× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৬ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

শাবি ভিসি’র বাসভবন ঘেরাও

প্রথম পাতা

ওয়েছ খছরু ও আরাফ আহমদ, সিলেট থেকে
২৪ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার

দিনভর অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর ফোন আসবে। কথা বলবেন। একটা উপায় বের হবে। কিন্তু না সেই ফোন আসেনি। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি। আগের রাত ৩টায় বলা হয়েছিল; পরদিন (গতকাল) দুপুরে আবার কথা হবে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে দেখা গেল না আওয়ামী লীগের নেতাদের।
তাদের ফোনেই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় শিক্ষার্থীদের। ওদিকে গতকাল বিকালে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন আরও জোরদার করেছেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে রেখেছেন। সন্ধ্যায় ভিসির বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা। পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ‘আলোচনার জন্য আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু কোনো ফোন আসেনি। কিংবা আওয়ামী লীগ নেতারাও আসেননি। এখন আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছি। আমরা ভিসিকে অবরুদ্ধ করেছি বিষয়টি ঠিক না, আমরা ভিসির বাসভবনে কাউকে ঢুকতে দেবো না। আমরা ওখানে বসে অনশন করছি। আর ভিসির সঙ্গে গিয়ে সবাই দেখা করবেন, সেটা হয় না। এ কারণে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।’ ভিসির বাসভবনের সামনে এক সপ্তাহ ধরেই অবস্থান করছে পুলিশ। একটি টিম সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছে। পরিচয় দিয়ে ভিসির বাসভবনে ঢুকতে হয়। পুলিশ তার বাসভবনে সবাইকে ঢুকতে দেয় না। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেটি করা হচ্ছে। তবে- ভিসির পরিচিত জন সবসময় যাতায়াত করছেন। ভিসি নিজ বাংলোতেই গত এক সপ্তাহ ধরে অবস্থান করছেন। গতকাল বিকাল থেকে বাসভবনের প্রধান ফটকে পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন। অবস্থানের পর সন্ধ্যা থেকে আর কাউকে ঢুকতে কিংবা বের হতে দেখা যায়নি। আর পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে, আমরণ অনশন থেকে গণঅনশনে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অনশনস্থলের পরিসর বাড়েনি। এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীদের যুক্তি হচ্ছে; শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আলোচনা চলছে। গণঅনশনেই রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল আরও ৪ জন নতুন করে অনশনে বসেছেন। এভাবে ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা গণঅনশনে নামবেন। ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুভমেন্ট হচ্ছে দুটি। এরমধ্যে একটি হচ্ছে আমরণ অনশন ও অপরটি হচ্ছে আন্দোলন। সুতরাং অনশন ও আন্দোলন দুটোই তাদের চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এ কারণে গণঅনশনে এখনো সবাই বসেননি। প্রয়োজনমতো বসে যাবে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। তবে- ভিসির বাসভবনের সামনে পঞ্চমদিনের মতো আমরণ অনশনে থাকা ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে কারও শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সব শিক্ষার্থীই শারীরিকভাবে অসুস্থ। অনশনস্থলে নতুন ৪ জনসহ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিলেন ১২ জন। ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি। এরমধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই হচ্ছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও অনশন ভাঙছেন না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে উৎকণ্ঠার অন্ত নেই চিকিৎসকদের। গতকাল দুপুরে অনশনস্থলে থাকা ১২ জন চিকিৎসা দিচ্ছিলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের একটি টিম। ওই টিমের সদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসক শান্তা ও সেজুতি জানিয়েছেন, যারা এখানে অনশন করছে সবারই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সেলাইন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অবস্থায় মনে হচ্ছে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। না খেয়ে খেয়ে তারা আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে- যারা এ আন্দোলনকে ইস্যু মনে করে বিক্ষোভ করছেন, তাদের দ্বারা সৃষ্ট সহিংসতার দায় নেবেন না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের একমাত্র দাবিতে অনড় আছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের একটাই দাবি- উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের অপসারণ। আমরণ অনশনের একশ’ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে না নেয়ায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ভিসির বাংলোর সামনের অনশনস্থল থেকে তারা এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে গোলচত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সভায় শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। আর আন্দোলন বানচালের চেষ্টা করা হলে পরিনতি কঠোর হবে বলে জানায় তারা। বেলা আড়াইটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে সভায় বসেছেন প্রায় আড়াইশ’ শিক্ষক। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শিক্ষকদের বৈঠক চলছিল। বৈঠকে উপস্থিত থাকা কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা উদ্বিগ্ন। তুচ্ছ ঘটনায় এমন আন্দোলন হবে সেটি কেউ কল্পনা করেননি। এখন আন্দোলনের সীমা আর ক্যাম্পাসে নেই। সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তবে শিক্ষকদের দাবি হচ্ছে- দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির অবসান। বৈঠকে শিক্ষকদের পক্ষে কেউ কেউ ভিসিকে ক্যাম্পাসে রাখার পক্ষে বক্তব্য দেন। আবার অনেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এ কারণে ঐকমত্যে পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষকরা। তবে- শাবির ভিসি বিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষকদের একটি অংশ ভিসির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা এ নিয়ে মানববন্ধনও করেছেন। এর বাইরে অনেক শিক্ষকই নীরব রয়েছেন। তারা ভিসির পক্ষে অবস্থান না দিলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধতার স্বার্থে সেটি করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ: শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সিলেট নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিলেটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে তারা মানববন্ধন করে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নগর ভবনের সামনে কামরান চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে ও গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিল হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমদ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম আমিন, দক্ষিণ সুরমা কলেজের আখতার হোসাইন, লিডিং ইউনিভার্সিটির মোহাম্মদ বিপুল, মদনমোহন কলেজের সাকিব রানা, এমসি কলেজের সুরাইয়া পারভিন আঁখি, মামুনুর রশীদ, আল আমিন নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী কুলসুমা, এমসি কলেজের জাহেদ জয় ও সালেহ আহমদ প্রমুখ। সিলেট এমসি কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম বলেন, মানববন্ধন থেকে আমরা ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেছি। আমাদের দাবি হলো- শাবি ভিসির পদত্যাগ করতে হবে, শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নিতে হবে, অজ্ঞাতনামা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে হবে।
সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের উদ্বেগ প্রকাশ: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ সুনাম ও ঐতিহ্য রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমান সংকট নিরসন অতীব জরুরি। সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে ও আন্দোলনকারী এবং অনশনকারীদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কাছে অনুরোধ জানান। সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশু ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত এক বিবৃতিতে বলেন, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের সম্পর্কের অবনতি শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম সংকট তৈরি করেছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণে নেতৃবৃন্দ দ্রুত উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের: ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। শনিবার শাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। ছাত্র আন্দোলনে উদ্ভূত সংকটে উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়- অবিলম্বে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের অনশন ভাঙানো প্রয়োজন। এজন্য তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। যে বিশেষ মহল আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি আক্রমণ পরিচালনার পরিবেশ তৈরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছাত্রছাত্রীদের ওপর কথিত পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা করেছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ভার্চ্যুয়াল সভায় শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রাণহানির সংশয়ে পড়া বিপন্ন নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের (১৯৯১-১৯৯৩) প্রথম সভাপতি মো. ফরিদ আলম। সভাটি পরিচালনা করেন চতুর্থ ব্যাচের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের মকদ্দুস-স্বাধীন কমিটির (১৯৯৫-৯৭) সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদ। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগের প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ব্যাচের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার এই সভায় ক্যাম্পাস পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে সবাই আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর