× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৬ মে ২০২২, সোমবার , ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

আলাপন /আমরা কারও সাফল্য সহজে মানতে পারি না -সুচরিতা

বিনোদন

মুজাহিদ সামিউল্লাহ
২৫ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার

বেবী হেলেন থেকে নায়িকা সূচরিতা।বাংলা সিনেমায় দীর্ঘ পথচলায় সোনালী যুগের এই নায়িকা সময়ের ব্যবধানে আসন্ন শিল্পী সমিতি নির্বাচনে মিশা-জায়েদ পরিষদে কার্যকরী পরিষদে সদস্য হিসেবে নির্বাচন করছেন।
দি ফাদার, যাদুর বাঁশি, হাঙ্গর নদী গ্রেনেড বা জীবন নৌকার মতো সৃজনশীল সিনেমার মিষ্টি মেয়ে সূচরিতা আজও দর্শকদের মণিকোঠায় অম্লান হয়ে রয়েছেন।

কেমন আছেন এই চির সবুজ নায়িকা? সুচরিতা বলেন, ভালো আছি। সুস্থ আছি।
আপনার সুপারহিট সিনেমা ‘আঁখি মিলন’-এর সফল জুটি ইলিয়াস কাঞ্চনকে ছেড়ে জায়েদ-মিশা প্যানেলে নির্বাচন করছেন? কারণ কি? এ নায়িকা বলেন, পর্দার জুটি ও বাস্তব জীবনের গল্প এক নয়। অবশ্যই কাঞ্চন আমার খুবই শ্রদ্ধার পাত্র। অনেক মানবিকতা সম্পন্ন ব্যক্তি। কাঞ্চন ভাই যেমন পর্দায় সফল নায়ক ঠিক তেমনি জায়েদ সংগঠক হিসেবে সফল। বিগত করোনাকালীন জায়েদ-মিশা যেভাবে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে শিল্পীদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

কাঞ্চনের বিপরীতে সমসাময়িক যেসব নায়িকা রূপালী পর্দা মাতিয়ে রাখতেন তারা তাদের পুরনো সহকর্মীর প্যানেলে যুক্ত না হয়ে অন্য প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন।
এর রহস্য কী?এ প্রসঙ্গে সূচরিতা বলেন, আমরা পর্দার সুপার হিরোর না, বাস্তবে যারা বিশ্ব মহামারির সময় শিল্পীদের বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই মিশা-জায়েদের পক্ষে আছি। পর্দায় জায়েদের সফলতা-ব্যর্থতা বিষয়ে মন্তব্য করবো না। সেতো নবীন একজন শিল্পী। সামনে তার অনেক পথ বাকি রয়েছে।

আমাদের বাঙালিদের বিরাট একটা সমস্যা আছে। আমরা কারও সাফল্য সহজে মানতে পারি না। নিজেরা কিছু করবো না সমাজের জন্য, কেউ করলে তার পা টেনে ধরবো।
আপনার প্রতি সহকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে আপনিও খুব একটা সামাজিক নন? আপনি সহজে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানেও যান না! সুচরিতা বলেন, আমি যখন অভিনয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছি তখন তো প্রতিদিনই এফডিসিতে যাতায়াত করেছি কাজের জন্য। এর বাইরে অযথা আড্ডা পছন্দ নয় আমার। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত ভালোলাগা। অবশ্যই আমি একটু মুডি। কিন্তু আমার সহকর্মীরা কোনোদিনই বলতে পারবে না আমি ছোট-বড় কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি। আপনাকে চলচ্চিত্রের মিস্টি মেয়ে বলা হয়।

প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরীর পর আপনাকেই এই উপাধি দমদেয়া হয়েছে? কেমন অনুভূতি আপনার? এ অভিনেত্রী বলেন, সত্যিই আমি কৃতজ্ঞ সেইসব গুণী সিনে সাংবাদিক, পরিচালক ও প্রযোজকদের যারা আমাকে কিংবদন্তি মিষ্টি মেয়ে কবরী আপার সঙ্গে তুলনা করতেন। বর্তমানে চলচ্চিত্রের দুর্দশার জন্য কাকে দায়ী করছেন? এ নায়িকা বলেন, চলচ্চিত্র তো ‘ওয়ান ম্যান শো’র জায়গা না। সবার সহযোগিতায় অতীতে আমরা কাজ করেছি। বছরে অনেক সিনেমা তৈরি হয়েছে। এখন হচ্ছে না কেন? প্রযুক্তি অনেকটা আমাদের ঘরমুখী করেছে।

অতীতের মতো সামাজিক গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপের খুবই অভাব। সবার মাঝেই অস্থিরতা কাজ করে। সাধনা করতে নারাজ। আর সবচেয়ে আমাকে পীড়া দেয় এফডিসি ভিত্তিক প্রতিটি সমিতির সমন্বয়হীনতা। যা অতীতে ছিল না। প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পীদের এই সমন্বয় আজ খুবই জরুরি। বর্তমান সরকার তো শিল্পীদের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে সম্মানিত করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিল্পীদের যে সম্মান, মর্যাদায় আসনে নিয়ে গেছেন সে ঋণ শোধ হবার নয়। আমার হাত জোড় অনুরোধ- যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন আর যাই করেন কেউ কাউকে ছোট করে কথা বলবেন না।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর