× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৬ মে ২০২২, সোমবার , ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

এসডো’র গবেষণা /সিলেট সিটি কর্পোরেশনে গত বছর প্রতিদিন ৫৪ টন প্লাষ্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(৩ মাস আগে) জানুয়ারি ২৬, ২০২২, বুধবার, ৬:৫৪ অপরাহ্ন

২০২১ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্রতিদিন প্রায় ৫৪ টনের মতো প্লাষ্টিক বর্জ্য তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে বেশির ভাগই ছিল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের তৈরি স্যাশে, প্লেট, চামচ এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডোর ‘দ্য প্লাস্টিক ডেলিউজ: ইন দ্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন এরিয়া, বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্যটি উঠে এসেছে। এসটিইপিপি (সাসটেইনেবল ট্রান্সিশনস টু এন্ড প্লাস্টিক পলিউশন) প্রজেক্টের অধীনে এসডো এবং ইউনিভার্সিটি অফ পোর্টসমাউথ এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।

আজ বুধবার সংস্থাটি ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্লাস্টিক বর্জ্যের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন। এতে সিলেটে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের ধারণা পাওয়া যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুষ্ঠভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমাদের সহায়তা করবে। টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং এই ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গবেষণাটিতে দেখা গিয়েছে যে, উৎপাদিত সকল বর্জ্যের মধ্যে ৬৭% হচ্ছে জৈব বর্জ্য, ১৭% প্লাস্টিক বর্জ্য, ৩% ই-বর্জ্য, ২% মেডিকেল বর্জ্য, এবং ১% অন্যান্য বর্জ্য।
পলিমার দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা পণ্যের অব্যবস্থাপনাই মূলত সিলেট শহরে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফেলে দেয়া বর্জ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক যেমন প্লাস্টিকের বা পলিথিনের ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল, ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য, স্যাশে বা মিনি প্যাক, খাবারের প্যাকেট, একবার ব্যবহারযোগ্য কাটলারি, প্লাস্টিকের জুতা, অলঙ্কার, ঝুড়ি, ব্যারেল, প্লাস্টিকের আসবাবপত্র, পিভিসি ফিটিংস, পিভিসি ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্লাস্টিকের খেলনা। এই সকল প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিমান প্রায় ৭৮ শতাংশ।
ইতিমধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়, সিলেটে ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার ছিল ১৭ টন/বছর এবং ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তা কমে বার্ষিক ১২.৫ টনে দাঁড়িয়েছিল। এই তথ্য উল্লেখ করে বিবেচনা করা যেতে পারে যে, ২০২০ সাল পর্যন্ত প্লাস্টিক বর্জ্যের বৃদ্ধির হার ১৪.৭৫ ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেখা গিয়েছে যে, ২০২০-২০২১ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্লাষ্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ১৮ টন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্লাস্টিক বর্জ্যগুলি শুধুমাত্র মানুষের জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, আমরা এই প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছি। কিন্তু এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে সরকার এবং জনগণকে একত্রে কাজ করতে হবে। তবে আমরা আশাবাদী যে একসাথে আমরা এই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম হব এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমাতে পারব।
বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এবং এসডো-এর চেয়ারপারসন সৈয়দ মারঘুব মোর্শেদ তার বক্তব্যে বলেন, সরকারকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাষ্টিক পণ্য, বিশেষ করে পলি ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করতে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সিলেটের সকল পর্যটন স্থানে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও তদারকি করার জন্য সরকারের এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ পোর্টসমাউথ এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এবং রেভল্যুশন প্লাস্টিকস এর ডেপুটি লিড ক্রেসিডা বাউয়ারের মতে, গবেষণাটি থেকে এটা বোঝা যায় যে সিলেট শহরে উন্মুক্ত স্থানে যথেচ্ছভাবে বর্জ্য, বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হয়। এই খোলা জায়গায় ময়লা ফেলার প্রচলনের কারণেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণজনিত বিভিন্ন সমস্যা বেড়ে চলেছে। ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ পানি উভয়ই এর দ্বারা ভয়াবহ ভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এতে বোঝা যায় বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা টেকসই নয়।

এসডো-এর মহাসচিব এবং এই গবেষণার টিম লিডার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। প্রকৃতপক্ষে জিরো ওয়েস্ট পরিকল্পনা এবং পদ্ধতির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনে উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, পৃথক পৃথক বিন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি এবং এর জন্যে প্রয়োজন জনসচেতনতা।

এসডো-এর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা এই বিষয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্য প্রচার করতে এবং একটি আইনি কাঠামো প্রয়োগ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এই গবেষণার জন্য, বেসলাইন জরিপ হিসাবে, ৬০০ জন ক্রেতা, ২৭০ জন খুচরা বিক্রেতা, ১৫০ জন বর্জ্য সংগ্রকারী এবং কিছু প্লাষ্টিক প্রস্তুতকারকদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল। এছাড়াও ১৫ জনকে মূলতথ্যদাতা হিসেবে সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা।

প্লাস্টিক দূষণ মানুষ থেকে শুরু করে জুপ্ল্যাঙ্কটন পর্যন্ত সকল প্রাণীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতি করছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলানোর কারণে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে যে সিলেট বৃষ্টি প্রবণ এলাকা এবং এই জেলায় বর্ষার সময়কাল বেশি। তাই সিলেটে পানি নিষ্কাশন সমস্যা প্রকট এবং প্লাস্টিক বর্জ্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলছে। নদীগুলির মধ্যে সংযোগের কারণে, ভারত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশে আসে পড়ছে। সুরমা নদী কুশিয়ারা নদীর সাথে মিশে পরবর্তীতে মেঘনায় রূপান্তরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হচ্ছে, এবং এই বর্জ্যগুলিও নদীর সাথে বঙ্গোপসাগরের গিয়ে পড়ছে, এবং সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি করছে। এসব প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে শুধু মানুষ নয়, ওই নদীগুলোর জলজ প্রাণীও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া অনেক হাওরের মধ্য দিয়ে সুরমা নদী প্রবাহিত হয় এবং প্লাস্টিক দূষণের কারণে সুরমা নদীর জীববৈচিত্র্য ও এর সাথে সংযুক্ত হাওরগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর