× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

ফের কি বন্ধ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?

শেষের পাতা

পিয়াস সরকার
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার

লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। সবখানেই আঘাত হেনেছে করোনা। সরকার শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছে। এরপরও আক্রান্ত হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এখন সবার মনে একটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে- ফের কি বন্ধ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান? দেশে করোনার প্রকোপ বাড়ছে। গতকাল করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৪০৭ জন। সংক্রমণের হার ২৩.৯৮।
সোমবার আক্রান্তের হার ছিল ২০.৮৮। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগেই বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। আর সব বিশ্ববিদ্যালয়েই খোলা রয়েছে আবাসিক হল।

বুয়েটে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হয়, আটটি হলে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’টি হলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন চারজন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তিনটি হলে চারজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গণরুমের এক শিক্ষার্থীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

আবার কুমিল্লার লাকসামের উপজেলা সদরের পশ্চিমগাঁও সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে শিক্ষক আছেন ৮ জন। গতকাল প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করেছে।

প্রাণঘাতী করোনার আঘাতে চট্টগ্রামে আতিক শাহরিয়ার মাহি নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী পটিয়া সরকারি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার এক শিক্ষক ও দুই কর্মচারী করোনা শনাক্ত হন।

করোনার ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে কীভাবে চলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে গত ৯ই জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রণালয় ও করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক হয়। পরদিন এই বৈঠকের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেভাবে সীমিত পরিসরে শিক্ষাকার্যক্রম চলছে সেভাবেই চালবে।

আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বেসরকারি, জাতীয়, উন্মুক্ত ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী আছে ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫১ জন। এদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ২৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৮ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৩০২ জন। আর নিবন্ধন করেছেন ২৭ লাখ ৩১ হাজার ২৮৭ জন। তার মধ্যে ২৯ লাখ আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাতীয়, উন্মুক্ত ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একটা বড় সংখ্যা আছে। পাবলিক এবং প্রাইভেটে ৯৫ ভাগ টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়েছে।
করোনা থেকে বাঁচতে টিকার প্রতি জোড় দিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রণালয়ে তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত টিকা পেয়েছেন ৮৫ লাখ শিক্ষার্থী। এ বয়সের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ ২৩ হাজার ৩২২ জন।

এখনই কী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল বলেন, এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে ভাবছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে পরিস্থিতি নাজুক হলে অনলাইনে ক্লাস চালু করা হতে পারে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ২-১ দিনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসবো।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে যাতে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস নেয়া যায় সে প্রস্তুতি রাখার জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেখানে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস নেয়া সম্ভব নয় সেখানে অ্যাসাইনমেন্টের ওপর নির্ভর করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্তের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তারা আইসোলেশনে আছেন। মঙ্গলবার ভাইস চ্যান্সেলরদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা বিষয়টি জানিয়েছেন কেউই গুরুতর অসুস্থ নন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত বন্ধের কথা না বলা হলেও টেকনিক্যাল কমিটির একজন সদস্য বলেন, আগামীকাল ফের একটি বৈঠক হবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ না করা হলেও আরও সীমিত আকারে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর