× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার , ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

হারিছ চৌধুরী লন্ডনে নয়, মারা গেছেন ঢাকায়, জানালেন ব্যারিস্টার কন্যা সামিরা

প্রথম পাতা

মতিউর রহমান চৌধুরী
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী লন্ডনে নয়, ঢাকায় মারা গেছেন। এটা নিশ্চিত করলেন হারিছ চৌধুরীর বিলেত প্রবাসী কন্যা সরকারি চাকরিজীবী ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। যদিও বাবার খবর জেনে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। কবে মারা গেলেন হারিছ চৌধুরী? দিন, তারিখও জানা গেল তার কাছ থেকে। করোনাসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছর ৩রা সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের মেধাবী ছাত্র ১/১১-এর পর থেকে টানা ১৪ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সামিরা জানালেন, আব্বু আসামে কিংবা লন্ডনেও যাননি। বাংলাদেশেই আত্মগোপনে ছিলেন।
তবে কোথায় ছিলেন, কীভাবে ছিলেন তা তিনি খোলাসা করলেন না। তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, চাচা আশিক চৌধুরী বলেছেন- লন্ডনে মারা গেছেন। সামিরার সোজাসাপ্টা জবাব, কেন তিনি বলেছেন সেটা আমি বলতে পারবো না। তিনিই ভালো বলতে পারবেন। দাফন হলো কোথায়? সামিরা তখন কাঁদছেন। কয়েক সেকেন্ড পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বললেন, ঢাকায়। কোন গোরস্থানে? দূরে, অনেক দূরে। ঢাকার বাইরে। যেখানে যেতে এক-দেড় ঘণ্টা গাড়ি চালাতে হয়। আত্মগোপনে থাকার সময় কি তার সঙ্গে কথা হতো? না, আমি কখনো কথা বলতে পারিনি। আমার ভাই ইঞ্জিনিয়ার নায়েম শাফি চৌধুরীর সঙ্গে কথা হতো। সে এখন সুইজারল্যান্ডে সিনিয়র এনার্জি অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত। শুনেছি তার সঙ্গে দু’-একবার কথা হয়েছে। চাচা আশিক চৌধুরী জানতেন বলে শুনেছি। গ্রামের বাড়িতে দাফন হলো না কেন? চাচা আশিক চৌধুরী সাহস করতে পারেননি। তিনি তখন আমাদের বলেছেন- কোনো অবস্থাতেই গ্রামে নিয়ে এসো না। বারবার তিনি নিরাপত্তার কথা বলেছেন। তখন ভয় পেয়ে যাই। বাস্তব অবস্থা এমনই। কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। উপায় কি! বন্ধু-বান্ধবদের পরামর্শে বাবার লাশ গ্রামে নেয়া থেকে বিরত থাকলাম। সামিরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়লেন। স্বাভাবিক হতে সময় লাগলো। এসব প্রশ্ন না করলেই কি নয়! কি আর বলবো। একা একা বাবাকে গোসল করাতে নিয়ে গেলাম। কাউকে জানাইনি।

বাবার সঙ্গে কবে শেষ কথা হয়? ২৪শে আগস্ট লন্ডন থেকে ফোনে আব্বুর সঙ্গে কথা হয়।  কথাবার্তা ছিল অগোছালো, অস্পষ্ট। কথা বলতে পারছিলেন না। হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছিলেন। কি বললেন? কাউকে বলো না মা, চলে এসো। তোমাকে দেখার বড় ইচ্ছে। তোমার বাবুটাকেও নিয়ে এসো। ২৬শে আগস্ট ঢাকায় পৌঁছার পর হাসপাতালে প্রথম দেখা। তখন তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। শুনেছি এর আগে তাকে একটি ছোটখাটো হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। কারা নিয়ে গিয়েছিল সেটা সামিরা জানেন না। যাইহোক, এক পর্যায়ে নেয়া হলো তাকে লাইফ সাপোর্টে। মাত্র ৬ দিন বেঁচে ছিলেন। প্রতিদিন হাসপাতালে যেতাম ঝুঁকি নিয়ে। করোনার ভয়ে চিকিৎসকরা নিষেধ করতেন। ২রা সেপ্টেম্বর চিকিৎসক বললেন, আর আশা নেই। লাইফ সাপোর্টে রাখতে পারেন, কিন্তু কোনো লাভ হবে না। জোর করে আরও একদিন রাখলাম। তখন আব্বুর কপালে লিখে দিলাম, ‘আল্লাহু’, যেটা দাদুর কপালেও লিখে দিয়েছিলাম। এরপর কি হলো? নিথর একটি মৃতদেহ পেলাম। রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা হারিছ চৌধুরী তখন চলে গেছেন অন্য জগতে। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। এম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে ছুটে গেলাম দূরের এক ঠিকানায়। যেটা আগেই উল্লেখ করেছি। সামিরা অনেক কিছুই বললেন। তবে আমার মনে হলো, সবটা বললেন না। কিছুটা সেন্সর করেই বললেন। এক পর্যায়ে বললেন, বাবার সম্পত্তি গ্রামে রয়েছে। ঢাকায় কোনো সম্পত্তি নেই। গ্রামে স্কুল, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। যা দেখভাল করেন আশিক চৌধুরী। সিলেটের কানাইঘাটের বুনিয়াদি পরিবারের সন্তান হারিছ চৌধুরী এসেছিলেন সরবে। চলে গেলেন নীরবে। এটাই বোধ করি নিয়তি।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Abdullah Ahmad
১৬ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার, ৩:০৩

এটাই সত্যি শুনে অবাক হলাম, একজন ভালো মানুষ দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি উনাকে জাননাতুল ফেরদৌস দান করেন। আমিন

শামীম হাসান
১৬ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার, ৩:৩০

ক্ষমতা-ক্ষমতা-ক্ষমতা। ক্ষমাতার দম্ভ কত ঠুনকো!!!!!!! অসীম ক্ষমতা ধর হারিছ চৌধুরী দের এটাই পরিনীতি। তার জন্য বি এন পি তো কিছুই করে নি বরঞ্ছ তার নাক কোনদিন গুম লিস্টে দেয় নি-আবার বলে ও নি সে পলাতক ছিল।

এ,টি,এম,তোহা
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৯:৫৭

বিএনপির দেউলিয়া রাজনীতির উদাহরণ হয়ে থাকলো হারিছ চৌধুরী। তিনি যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না। যুদ্ধাপরাধীদের দাফন তাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ বাড়িতে হয়েছিল। তাহলে মৃত হারিছ চৌধুরীকে দাফন করতে বিএনপি এবং হারিছ চৌধুরী পরিবারের এত কুন্ঠা এবং ভয় কেন? লাশ দাফনে সরকার বাধা দিলে সেটা দিয়ে তো বিএনপি লাভবানই হতো। স্টুপিড পলিটিক্স।

Adv.N.I.Bhuiyan
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ১০:১০

বিএনপি তার নেতাকর্মীদের রক্ষা করতে পারছে না বিএনপির উচিত ছিল হারিছ চৌধুরীরকে আত্মগোপন থেকে বাহিরে নিয়ে আসা, প্রয়োজনে জেলে যেতে পারত ,এমনকি জেলখানায় মৃত্যু হতে পারত: তা একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য অনেক সম্মানের হত বিএনপি তার পক্ষে কথা বলত তার পক্ষে লড়াই করা উচিত ছিল কিন্তু তার কিছুই করা হলো না ।অতিসম্প্রতি ঢাকা মহানগরীতে এর আগে পাবনা অথবা কুষ্টিয়াতে আদালতে রাজনৈতিক মামলায় কিছু না তা কে সাজা দেওয়া হল বিএনপি'র মুখে কোনও রা নেই ।এভাবে দলীয় দায়ভার ব্যক্তির উপর ও পরিবারের উপর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে এটা কোন রাজনৈতিক দলের কাজ হতে পারে না একইভাবে দেখা যাচ্ছে সাবেকসফল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যার আমলে বাংলাদেশে সন্ত্রাস মুক্ত হয়েছিল সেই বাবর এর পক্ষে বিএনপি কোনো কথা বলছে না ।শুধু শীর্ষ নেতার নামে দণ্ড হলেই দল গরম হয়, বাকি সব পান্তা ভাত । নেতারা কি কিছু ভাববে?বাংলাদেশে কি এভাবেই হারিয়ে যাবে?

Kazi
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ১০:০৭

প্রশাসন খুঁজে পেল না । নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবেই ধরতে চায় নি। ক্ষমতাসীন দলের লোক এমন সব কুকাজ করে না ধরলে অবিচার হয় । নতুবা পরাজিত দলের লোককে ধরা কোন গণতান্ত্রিক রীতি ন

Md Shahidul Islam
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ১০:৪৫

এর থেকে রাজনৈতিক দলের নেতারা কেন শিক্ষা নেন না?

Anisur Rahman
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ৯:৩২

আওয়ামী জাহিলিয়াত কতটা ভয়ংকর ও নির্মম এই ঘটনা তার একটা নমুনা মাত্র!!

KAYES
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ৮:২৭

হায়রে বাংলাদেশ। হায়রে রাজনীতি।

শহীদ
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৯:১৫

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তাকে আত্মগোপনে থেকে মরতে হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রেসিডেন্ট এর সন্তান. তিন বারের প্রধানমন্ত্রীর সন্তান তিনিও নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন বিলেতে। জামায়াত নেতারা তো পালিয়ে যায়নি। ওহ, এ জন্যই তাদের মৃত্যুদন্ড!

Gulam Mahbub
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ৪:৫৯

May Allah forgive him and grant him Jannatul Ferdaus. Ameen.

Sirajul Islam Shahin
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৪:২৭

এটা মেনে নেয়া যায় না। সত্যি যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করছি , '' নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে অনতিবিলম্বে পুন্:দাফন করা হউক ''। দল - পরিবার - স্বজনদের দায়িত্ব আছে। মান - অভিমান - রাজনৈতিক দূরত্বের উর্দ্ধে সিলেটবাসী পাশে দাঁড়াবেন বলে বিশ্বাস করি।

ইস্তিয়াক মাহমুদ মিলন
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ১:১৯

এর থেকে রাজনৈতিক দলের নেতারা কেন শিক্ষা নেন না?

সামসুদিদন চৌধুরী
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ১২:১৬

আমার জীবনে উনাকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। একজন ভাল মানুষ দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি উনাকে জাননাতুল ফেরদৌস দান করেন। আমিন।

আ‌নোয়ারুল
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ১১:৩৪

ইন্না লিল্লা‌হি ওয়া ইন্না ইলাই‌হি রা‌জিউন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সব‌কিছু ভা‌লো জা‌নেন, তি‌নিই উত্তম ফয়সালাকারী।

অন্যান্য খবর