× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ মে ২০২২, শুক্রবার , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

ভিসির বাসভবনে শিক্ষক সমিতির নেতাদের প্রবেশের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের বাধা

অনলাইন

শাবি প্রতিনিধি
(৩ মাস আগে) জানুয়ারি ২৫, ২০২২, মঙ্গলবার, ৩:১৫ অপরাহ্ন

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। রোববার থেকে পুলিশ ও সাংবাদিক বাদে অন্যদের ভিসি বাসভবনে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে অবরুদ্ধ ভিসির সাথে অনেক চেষ্টা করেও দেখা করতে পারেননি কেউ।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসি কুমার দাশ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ভিসির বাস ভবনের প্রধান ফটকে আসেন এবং ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতে বাধা প্রদান করেন। এসময় শিক্ষকরা আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য আহবান জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকায় শিক্ষকরা ফিরে যান।

এ সময় শিক্ষকরা কিছু খাবার নিয়ে এলে শিক্ষার্থীরা বলেন, খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্র নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে দেয়া যাবে। কিন্তু শিক্ষক কেউ যেতে পারেন না। পরবর্তীতে খাবারের প্যাকেট যাচাই করে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে ভেতরে পাঠানো হয়।


এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সিলেট-২ আসনের সাংসদ ও গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খাঁন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুরাইয়া বেগমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের দেখতে এসেছি। তাদের দুরবস্থা ও দাবিগুলো আমি সংসদে তুলে ধরবো। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে আমি এখানে এসেছি। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে ড. কামাল হোসেনের সাথে মোবাইলে কথা বলার জন্য বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে কামাল হোসেন গণমাধ্যমে মোবাইলে কথা বলেন।

এদিকে গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া আমরণ অনশনের আজকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৪৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোনো সমাধান না আসায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ জন অনশনরতদের মধ্যে ১৯ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং ৯ জন ক্যাম্পাসে অনশন করছে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২৫ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৩:০৪

আইয়ামে জাহেলিয়াত ও আজকের বাস্তবতা ------------------------------------------------ অন্ধকার বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুগকে বলা হয় আইয়ামে জাহেলিয়াত। অধ্যাপক পি.কে হিট্টি বলেন, সাধারণভাবে আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে অজ্ঞতার যুগ বা বর্বরতার যুগ বুঝায়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এ পদবাচ্য দ্বারা সে যুগকেই বুজায় যে যুগে আরবে কোন নিয়ম কানুন ছিলোনা, কোন নবীর আবির্ভাব ঘটেনি এবং কোন আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়নি। অজ্ঞতা, বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা, কুসংস্কার ও যাবতীয় অন্যায়-অপরাধকে যে সমাজের অলঙ্কার মনে করা হয় সে সমাজই অন্ধকার, সে সমাজই জাহেলিয়াতের সমাজ। আর সেই সময় কালকেই আইয়ামে জাহেলিয়াত বলা যায়। তমসাচ্ছন্ন যুগে মানুষের জীবনধারা বিভিন্ন অন্যায়, অনাচার, পাপাচার, ব্যভিচার, দুর্নীতি, কুসংস্কার ও মাদকাসক্তিতে কলুষিত ছিলো। গোটা সমাজ জীবন ও রাজনৈতিক অবস্থা ছিলো খুবই বিশৃঙ্খলপূর্ণ ও নৈরাশ্যজনক। তাদের মধ্যে ঐক্য, সদ্ভাব ও সম্প্রীতির পরিবর্তে যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি, কাটাকাটি ও রক্তপাত লেগেই থাকতো। ন্যায়নীতির পরিবর্তে জোর যার মুল্লুক তার নীতি সর্বত্র বিরাজমান ছিলো। এতোটা নৈতিক অধঃপাতের পরেও তারা শত্রুর সঙ্গে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করতোনা এবং অতিথিপরায়ণতা ছিলো তাদের একটি অন্যতম সদগুণ। পি. কে হিট্টি যেকথা বলেছিলেন- আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে কোনো রাসূলের আবির্ভাব ঘটেনি, কোনো আসমানী কিতাবও নাজিল হয়নি। তিনি এও বলেছেন, সৃষ্টিকর্তা মুহাম্মদকে স. ত্রাণকর্তা হিসেবে না পাঠালে মানব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতো। আরব জাতি ও মানব সভ্যতা যখন নানাপ্রকার কুসংস্কারে নিমজ্জমান এবং ধ্বংসমুখে পতিত ঠিক এমনি এক সময়ে দয়াময় আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির হেদায়েতের জন্য মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি ছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত ও ত্রাণকর্তা এবং মানবজাতির মহান শিক্ষক। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "তিনিই মহান সত্তা যিনি উম্মীদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রসূল করে পাঠিয়েছেন যে তাদেরকে তাঁর আয়াত শুনায়, তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ, সজ্জিত ও সুন্দর করে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেয়। অথচ ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল।" সূরা আল-জুমুয়াহ, আয়াতঃ২। তিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, "হে মুহাম্মাদ! আমি যে তোমাকে পাঠিয়েছি, এটা আসলে দুনিয়াবাসীদের জন্য আমার রহমত।" সূরা আল আম্বিয়া, আয়াতঃ১০৭। এর আর একটি অনুবাদ হতে পারে, 'আমি তোমাকে দুনিয়াবাসীদের জন্য রহমতে পরিণত করেই পাঠিয়েছি।' উভয় অবস্থায়ই এর অর্থ হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন আসলে মানবজাতির জন্য আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ। কারণ, তিনি এসে গাফলতিতে ডুবে থাকা দুনিয়াকে জাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে ফারাক করার জ্ঞান দিয়েছেন। দ্বিধাহীন ও সংশয় বিমুক্ত পদ্ধতিতে তাকে জানিয়ে দিয়েছেন তার জন্য ধ্বংসের পথ কোনটি এবং শান্তি ও নিরাপত্তার পথ কোনটি। আসলেই মানবজাতির জন্য মুহাম্মদের স. আগমন আল্লাহর করুনা। মুহাম্মদ স. কেয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক। আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল করা কুরআনুল কারিম ও মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ হাদিস গ্রন্থসমূহ কেয়ামত পর্যন্ত অবিকল থাকবে। কুরআন মজিদ ও হাদিস গ্রন্থসমূহ আমাদের সামনে বর্তমান থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র না পড়া, না জানা ও না মানার কারণে আমাদের কোনো কোনো কাজ আইয়ামে জাহেলিয়াতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। জাহিলিয়াতের যুগে লোকদের মধ্যে স্বার্থমূলক নীতিবাদ ও অহংবোধ (egoism) ছিলো প্রচণ্ড রকমের। তাই কেউ কারো কাছে নতিস্বীকার করতোনা। বিনয়াবনত হওয়ার চেয়ে যুদ্ধ ও রক্তপাতই তাদের কাছে প্রাধান্য পেতো। আমাদের রাজনীতি, সমাজনীতি ও পারষ্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইগোইজম-এর প্রাধান্য সংঘাত, হানাহানি ও রক্তপাত ঘটাচ্ছে। ফলে অশান্তির আগুন জ্বলছে। সম্প্রতি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অনশনক্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে। তবুও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছেনা শুধুমাত্র ইগো থেকে। উদারতা, মহানুভবতা, ক্ষমা, হৃদয় মনের ঔদার্য, পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বাদ দিয়ে সকলেই অহংবোধে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। আধুনিক যুগে জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রভূত উৎকর্ষতা সত্বেও আমাদের মনমানসিকতায় ঝেঁকে বসে আছে সেই দেড় হাজার বছর আগের জাহেলিযুগের অহংবোধ। মানবিক মূল্যবোধ আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত। ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে পিতা সন্তানের সম্পর্কের মতো স্নেহ মায়ামমতা ও শ্রদ্ধাবোধ একসময় এ সমাজেই ছিলো। আমাদের মধ্যে অহংবোধ শুরু হয় রাজনীতির মাঠে। এরপর লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি ও দলীয় দৃষ্টিতে শিক্ষক নিয়োগের ফলে শিক্ষাঙ্গনে তা ছড়িয়ে পড়েছে। আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ যেমন বর্বরতার, তেমনি সেই কর্মকাণ্ডের মধ্যেও সভ্যতা নেই। আল্লাহ তায়ালার আসমানী কিতাব ও মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা গ্রহণ করেই সেই বর্বর জাতি সভ্য হয়েছিলো। আমরা নিজেদের বিজ্ঞান মনস্ক দাবি করি। কিন্তু নৈতিকতা শিক্ষার কথা আমরা কমই বলি। বিজ্ঞানে নতুন নতুন বস্তুর আবিষ্কার আছে। কিন্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবিকতা ও নৈতিকতার মানদণ্ড মানতে কড়াকড়ি আরোপ করেনা এবং বাধ্যও করেনা। সেজন্যই হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে ১৯৪৫ সালে নিউক্লীয় বোমা হামলা করে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করতে বিবেক বাধা দেয়নি। মনুষ্য আত্মাও ক্ষণিকের তরে কেঁপে ওঠেনি। পৃথিবীর দেশে দেশে চলছে রণসজ্জা, চলছে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসন। ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী হয়ে পড়ছে বিভিন্ন দেশের শাসকরা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার মানসিকতা দেখে মনে হচ্ছে কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হবেনা। তাদের কর্মকাণ্ডে গনতন্ত্র ও মানবিকতা হোঁচট খায়। কিন্তু, কুরআনুল কারিম ও হাদিসের শিক্ষার মধ্যে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যেমন আছে তেমনি বিজ্ঞানের চর্চা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা আছে। সেজন্যই রহমতের মূর্তপ্রতীক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ স. মক্কা বিজয় করেছেন সম্পূর্ণ বিনা রক্তপাতে। শত্রুর ঘরবাড়িতে না একটি পাথর ছোঁড়া হয়েছে, না একটি গাছের পাতা ছেঁড়া হয়েছে, আর না কোনো নারীর সম্ভ্রম খোয়া গেছে। বিজয়ীবেশে মক্কায় প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ স. সকল শত্রুদের জন্য ক্ষমার ঘোষণা করেন। স্বার্থমূলক নীতিবাদ ও অহংবোধ (egoism) এবং ভেদবৈষম্যের দেয়াল ভেঙে চিরশত্রুদের মাঝে সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপন করে সবাইকে পরষ্পরের বন্ধু ও ভাই ভাই করে দিলেন। পৃথিবীতে এতো এতো জ্ঞানী গুণী, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী থাকা সত্ত্বেও এবং আজকে যারা বিজ্ঞান মনস্ক দাবি করেন তারা পৃথিবীর বুকে শান্তি স্থাপন করতে পারেননা কেন তা এক জ্বলন্ত প্রশ্ন।

অন্যান্য খবর