× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৫ মে ২০২২, বুধবার , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৩ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

বন্ধ তামাবিল স্থলবন্দর / ক্ষতি ৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

বাংলারজমিন

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি
২২ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার

১৫ দিন থেকে বন্ধ রয়েছে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর। এতে সরকার প্রায় ৮ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। এদিকে কর্মহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন সহস্রাধিক স্থলবন্দর শ্রমিক। জানা গেছে, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত তামাবিল স্থলবন্দরে অটোমেশন পদ্ধতি বা ডিজিটাল পরিমাপ পদ্ধতি সংযোজন ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি স্থলবন্দরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্য পরিমাপ পদ্ধতি বহাল থাকার কারণে আমদানিকৃত পণ্যে ওজনে তারতম্য দেখা দেয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ভারত থেকে পণ্য বিশেষ করে পাথর আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন। এ কারণে স্থবির হয়ে গেছে বন্দরের কার্যক্রম। কাস্টমস সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আমদানি থেকে সরকার প্রতিদিন আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা করে রাজস্ব হারাচ্ছে।
সরজমিনে জানা গেছে, গত ৭ই জানুয়ারি থেকে তামাবিল বন্দরে অটো এসএমএস সফটওয়্যার পদ্ধতি তথা ডিজিটাল কার্যক্রম চালুর পর ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ করে দেন।
এর পর তামাবিলের ওপারে মেঘালয় রাজ্যে আটকা পড়ে আছে কয়েক হাজার পাথরবাহি ট্রাক। তামাবিল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ভূঁঁইয়া এ প্রতিনিধিকে জানান, এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই একটি ফলপ্রসূ সমাধান আসতে পারে বলে জানান তিনি। তামাবিল স্থলবন্দরের আমদানিকারক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, বিলাল উদ্দিন, আব্দুল করিম রাসেল, নজরুল মল্লিক বলেন, তামাবিল স্থলবন্দরে হঠাৎ অটোমেশন পদ্ধতি চালু হয়েছে, অপর দিকে ভারতে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতি বিদ্যমান থাকায় আমাদের ব্যবসা গুটিয়ে রাস্তায় বসার উপক্রম হয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমরা আমদানি বন্ধ করে দিয়েছি। তামাবিল স্থলবন্দর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, অটোমেশন জটিলতায় স্‌হল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমরা কয়েক সহস্রাধিক খেটে খাওয়া শ্রমিকরা অসহায় দিনাতিপাত করছি। তামাবিল পাথর,চুনাপাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি লিয়াকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন ছেদু বলেন, তামাবিল স্থলবন্দরে হঠাৎ অটোমেশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। অথচ  ভারতে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতি চলমান রয়েছে। এ কারণে বড় অংকের লোকসানের মুখোমুখি আমরা সাধারণ আমদানিকারকরা। এতে করে আমাদের পাশাপাশি সরকারও প্রতিদিন লাখ  লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, আমদানি বন্ধের আগে মেঘালয় ও আশেপাশে প্রতিদিন পাথরবাহী ৮ থেকে ৯শ’ ট্রাক দিয়ে তামাবিল স্থলবন্দরে পণ্য খালাস করে আসছিল। ওপারে ভারতের ডাউকি স্থলবন্দরে ফিতা দিয়ে মেপে ওইসব পণ্য তামাবিল বন্দরে প্রবেশের পর একই পদ্ধতিতে মাপা হতো। ২০২১ সালে তামাবিল স্থলবন্দরে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগের পর অবশেষে গত ৭ই জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করা হয়। এতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। তামাবিল স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা অপু কুমার বড়ুয়া জানান, তামাবিল স্থলবন্দরে কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে প্রতিদিন ৩৫-৪০ লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায় হতো। ৭ই জানুয়ারি থেকে উক্ত স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকাতে বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত ১৪ দিনে আনুমানিক ৬-৮ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর