× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৫ মে ২০২২, বুধবার , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৩ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগ /বিবাদ-বিভক্তি ঘোচাতে ঢাকায় আরেকটি বৈঠক

শেষের পাতা

জাবেদ রহিম বিজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিবাদ-বিভক্তি ঘোচাতে কেন্দ্রের নেতারা জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সোমবার ঢাকায় এ বৈঠকটি হয়। এর আগে গত জুন মাসে জেলার সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যেকার সম্পর্কের উন্নয়নে ঢাকাতেই আরেকটি বৈঠক হয়। তবে সোমবারের বৈঠকে জেলার সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকে   জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বিভক্ত জেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম খোকন অর্থের বিনিময়ে শহরে রিকশার লাইসেন্স প্রদান, ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে একক কর্তৃত্ব করার এবং পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোনয়ন বিমুখ করার অভিযোগ তুলে ধরেন জেলা কমিটির শীর্ষ এক নেতার বিরুদ্ধে। জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এসব অভিযোগের জবাব দেন।
বৈঠকে জেলার সরকারদলীয় এমপিদের জেলা কমিটিতে না রেখে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা নিয়েও কথা হয়। সাবেক পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিনকে  দলের কার্যক্রমে না ডাকার অভিযোগ নিয়েও  আলোচনা হয় বৈঠকে। পরে  কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার শীর্ষ নেতাদের সবার সঙ্গে ম্যাচ করে চলার পরামর্শ দেন।  কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সায়ীদ আল মাহমুদ স্বপন বৈঠকটি পরিচালনা করেন। জেলার সংসদ সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদর সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের ক্যাপ্টেন অব. এবি তাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ থেকে নির্বাচিত এবাদুল করিম বুলবুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা আক্তার শিউলী। জেলার নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি ও বর্তমান মেয়র নায়ার কবির, সহ-সভাপতি এডভোকেট আবু তাহের, হেলাল উদ্দিন ও তাজ মো: ইয়াছিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, মঈন উদ্দিন মঈন ও গোলাম মহিউদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম খোকন ও আবদুল হান্নান রতন। বেঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়েও আলোচনা হয়। এতে আগে জেলা সম্মেলন হবে নাকি তৃণমূলের সস্মেলন হবে তা নিয়ে কথা হয়। তাছাড়া  কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত হয়।  
২০১৪ সালের ২৯শে ডিসেম্বর সম্মেলন হয় জেলা আওয়ামী লীগের। এরপর ২০১৫ সালের মে মাসে জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার তোড়জোড় দেখা যায় প্রথম। এ লক্ষ্যে ওই বছরের জুলাই মাসে জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় আশুগঞ্জ, সরাইল, আখাউড়া, কসবা, সদর, শহর ও বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরমধ্যে বিজয়নগর, সদর উপজেলা ও শহর আওয়ামী লীগ এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন হয়। পরে ওই বছর আর সম্মেলন হয়নি। পরের বছর করোনা সংক্রমণের কারণে একেবারেই চাপা পড়ে সম্মেলনের বিষয়টি। গত  ১৮ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে গত ২৭শে নভেম্বর  জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১০ই অক্টোবর থেকে ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে কসবা, আখাউড়া, নবীনগর, নাসিরনগর, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা শাখার সম্মেলন সম্পন্ন করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ৬ই অক্টোবর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের উপস্থিতিতে তৃণমূল প্রতিনিধি সভা ও ৭ই অক্টোবর বর্ধিত সভা করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তখন। কিন্তু কোনোটাই হয়নি।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর