গণপরিবহন। শহরের নিত্যদিনের যানজট নিরসনে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপও নেয়া হয়নি। মাদক নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণে ছিল না কোনো পদক্ষেপ। নগরীর সকল সড়কে স্থাপন হয়নি এলইডি লাইট। যদিও ২০১৬ সালের নির্বাচনে নিজের ইশতেহারে নগরের উন্নয়নে ২১টি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন আইভী। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ১৬টি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল ৫টি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় আইভী দাবি করেছেন, ওই ইশতেহারের ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি। মাত্র ১০ ভাগ কাজ বাকি। তবে আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের অনুসারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন- বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল, সিটি সার্ভিস, ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ এবং শীতলক্ষ্যা দূষণমুক্ত করতে তেমন কোনো ভূমিকাই রাখেননি আইভী। ৯০ ভাগ ইশতেহার বাস্তবায়নের দাবিও ঠিক নয়।

নগরবাসীর মতে, রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন আইভী। কিন্তু দৃশ্যমান দু’টি মেগা প্রজেক্টের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। এর একটি নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ রাসেল নগর পার্ক ও সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ডিএনডি খালকে লেকে রূপান্তরিত করে দুইপাড় বাঁধাই করে বিনোদন কেন্দ্রের উপযোগী করা।  যদিও এই দু’টি প্রকল্প নিয়ে রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের আপত্তি রয়েছে।

নগরের মণ্ডলপাড়া ব্রিজ এবং বাবুরাইল খাল খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। এতে করে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নগরের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নির্মাণাধীন ব্রিজটির কারণে প্রতিনিয়ত যানজটে পড়ে নাকাল হচ্ছেন। মণ্ডলপাড়া ব্রিজের পাশের চা দোকানি আবদুর রহমান বলেন, ‘তিন বছর ধরে ব্রিজ নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু শেষ হচ্ছে না। এতে করে ওই এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। সেই সঙ্গে ধুলাবালিতে ব্যবসা করা দায়। ব্রিজের কাজ শেষ হলে এই এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমতো।

ট্যাক্স বাড়ানোর ঘটনায় আইভীকে ঘায়েল করে প্রচারণা চালিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেন- মোট ২২ শতাংশ ট্যাক্সের মধ্যে জমি ও ইমারতের ওপর ৭ শতাংশ, সড়ক বাতির ওপর ৫ শতাংশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৭ শতাংশ এবং পানি সরবরাহের জন্য ৫ শতাংশ। করোনার মহামারিতে তিনি ট্যাক্স কমাননি। বরং বাড়িয়েছেন। তবে ডা. আইভী বরাবরই দাবি করেছেন তিনি ট্যাক্স বাড়াননি। এটা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা।

কঠোর  নিরাপত্তাবলয়ে নগরী
গত ২৮শে ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রচারণায় নামেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৩৬ ঘণ্টা আগে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করতে হয়। সে হিসেবে গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত চলে প্রচার কার্যক্রম। এ দিন দুপুর থেকেই মাইকিং করা হয় রাত ১২টার মধ্যে বহিরাগতদের নাসিক এলাকা ছাড়তে। প্রচারণা শেষ হওয়ার পর গতকাল মধ্যরাত থেকেই কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে রয়েছে নাসিক নির্বাচনী এলাকা। র‌্যাব, পুলিশের স্পেশাল টিম রবোকপ, বিজিবি, পুলিশ, আর্মড পুলিশ, আনসারসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। রাত ১২টা থেকে নগরীতে মোটরসাইকেল চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ৩০টি মোবাইল কোর্ট কাজ করছে। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গতকাল শুক্রবার থেকে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া আগামীকাল ভোটগ্রহণের দিন দায়িত্বে থাকবে বিজিবির ২০ প্লাটুন সদস্য। মোতায়েন থাকবে পুলিশের ৩ হাজার সদস্য, ২০০ প্লাটুন আর্মড পুলিশ সদস্য।

প্রচারণায় ছিল না স্বাস্থ্যবিধির বালাই
করোনার প্রকোপ বাড়ায় বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে চলছে বিধিনিষেধ। এর মধ্যে চলছে নাসিক নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেয়া থাকলেও এটা মানেননি কোনো প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা। জনসংযোগে কোথাও ছিল না স্বাস্থ্যবিধির বালাই। ছিল না মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্ব। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও ভক্ত-অনুসারীদের নিয়ে শোডাউন করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। অন্যদিকে তৈমূর আলম খন্দকারও ভক্ত-অনুসারী নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা মাসুম বিল্লাহ নগরীতে ব্যাপক শোডাউন করেছেন। প্রচারণার এমন বাস্তবতায় প্রশাসন বা রিটার্নিং অফিস থেকে কাউকে অভিযান চালাতে দেখা যায়নি।

মক ভোটিং অনুষ্ঠিত
নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হবে। প্রথমবারের মতো নাসিক নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দেবেন ভোটাররা। গতকাল প্রতিটি কেন্দ্রে মক ভোটিংয়ের (ভোটারদের প্রশিক্ষণ) আয়োজন করা হয়। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে সব প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার উপস্থিত থেকে মক ভোটিং সম্পন্ন করেন। মক ভোটিং শেষে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ইভিএমসমূহ উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে বুঝিয়ে দেন। নারায়ণগঞ্জে এবারের নির্বাচনে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৯২টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৩৩৩ ভোটকক্ষে। নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৩৪ জন ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ৭:৪৭

এক কথায় বলা যায় মেয়র হিসেবে ১০ বছর সেলিনা হায়াৎ আইভী সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থা হয়েছেন। তিনি ২০১১ ও ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে নগর বাসীর সঙ্গে যেসব ওয়াদা করেছিলেন তার একটিও তিনি পূরণ করেনিন। যানজট, জলাবদ্ধতা, কার্বনদূষণ দূর করা হয়নি। শীতলক্ষ্যা নদীতে কারখানার বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি। নদীর পানি এককালে ছিলো স্বচ্ছ, পানযোগ্য। এখন দূষিত পানির উপর দিয়ে নৌকায় নদী পারাপারের সময় গন্ধ পাওয়া যায়। নাক চেপে ধরতে হয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়নি। মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেননি তিনি। একটি পার্ক, মর্নিং ওয়াকের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ তিনি করেননি। মোটকথা তাঁর কোনো প্রতিশ্রুতিই তিনি পূরণ করেনিন। তাই এবারের নাসিক নির্বাচনে তিনি নগর বাসীর উন্নয়নের কোনো ওয়াদা করেনিন। তিনি হকার উচ্ছেদ করেছেন, পুনর্বাসনের চিন্তাও করেননি। তিনি ব্যর্থ মেয়র। নগর বাসীর উন্নয়নের কথা বাদ দিয়ে তিনি এবার তাঁর ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য বিজয়ী হতে চান।

অন্যান্য খবর