× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৯ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

অনড় ভিসি /আমরণ অনশনে শাবি শিক্ষার্থীরা

প্রথম পাতা

ওয়েছ খছরু ও আরাফ আহমদ, সিলেট থেকে
২০ জানুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার

আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর আমরণ অনশন শুরু করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এখন ভিসি ভবনের সামনেই তাদের অবস্থান। বাইরে শিক্ষার্থীদের অনশন ও বিক্ষোভ চলছে; বাংলোর ভেতরে অবস্থান করছেন ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমদ। এই অবস্থায় সরব হয়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের অনেকেই উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। তাদের ‘সমঝোতায়’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজি না হওয়ায় গতকাল শিক্ষকদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তারা গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন। একই অভিযোগ ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমদেরও।
তবে রোববার সংঘর্ষের সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে আন্দোলন চলাকালে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে গতকাল দুপুরের মধ্যে ভিসির পদত্যাগ দাবি করে আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতভর তারা ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদী গানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। সকালের দিকে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে গিয়ে দুপুরে ফের আসে ভিসি ভবনের সামনে। তার আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুরের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে জানায়, পুলিশ দিয়ে হামলার প্রতিবাদে তারা এক দফা অর্থাৎ ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই আল্টিমেটামের পর ভিসি পদত্যাগ করেননি। এ কারণে তারা আমরণ অনশনে যাচ্ছে। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসি ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হল থেকে বেরিয়ে আসে ভিসি ভবনের সামনেই অনশন শুরু করে। এ সময় মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও একটি বহর সেখানে আসে। তারা জানায়- পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চলবে। এদিকে- দুপুরের দিকে শিক্ষকদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। তারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য ও অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, আমরা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে না। কিন্তু কেউ কেউ শিক্ষকদের নিয়ে গালিগালাজ করছেন। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এজন্য প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান। তাদের ক্ষতি হোক আমরা চাই না। সব কিছুই আলোচনার মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব। কিন্তু আলোচনার জন্য বারবার গেলেও শিক্ষার্থীরা মানছে না। বেলা ২টা পর্যন্ত শিক্ষকরা ওই প্রধান ফটকে তাদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বিকালে ক্যাম্পাসে শিক্ষকরা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেছেন। শিক্ষকরা সামগ্রী বিষয় পর্যালোচনা করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা কয়েকজন শিক্ষক মানবজিমনকে জানিয়েছেন, ওইদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে সেটি নিন্দনীয়। শিক্ষার্থীরা এখন যে আন্দোলনে গেছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঘোলাটে হচ্ছে। তারা ভিসির সঙ্গে দেখা করে এসব বিষয় জানিয়েছেন। এখন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছেন শিক্ষকরা। তারা চাইছেন আন্দোলনও থাকবে না, ভিসিও পদত্যাগ করবেন না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের এই অবস্থানকে মানছে না।

সিন্ডিকেট নির্বাচন বাতিল: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২রা ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চলমান আন্দোলনের কারণে এ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা যায়। গতকাল বুধবার সকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আগামী ২রা ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ডিনদের উদ্বেগ: বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েকদিনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ও বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ। গতকাল বুধবার বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিবৃতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের ডিনবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েকদিনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল হওয়ায় আমরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিনবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী লাঞ্ছিত হওয়ায় আমরা মর্মাহত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্কের চরম অবনতি হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি। এ সময় বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অগ্রগতি ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে সকলের পারস্পরিক সহযোগিতা কামনা করেন ডিনবৃন্দ। বিবৃতিতে ডিনদের মধ্যে স্বাক্ষর করে অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক দিলারা রহমান, অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রোমেল আহমেদ, অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Md. Harun al-Rashid
২০ জানুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১:৩০

মেয়াদ ফুরালে ক্ষমতার মোহভঙ্গ হয়, এটা পরিনতী । নয়তো মেয়াদ নির্ধারনকারি কতৃপক্ষের আগাম মোহভঙ্গকারি টিকা লাগে।

Kazi
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার, ৯:০৫

খেয়ে ধেয়ে অনশন চলছে । কিছুদিন পর আপনাপনি অনশন গুটিয়ে যাবে ।

অন্যান্য খবর