× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২২ মে ২০২২, রবিবার , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

টি-টোয়েন্টির দিন বদলে ফের শুরু বিপিএল

খেলা

ইশতিয়াক পারভেজ
২১ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার

বাংলাদেশ দলকে এখনো খেলতে হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে।  যেখানে আফগানিস্তান খেলে সরাসরি। সবশেষ ওমান ও দুবাইয়ে বিশ্বকাপ আসর থেকে টাইগারদের বিদায় নেয় করুণভাবে। বাছাই পর্বে প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মিশন শুরু করে হার দিয়ে। এরপর সেই গণ্ডি কোনভাবে পার করলেও মূল পর্বে টানা ৫ ম্যাচে হার। এতে প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি খেলার সক্ষমতা নিয়ে! ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির কাঠামো নিয়ে উঠেছে সরাসরি প্রশ্ন। দেশের একমাত্র টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)। যার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে গেল ১০ বছর ধরেই। গেল বছর বিশ্বকাপের আগে এই আসর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি  করোনা মহামারির কারণে।
এই বছরই অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়াতে আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। বলার অপেক্ষা রাখে না টি-টোয়েন্টির দিন বদলের স্বপ্ন নিয়েই এবারের বিপিএলের আয়োজন। প্রথম দিনেই মুখোমুখি হচ্ছে চার দল। দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল ও মেহেদী হাসান মিরাজের দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুখোমুখি হবে দেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দল মিনিষ্টার ঢাকা ও মুশফিকুর রহীমের খুলনা টাইগার্স। আসর শুরুর আগেই রিয়াদ জানিয়ে দিলেন এবারের বিপিএল আসরটি টাইগারদের আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। আগের ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে নতুন দিনের আশা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল সত্যি বলতে তা পূরণ করতে পারিনি। দল হিসেবে আমাদের অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিল। ভালো দুইটা সিরিজ খেলে আত্মবিশ্বাস নিয়েই গিয়েছিলাম। দুইটা ম্যাচে কাছে গিয়েও হেরে গেছি। সামনে আরেকটা বিশ্বকাপ আছে, তার মানে আরেকটা সুযোগ। যারা (বিপিএল) পারফর্ম করবে তাদের সুযোগ থাকবে।’

রিয়াদের কথাতেই স্পষ্ট এই বিপিএলেই তারা নিজেদের প্রস্তুত করতে চান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জের জন্য। তিনি বলেন, ‘ফরমেশন নিয়েও হয়ত টিম ম্যানেজমেন্ট চিন্তা করবে, কারণ কন্ডিশন ভিন্ন হবে। হয়ত পেস বোলিং অলরাউন্ডারদের আধিক্য থাকবে, রিস্ট স্পিনারের প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকবে। এই জিনিসগুলো আমাদের সবারই মাথায় আছে।’ অন্যদিকে মিরপুর শেরে বাংলা থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেট ভেন্যুগুলোর উইকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই।  শেষ বিশ্বকাপ আসরে ব্যর্থতায় দেশের উইকেটকে বড় একটা দায় দেয়া হয়েছে। তাই এবারের বিপিএলে স্পোর্টিং উইকেট নিয়েও কথা কম হচ্ছে না। তবে এখন তিনি উইকেট নিয়ে খুব একটা ভাবতে চান না। তিনি বলেন, ‘উইকেটের ব্যাপারে আলাদা কিছু নেই। ম্যাচ খেলার সময় মাথায় রাখতে হবে উইকেট ভালো হবে। আগে থেকেই যদি চিন্তা করেন উইকেট স্লো থাকবে, আগে থেকেই তাহলে আপনি নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে ঢুকছেন। এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটা আমি চাই না, এটা চিন্তাও করি না। সবসময় ইতিবাচকতা নিয়ে মাঠে ঢুকতে চাই। ভালো উইকেট না হলে মানিয়ে নিবো ইনশাআল্লাহ।’

মাশরাফিকে ছাড়াই মুশফিকের খুলনার মুখোমুখি ঢাকা
বিপিএলের অন্যতম আকর্ষণ এবার মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। এই দলেই খেলবেন দেশের সাবেক সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঢাকা আজ মুখোমুখি হবে মুশফিকুর রহীমের খুলনা টাইগার্সের। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অধিনায়ক মাহমদুল্লাহ পাচ্ছেন না মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। ইনজুরির কারণে তিনি আছেন বিশ্রামে। জানা গেছে শুরুর দিকে তিন চারটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই তারকা ক্রিকেটার। এ বিষয়ে  ঢাকার অধিনায়ক বলেন, ‘মাশরাফি ভাই থাকলে দলের পেস বোলিং বিভাগ আরও সমৃদ্ধ হয়ে যায়। কন্ডিশন বিবেচনায় উনার অভিজ্ঞতা অনেক কাজে আসে। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে উনাকে হয়তো পাবো না আমরা। তবে আমি আশাবাদী, তৃতীয় ম্যাচ থেকে উনাকে পাওয়া যাবে।’ মিনিস্টার ঢাকা দলের পেস আক্রমণ যথেষ্ট সমৃদ্ধ। বিকল্প আছেন রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, ইবাদত হোসেন চৌধুরীসহ অনেকেই।

শিরোপায় চোখ মুশফিকের
বিপিএল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মুশফিকুর রহীম সবার উপরে। কিন্তু দলীয় অর্জনের ঝুলি এখনও একেবারেই শুন্য। শিরোপা জয়ের স্বাদ পাননি একবারও। এবার সেই আক্ষেপটুকু ঘোচাতে চান  দেশের এই সাবেক অধিনায়ক। টুর্নামেন্টের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তত ১০টি ম্যাচ তো খেলার সুযোগ পাব (প্রাথমিক পর্বে)। চেষ্টা করব যাতে ১২-১৩টা ম্যাচ খেলা যায় (প্লে অফে উঠে) আর যতবার সম্ভব যেন ব্যাট ওপরে ওঠানো যায়। এছাড়াও সবাই তো প্রতিবছরই চায়, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে ভালো রান করতে। তবে আমার কাছে ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে দল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গতবার রানার্সআপ হয়েছিলাম। দুইবার একশর কাছে গিয়েও পাইনি, কিন্তু ম্যাচ দুটি জিতেছিলাম। সেটিই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ ৮১ ইনিংসে ২ হাজার ২৭৪ রান করে বিপিএলের সফলতম ব্যাটসম্যান মুশফিক।  বিপিএলের সবশেষ আসরে ৭০.১৪ গড় ও ১৪৭ স্ট্রাইক রেটে ৪৯১ রান ছিল তার। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান স্কোরার ছিলেন তিনি। এবার তার উপর থাকছে দলবে নেতৃত্ব দেয়ার চ্যালেঞ্জও। তিনি বলেন, ‘এবার সেইরকম চ্যালেঞ্জ থাকবে। চেষ্টা করব সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং ম্যাচ উইনিং কিছু নক খেলার। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে চাই যাতে দল ভালো ফলাফল পায়। ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়েও দলীয় লক্ষ্য যেন বেশি অর্জন করতে পারি।’
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর