× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৮ মে ২০২২, বুধবার , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

জকিগঞ্জের ফুলতলীর পীরের ইসালে সওয়াব মাহফিল লোকারণ্য

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার

উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর ১৪তম বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল গত শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়। গতকাল বাদ ফজর এই মাহফিল শেষ হয়। জকিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী ছাহেববাড়ী সংলগ্ন বালাই হাওরে অনুষ্ঠিত এ মাহফিল লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লি জমায়েত হন এ মাহফিলে। গত দুই বছর করোনার কারণে মাহফিল না হওয়ায় এবার বেশিসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। আল্লামা ফুলতলী (র.)-এর মাজার, মাহফিলের প্যান্ডেল, বাজার, রাস্তা-ঘাট সবই ছিল লোকে লোকারণ্য। সকাল সাড়ে ১০টায় এতিমখানার হাজারো এতিমসহ আগত মেহমানদের নিয়ে হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাজার যিয়ারতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় মাহফিলের কার্যক্রম। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বেকার দরিদ্রদের মধ্যে রোজগারের উপকরণ বিতরণ, উপস্থিত জনতার মধ্যে ১০ হাজার প্যাকেট কদুর বীজ ও সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে ছাগল, রিকশা, ঠেলাগাড়ি, চৌকি, সেলাই মেশিন, নগদ অর্থ, শিরনির প্যাকেট  ইত্যাদি সাওয়াব রেসানির উদ্দেশ্যে বিতরণ করা হয়।
মাহফিলে উপস্থিতদের নিয়ে অর্ধশত খতমে কুরআন ও দালাইলুল খাইরাত শরীফের খতম সম্পন্ন করা হয়। তাছাড়া প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রায় পাঁচ হাজার খতমে কুরআন হয়েছে বলে জানা যায়। বাদ জোহর খতমে খাজেগান ও দোয়া শেষে মুরিদীন-মুহিব্বীনের উদ্দেশ্যে তা’লীম-তরবিয়ত ও হৃদয়গ্রাহী বয়ান পেশ করেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর সুযোগ্য উত্তরসুরী উস্তাজুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ্‌ ফুলতলী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদেরকে রোজগার করে জীবনযাপন করার মাধ্যমে আল্লাহর বন্দেগী করতে হবে। একমাত্র আল্লাহর মুখাপেক্ষী ছাড়া দুনিয়ার কারও মুখাপেক্ষী হওয়া যাবেনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজগারের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এক ব্যক্তিকে রোজগারের উপকরণ দিয়ে বললেন, তোমাকে যেন আগামী পনের দিনের মধ্যে না দেখি। তার অর্থ তুমি উপার্জনে নিয়োজিত হয়ে যাও। আমাদের পীর ও মুর্শিদ হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ্‌ (র.) দরিদ্র মানুষকে রোজগারের উপকরণ প্রদান করতেন। তার এ ধারা এখনো অব্যাহত আছে।  আপনারাও মানুষদের মাঝে রোজগারের উপকরণ করবেন। মানুষের মাঝে রোজগারের সম্বল বিতরণ করা নবীজির সুন্নত। বৃক্ষরোপণ একটি উত্তম কর্ম। বৃক্ষ আমাদের নানা উপকারে আসে। মানুষ, পশুপাখীসহ সমস্ত মাখলুক এর উপকার ভোগ করে। তাই সকলকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। একটি কদুর বীজও যদি হয় তা রোপণ করবেন। এ থেকেও অনেক নিয়ামত পাওয়া যাবে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমেও ঈসালে সওয়াব করা সম্ভব। আমাদেরও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত আছে। দেশের যেকোনো প্রান্তে এ বর্মসূচি বাস্তবায়নে আমি প্রস্তুত আছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, স্কুল অব এক্সিলেন্স-এর প্রিন্সিপাল মাওলানা গুফরান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, মাসিক পরওয়ানার সম্পাদক মাওলানা রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী ও তায়্যিবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা মারজান আহমদ চৌধুরী ফুলতলীর যৌথ পরিচালনায় মাহফিলে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আল্লামা নজমুদ্দীন চৌধুরী ছাহেবজাদায়ে ফুলতলী, দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা কবি রূহুল আমীন খান, মাওলানা শিহাব উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, মুফতী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, সুবহানীঘাট কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কমরুদ্দীন চৌধুরী, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ্‌র সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ্‌র মহাসচিব মাওলানা এ.কে.এম মনোওর আলী, জালালপুর জালালিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জ.উ.ম আব্দুল মুনঈম, ফেনী ছাগলনাইয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদ ভূঁইয়া ও দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিছ মাওলানা বদরুজ্জামান রিয়াদ। মাহফিলে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মুহাম্মদ আবু জাফর রাজু, ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা ফখরুদ্দীন চৌধুরী ছাহেবজাদায়ে ফুলতলী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি এডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব, সৎপুর কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা শফিকুর রহমান, ইছামতি কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাশুক আহমদ, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রহীম, জকিগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোশাহিদ আহমদ কামালী, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ্‌র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা ছরওয়ারে জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, সৎপুর কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ নুমান, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা শামসুল ইসলাম, মাথিউউরা সিনিয়র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল আলিম, বুরাইয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী, লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফজলে এলাহী মামুন,  ঢাকা জেলা লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবু সাদেক মুহা. ইকবাল খন্দকার, সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আলহাজ শেখ মকন মিয়া প্রমুখ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ্‌র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ হাসান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ কুতবুল আলম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা নজমুল হুদা খান, তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দুলাল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মোজতবা হাসান চৌধুরী নুমান প্রমুখ।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর