× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৮ মে ২০২২, বুধবার , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

অভয়নগরের মেম্বার উত্তম হত্যার মূল কিলারসহ ৫ জন অস্ত্রসহ আটক

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে
১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার

যশোরের অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত মেম্বার উত্তম সরকার হত্যাকাণ্ডের মূল কিলার ইকরামুল গোলদার ওরফে জুয়েলকে অস্ত্রগুলিসহ আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় হত্যা মিশনে অংশগ্রহণকারী অপর চারজনকেও আটক করে পুলিশ। আটকদের কাছ থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। গতকাল যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার তার কনফারেন্স রুমে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয় আটক সকলেই চরমপন্থি নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির কিলিং মিশনের সদস্য। এদের অনেকেই বর্তমান সরকারের আমলে অস্ত্র-গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ওয়াদা করে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছিল। কিন্তু এসব চরমপন্থি ক্যাডাররা তাদের পূর্বের পেশায় ফিরে আবারো হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। যার ফলে অশান্ত হয়ে উঠেছে যশোর খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা বিস্তৃর্ণ এলাকা।
দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে গত ১০ই জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হরিশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে সুন্দলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার উত্তম সরকারকে অজ্ঞাতনামা চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করে। পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার মামলাটি দ্রুত তদন্ত ও খুনিদের আটকের নির্দেশনাসহ মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেনকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। যশোর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপন কুমার সরকারের তত্ত্বাবধানে ইন্সপেক্টর শাহিনুর রহমানের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ৪ দিনে যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, তালা ও পাটকেলঘাটা এবং খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মেম্বার উত্তম সরকার হত্যা মিশনের মূল শুটার ডুমুরিয়া থানার রুদাঘড়া উত্তরপাড়া গ্রামের ইসহাক গোলদারের ছেলে নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির কিলিং স্কোয়ার্ডের সদস্য ইকরামুল গোলদার ওরফে জুয়েলকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্য মতে, বিভিন্ন স্থান থেকে হত্যা মিশনের আরও ৪ সদস্যকে আটক করে। এরা হচ্ছে যশোরের অভয়নগর থানার সুন্দলী পূর্বপাড়ার মৃত নিমাই বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, মণিরামপুর থানার সুজাতপুর গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে পল্লব বিশ্বাস, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের মৃত শিবপদ মণ্ডলের ছেলে প্রশান্ত মণ্ডল ও খুলনার ডুমুরিয়া থানার দিঘলিয়া গ্রামের মৃত বিষ্ণুপদ মণ্ডলের ছেলে বিজন কুমার মণ্ডল। এদের মধ্যে প্রশান্ত মণ্ডল ও বিজন কুমার মণ্ডল সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্ত্র জমা দিয়ে ২০১৭ সালে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় কারামুক্ত হয়ে ফের খুনখারাবি শুরু করে। গঠন করে চরমপন্থি নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১০ই জানুয়ারি অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নরে ১নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি মেম্বার উত্তম কুমার সরকারকে স্থানীয় হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক স্কুল মাঠে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রকাশ্যে এই চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে।
 পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা জানায়, তারা সকলেই একটি সংঘবদ্ধ চরমপন্থি ‘নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট’ পার্টির সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজশে দলীয় ছদ্মনাম ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহে বিভিন্ন এলাকায় তাদের হেফাজতে থাকা অবৈধ অস্ত্র-গুলি, বিস্ফোরকদ্রব্য ইত্যাদি ব্যবহার করে হত্যা, চাঁদাবাজি সংঘর্ষের মাধ্যমে গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদের ভয়ে গোটা এলাকার মানুষ মুখ খুলতো না। এরা ভবদহ সংলগ্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলে। এসব এলাকায় এই পার্টির ক্যাডারদের মুখের কথায় আইন। এসব এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মাছের ঘের দখল, লুটপাটসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যার সঙ্গে পার্টি ক্যাডারদের সম্পৃক্ততা ছিল না। আরও জানা যায়, তাদের মধ্যে অনেকেই ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে নতুন দল গঠন করে জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরসহ আশেপাশের জেলাসমূহে বিভিন্ন মাছের ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ড সংঘটন করে থাকে মর্মে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ধৃত আসামি ও পলাতক আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ১০ই জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উত্তম কুমার সরকারকে ৫ লাখ টাকা দাবির চাঁদার না পাওয়ায় স্থানীয় স্কুল মাঠে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর