× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৬ মে ২০২২, সোমবার , ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

নাসিক নির্বাচন /ইসি’র শেষ পরীক্ষা

প্রথম পাতা

বিল্লাল হোসেন রবিন/ শাহনেওয়াজ বাবলু, নারায়ণগঞ্জ থে
১৬ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এটি বর্তমান কমিশনের অধীনে সর্বশেষ বড় নির্বাচন। কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মাসে। মেয়াদের শেষ সময়ে ইসি’র অধীনে কেমন হবে নাসিক নির্বাচন? কতোটা ‘সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ’ হবে। এমন আলোচনা সর্বত্র। অনেকে বলছেন, এটা বর্তমান কমিশনের জন্য একটি শেষ ‘পরীক্ষা’। এর আগে বর্তমান কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রায় নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো।
যদিও নাসিক নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করার জন্য সব রকমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ভোটাররা সুন্দর ভাবে এসে ভোট দিতে পারবেন।

সার্বিক বিবেচনায় নাসিক নির্বাচনে ভোট নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা থাকার কথা নয় বলে জানিয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সবচেয়ে কঠিন ছিল। এর পরের নির্বাচন অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতেই পারে। তাই আমি মনে করি না নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে এই কমিশনের কিছু করার আছে। গত দুটি নির্বাচন যেহেতু ভালোই হয়েছে তাই এবারের নির্বাচনে যে মারামারি হবে এটার কোনো স্কোপ নেই। কারণ মেয়র প্রার্থী যারা আছেন তারা সবাই সিটির কেন্দ্রের লোক। তারা একে অন্যের খুবই পরিচিত। আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো টুকটাক মারামারি হয়েই থাকে। এসব বিষয়ের দিকে কমিশনের নজর রাখতে হবে।  
নাসিক নির্বাচনের দলীয় প্রতীকে অংশ নিচ্ছে না মাঠের ও সংসদের বিরোধী দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এড. তৈমূর আলম খন্দকার। যদিও নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তাকে। এদিকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে মেয়র পদে সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইটা হবে এই দু’জনের মধ্যে। নির্বাচনের প্রতীক পাওয়ার পর থেকে শেষদিন পর্যন্ত অনেকটা ঝামেলাহীন ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। তবে শেষদিকে এসে প্রধান দুই প্রার্থীই প্রশ্ন তুলেছেন সুষ্ঠু ভোট নিয়ে। আইভীর অভিযোগ, নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড এবং কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে। যদিও সবকিছু মোকাবিলা করে শেষ সময় পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন তৈমূর আলম।

ইভিএমে ভোট
ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হবে নাসিক নির্বাচনের ভোট। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনের তুলনায় দেড়গুণ ইভিএম রাখা হয়েছে। গতকাল সকালেই নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা আলোচনা। অনেকে বলছেন, এটার মাধ্যমে ভোট হলে এর ‘সুষ্ঠুতা’ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। যদিও ভিন্নমত পোষণ করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, নারায়ণঞ্জবাসীর জন্য ইভিএম নতুন কিছু নয়। এর আগেও সিটি নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোট হয়েছে। তবে ইভিএমের চেয়েও ব্যালটে কারচুপি হয় বেশি। ব্যালট তো ছিনতাই হয়, সিল মারা যায়। ইভিএম ক্যাপচার করলে একজন বসে নিজে ভোট দিতে পারে কিন্তু ভোটার আইডেন্টিফিকেশন তো হয়। বুথ ক্যাপচার হলে কোনো জিনিসই তো সিকিউর না। আর নির্বাচন কমিশন বুথ ক্যাপচার হতে দিবে কেন?

বিধিনিষেধ
নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত নগরীতে বেবি ট্যাক্সি/অটোরিকশা/ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, মোটরসাইকেলসহ স্থানীয় যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে নৌযান চলাচলের ওপর। যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। এ ছাড়া নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক ও কতিপয় জরুরি কাজ যেমন: এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত যানবাহনে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বলয়ে পুরো নগরী
নাসিক নির্বাচন ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চোকপোস্ট। চালানো হচ্ছে তল্লাশি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ নির্বাচনে ১৯২টি ভোট কেন্দ্রে ও কেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ১৯২টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন উপ- পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে থাকবেন পাঁচজন করে পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া আটজন পুরুষ ও চারজন নারী আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। পুলিশের ৩০টি ইউনিট স্ট্রাইকিং ফোর্স গতকাল থেকেই মাঠে কাজ করছে। এ ছাড়া পুলিশের ৭৬টি মোবাইল টিম, র‌্যাবের ৬৫টি টিম, ২০ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রয়েছে। এদিকে ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট টিম ও ৬ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে।

নির্বাচন পর্ববেক্ষণে ৯ সংস্থা
এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ৯টি সংস্থার ৪২ পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংস্থাগুলো হলো- জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ), সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, সমাজ উন্নয়ন প্রয়াস, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা, তালতলা যুব উন্নয়ন সংগঠন, রিহাফ ফাউন্ডেশন, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন এবং মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুস। তবে, পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা মানার পাশাপাশি এসব সংস্থাকে ভোট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের শর্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
একনজরে

ভোটকেন্দ্র: ১৯২টি, ভোটকক্ষ: ১ হাজার ৩৩৩টি, অস্থায়ী ভোট কক্ষ: ৯৫টি, মোট ভোটার: ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১, পুরুষ ভোটার: ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৯, নারী ভোটার: ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৮, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার: ৪, অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা: ৫টি, ১টি মেয়র পদে প্রার্থী: ৭জন, ২৭টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে: ১৪৮ জন, ৯ সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে: ৩৪ জন প্রার্থী।

গত ৩০শে নভেম্বর নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা হলেন- বাংলদেশ আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী (নৌকা), খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী এড. তৈমূর আলম খন্দকার (হাতি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন (বটগাছ), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া)।

ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে: এসপি
তৃতীয়বারের মতো আজ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোট। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন, ‘কাউকে কেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তার করতে দেয়া হবে না। ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। নির্বাচনে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবিসহ পাঁচ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইরে অবস্থিত জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ব্রিফিং দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের এই পরিবেশ  কেউ ভঙ্গ করার চেষ্টা করবেন না।  কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। ভোটাররা নিশ্চিন্তে  ভোট দিতে আসবেন, কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। সারা বিশ্ববাসী  দেখবে, ঐতিহ্যবাহী এই নারায়ণগঞ্জের ভোট কতটা সুষ্ঠু হয়। এটা একটি মডেল নির্বাচন হবে। নির্বাচনে কোনো ধরনের ছাড় এবং অরাজকতা সৃষ্টি করার সুযোগ দেবো না। বহিরাগত কাউকে আমরা নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে দেবো না। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা ও র‌্যাব সদস্যরা থাকবেন। ভোটের দিন (আজ) জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে আপনাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে  দেয়া হবে। আজ অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে বের হবেন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন বহিরাগত কাউকে সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ১৮ বছরের ওপরে যারা নারায়ণগঞ্জ  থেকে বের হবেন- তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।’

শান্তিপূর্ণ ভোট হবে: ডিসি
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সবাইকে আশ্বস্থ করতে চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। ইলেকশন শান্তিপূর্ণভাবে হবে।
গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভোটের সব সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। আরও ৩০ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন। পুলিশের ৭৫টি ও র‌্যাব’র ৬৫টি টিম মাঠে থাকবে। বিজিবিও আমাদের সঙ্গে কাজ করবে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। নির্বাচনের জন্য যারা থ্রেট হতে পারেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেয়া হয়েছে। আশা করি সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছ থেকে লিখিত, ফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো অভিযোগ পাইনি। আমাদের ইলেকশনের রুটিন ওয়ার্ক করছি। দাগি আসামিদের বিরুদ্ধেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’

বহিরাগতদের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের কথা জানি না, সেটা সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এছাড়া কোনো সরকারি বাসস্থানে প্রশাসনের লোক ছাড়া কাউকে স্থান দেয়া হয়নি। সব সেন্টারকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সবাই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারবেন।’
সুষ্ঠ নির্বাচন করতে যা যা করার দরকার করবো: বিজিবি ও র‌্যাব সিইও

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করতে যা যা করা দরকার সব কিছুই করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন নাসিক নির্বাচনে নিয়োজিত র‍্যাব-১১ ও বিজিবি-৬২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও)।

গতকাল জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিমিয় সভায় র‍্যাব-১১ এর সিও তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করবার জন্য আমাদের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত কাজ করছি। প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকদের বলতে চাই, তারা যাতে ভোটারদের সঙ্গে সংযত আচরণ করেন। এবং নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে যে নিয়মগুলো আছে সেগুলো যাতে তারা মেনে চলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু ভোটকেন্দ্রকে টার্গেট করছি না। আমরা এটা সুনিশ্চিত করতে চাই, যাতে করে একজন ভোটার তার বাড়ি থেকে বের হয়ে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে পারেন এবং বাড়িতে ফেরত যেতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা সকল বাহিনী নিচ্ছি। এমনকি ভোটের ফলাফলের পরেও যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে তাই ভোটের পরের দিন পর্যন্ত আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট থাকবে।

বিজিবি’র সিও আল আমিন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল বাহিনী মিলে আমরা ‘টিম নারায়ণগঞ্জ’- হিসেবে কাজ করছি। যেমনটা আপনারা দেখেছেন এখন পর্যন্ত সবকিছুই শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে এবং আমরা আশা করছি আমরা এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার থেকেই আমরা মাঠে আছি এবং বিভিন্ন জায়গায় আমাদের টিম তাদের ক্যাম্প করেছে। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করতে আমাদের যা যা করা দরকার সবকিছুই আমরা করবো।

ভোটকেন্দ্রে বন্ধ থাকবে সিসি ক্যামেরা: রিটার্নিং কর্মকর্তা
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে যদি সিসি ক্যামেরা কাজ করে তাহলে তো বুথের গোপনীয়তা রক্ষা করা হলো না। কাজেই কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকবে। তাছাড়া সব কেন্দ্রে তো সিসি ক্যামেরা নেই। যেখানে আছে সেটা বন্ধ থাকবে।

গতকাল দুপুরে শহরের দেওভোগ এলাকায় মর্গান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

মাহফুজা আক্তার বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের কাজে নেমে গেছেন। আজ (গতকাল) আমরা নির্বাচনী মালামাল বিতরণ করছি। তিনটি ভেন্যু থেকে মালামাল বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো ও পরিবেশও সুন্দর আছে।’
প্রার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে। সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচন টিমের সমন্বয়ে প্রস্তুতি প্রহণ করা হয়েছে। আমাদের সব কার্যক্রমই সম্পন্ন।

এমপিদের নিয়ে আইভীর পথসভা, ব্যবস্থা নেবেন রিটার্নিং অফিসার
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর শুক্রবারের পথসভায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্যদের (এমপি) উপস্থিতির ঘটনায় ফের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মাহফুজা আক্তার। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের
জবাবে মাহফুজা আক্তার আরও বলেন, আচরণবিধির বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরাও তা দেখছে। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। এটা এড়িয়ে যাওয়ার কিছু নেই। তারা যে সভা করেছেন, মঞ্চে কারা কারা ছিলেন তা ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতিবেদন দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

তিনি আরও বলেন, কালকের পথসভার বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমাদের কাছে কেউ প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করেননি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছেন তারা বিষয়টা দেখছেন। কালকে প্রচারণার সর্বশেষ দিন ছিল। আমরা আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই, প্রত্যেকে প্রচারণা চালিয়েছে। তবে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। ফলে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে হয়নি। আমরা আশা করি এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশই থাকবে। সকলে আমাদের সহযোগিতা করবেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর