× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাইওয়ে ও বিভাগ নিয়ে যা বলেন মোকতাদির-বাহার

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
২২ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা  যাতায়াতে আরেকটি হাইওয়ে হবে। আর এটি হলে সড়কপথে এই দু’জেলার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার কমে আসবে। প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা নির্মাণে ব্যয় হবে আড়াই হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার রাতে ভার্চ্যুয়াল এক সেলিব্রেটি আড্ডায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহা উদ্দিন বাহার এই তথ্য জানান। তিনি জানান, কুমিল্লা শহরের কাপ্তান বাজার থেকে গোমতী নদী পেড়িয়ে ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং ও কসবা উপজেলা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে এই হাইওয়ে। এই প্রকল্পের কাজ অনেকদূর এগিয়ে আছে এবং সরকারের এই মেয়াদেই এর কাজ শুরু হবে। বাহার বলেন, সড়কটি হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে ক্যান্টনমেন্ট দিয়ে ঘুরে কুমিল্লা আসতে হবেনা। তিনি কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সহায়তা কামনা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীর জন্মদিন উপলক্ষে এই সেলিব্রেটি আড্ডার আয়োজন করে নবীনগরের কথা নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সদর আসনের দুই সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও আ কম বাহা উদ্দিন বাহার কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের সঙ্গে আড্ডায় অংশ নেন নবীনগর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট শিব শংকর দাস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন। ভার্চ্যুয়াল এই আড্ডাটি পরিচালনা করেন নবীনগরের কথা’র সম্পাদক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু।
আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, আমি কুমিল্লা বিভাগ চাই। এজন্যে রবিউল ভাইসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকলের সমর্থন আমার দরকার। আমরা একসঙ্গেই ছিলাম কুমিল্লায়। আবার একসঙ্গে থাকতে চাই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে কুমিল্লার একটা নাড়ির সম্পর্ক। ১৯৮৮ সালে আমি যখন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান সে সময় থেকে আমি বিভাগের আন্দোলন শুরু করি। কিন্তু এটা আমাদের জন্যে খুব দূর্ভাগ্যের বিষয়  বিভাগের আন্দোলন করি আমরা, আর বিভাগ হয় বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ  এবং সিলেটে। পার্লামেন্টে একমাত্র আমিই বিভাগের দাবি উত্থাপন করেছি। এই যে যতগুলো বিভাগ বললাম এসব বিভাগের কোনো এলাকার কোনো একজন এমপি সংসদে বিভাগের দাবি উত্থাপন করেননি। আমাদের কুমিল্লার সমস্যা হয়েছে আমরা অনেক আগে থেকে লেখাপড়া শুরু করেছি। দুশ’ বছর আগে কুমিল্লা জিলা স্কুল হয়েছে। পৌনে ২শ’ বছর আগের ফয়জুন্নেছা গার্লস স্কুল। বেগম রোকেয়ার জন্মের ৭ বছর আগে কুমিল্লা গার্লস স্কুল তৈরি হয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য নওয়াব ফয়জুন্নেছাকে আমরা নারী জাগরণের অগ্রদূত করতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে যদি সবাই থাকতাম। ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ সন্তান। যদিও তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। উনার জীবন কুমিল্লাতেই কাটিয়েছেন। ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে দাঁড়িয়ে বক্তব্যে তিনি বলেছেন-মি. স্পিকার যে রাষ্ট্রের অধিক সংখ্যক লোক যে ভাষায় কথা বলে সেটাই হবে সে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা। কুমিল্লাকে হেলাফেলা করে দেখার সুযোগ নেই। কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেছেন সচীন দেব বর্মন, আয়েত আলী খান, আলাউদ্দিন খাঁ। ভারতবর্ষের সঙ্গীত জগতকে তারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য একসময় আমরা রাজধানীর মানুষ ছিলাম। এখন আমরা বিভাগের আন্দোলন করি। সেখানেও ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত হয়। যখন আমাদের আন্দোলন বিভাগের জায়গায় আসলো তখন কথা উঠলো মেঘনা আর পদ্মা। মেঘনা মোস্তাকের বাড়ি। মেঘনা আমি কীভাবে মানবো। আমি নেত্রীকে বলেছি। নেত্রী বলেছেন তুমি সবার সমর্থন আনো। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘ল’ মিনিষ্টারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তিনি ঐক্যমত পোষণ করেছেন। রবিউল ভাই আপনি এবং আমি রাজনীতির মানুষ। আমরা ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান করেছি, ৬দফা আন্দোলন করেছি, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আরেকটি গণঅভ্যুত্থান করেছি ‘৯১ সালে। যেহেতু আমরা রাজনৈতিক প্রোগ্রাম নিয়ে এগোই-আমি আশা করবো আপনি আমাদের পাশে থাকবেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে আমাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করবেন। জবাবে মোকতাদির চৌধুরী বলেন- আমি স্পষ্ট ভাষায় বলি, এখানে রাকঢাকের কোনো বিষয় নেই। কুমিল্লা একটি অঞ্চল। কুমিল্লা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যতগুলো অঞ্চল আছে তার মধ্যে কুমিল্লা বৈশিষ্টপূর্ণ অঞ্চল। এর সংস্কৃতি, এর ইতিহাস, ঐতিহ্য সবটাই অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে একটু ভিন্ন ধরনের। সুতরাং ময়মনসিংহ বিভাগ যদি হতে পারে, অমুক বিভাগ যদি হতে পারে, তমুক বিভাগ যদি হতে পারে, কুমিল্লা বিভাগ হওয়াতো কোনো অপরাধমূলক কাজ নয়। এখন কুমিল্লা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। তিনি হয়তো চিন্তা করেন যে, এখানে অমুকের বাড়ি, তমুকের বাড়ি। এই কথা যদি খুঁজতে যায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে  জড়িত যারা আছে  তাদের  অনেকেরই বাড়িঘর অন্যান্য অঞ্চলেও আছে। মূল চক্রান্তকারী মোশতাক যেমন আছে, তার যারা সঙ্গীসাথী তারা কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলের। সুতরাং ওইভাবে অঞ্চলকে না দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি বিনীত অনুরোধ জানবো তিনি আমাদের অভিভাবক, তিনি শুধু আওয়ামী পরিবারের নয় সমগ্র দেশের গার্ডিয়ান। উনাকে বলবো নৈব্যক্তিকভাবে বিষয়টা দেখে সমগ্র কুমিল্লার আঞ্চলিক যে একটা বৈশিষ্ট্য আছে, স্বাতন্ত্র আছে সেটার স্বীকৃতি দিয়ে কুমিল্লা বিভাগ করুন, এটাই আমরা চাইবো। আলোচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন বলেন, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যেকার সড়ক যোগাযোগ অবহেলিত, ট্রেনে আসন বরাদ্দ নেই জানালে এই দুই জেলার মধ্যে আরেকটি হাইওয়ে হওয়ার তথ্য দেন কুমিল্লার সংসদ সদস্য আ ক ম বাহা উদ্দিন বাহার। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ হলে আরও অনেককিছুই হবে। কানেকটিভেটি বাড়বে সকল ক্ষেত্রে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
শহীদ
২২ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ১০:০২

কুমিল্লা-বিবাড়িয়ায় হিন্দুদের উপর হামলার ব্যাপারে উক্ত দু’জনকে কোন রকম জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

অন্যান্য খবর