× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২২ মে ২০২২, রবিবার , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

চক্রান্ত দেখছে সরকারি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি বিএনপি’র

শেষের পাতা

সংসদ রিপোর্টার
২৮ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার

সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। জবাবে বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সংলাপ শুরুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল রাতে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন তারা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের ওই আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ বক্তৃতা শেষে তিনি ধন্যবাদ প্রস্তাবটি গ্রহণের আহ্বান জানান। এরপর স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
এ সময় টেবিল চাপড়ে প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান এমপিরা। প্রেসিডেন্ট ১৬ই জানুয়ারি সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে ভাষণ দেন এবং পরদিন সেই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও জিয়াউর রহমান যাদের নিয়ে দল গঠন করেছিলেন তারা এখনো বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি। বিএনপি সাংবিধানিক গণতন্ত্র চায় না। তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা, গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা। তারা ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশকে ধ্বংসের চেষ্টা করে। ১৯৭৫-এর পর দেশ চলে যায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের হাতে। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশের দায়িত্ব নেয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশ আবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পরিচালনা করে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিণত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী অপরাধ আইন করে একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মানুষের জীবন বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন বলে উল্লেখ করেন মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অঙ্গীকার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা। সেই অঙ্গীকারের পথ ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। প্রেসিডেন্টের ভাষণেও সেটাই ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ আজ এ সাফল্য ভোগ করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের এ উন্নয়ন বিশ্বের অনেক দেশের কাছে অনুকরণীয় হচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালেও দেশের অর্থনৈতিক চাকা চালু রেখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি’র সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, তারা সকালে এক কথা, বিকালে আরেক কথা বলেন। সকালে সর্বসম্মতভাবে বিল পাস হলো, আর এখন বিলের বিরুদ্ধে বলছেন বিএনপি’র সদস্যরা। তারা সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সত্য কথা বলায় প্রতিহিংসা থেকে আমিও রেহাই পাইনি। আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং আমার বাড়ি পর্যন্ত দখল করা হয়েছিল। সেই মামলা এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিরোধিতার নামে বিরোধিতা করতে চাই না। আমরা চাই উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন চলছে বলেই আমরা সরকারকে সহযোগিতা করছি। বিএনপির নেতাদের মুখে মানবাধিকারের কথা মানায় না বলে মন্তব্য করেন জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেশের মানুষের ভাতের চাহিদা পূরণ হয়েছে। এখন পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে। আগে আমরা শুনতাম সোভিয়েত ইউনিয়নে বৃষ্টি হলে এ দেশের কমিউনিস্টরা ছাতা ধরতো। এখন আমেরিকায় বৃষ্টি হলে বিএনপি দেশে ছাতা তুলতে দেরি করতে রাজি নয়। চলতি বছর রাজনীতির জন্য সংকটকাল হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মুহম্মদ মনসুর আহমেদ। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মনসুর বলেন, ২০২২ সাল ওমিক্রনের জন্য যেমন অত্যন্ত সংকটকাল, আমি মনে করি রাজনীতির জন্যও হবে একটি সংকটকাল। সংসদনেত্রী, এই বিষয়টি আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু পরী মনি, খুকু মনি আর রুকু মনিদের কাহিনী পত্রিকায় পড়লে বাংলাদেশের বর্তমান নতুন প্রজন্ম হতাশ হয়। সমাজ দূষিত করতে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে পরী মনি আর খুকু মনিদের। এটি একটি ষড়যন্ত্র।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙিয়েছেন। সেখানে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিলেন না? ওই অঞ্চলে কী রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই? তারা কী করেছেন? জাফর ইকবাল উনার ইচ্ছায় গেছেন তা মনে করি না। নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী সেই ব্যবস্থা করেছেন। র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, র‌্যাব যদি একদিন বলে যে রাতে আমরা বের হবো না, র‌্যাব ক্যাম্পে থাকবে, নামাজ-রোজা করবে তাহলে ওইদিন এই দেশ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। কোনো মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে। একটা সুশৃঙ্খল বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য এক গভীর ষড়যন্ত্র। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই দেখতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই দেশের আমরা উন্নয়ন চাই। মানুষের কল্যাণে যদি রাজনীতি করতে না পারি তাহলে ওই রাজনীতির কোনো অর্থ নেই। যতদিন পদ্মা ব্রিজ থাকবে, মেট্রোরেল থাকবে ততদিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ধন্যবাদ প্রস্তাবে বিএনপি’র হারুনুর রশীদ: সকল দলের অংশগ্রহণে ‘নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু’ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপ শুরুর অনুরোধ করেছেন বিএনপি’র সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আপনাকে আলোচনার টেবিলের দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে। আপনি আলোচনা শুরু করেন। নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে কীভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করা যায়- নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। এর কোনো বিকল্প নেই। সরকারের সমালোচনা করে হারুন বলেন, স্বাস্থ্যের বেহাল দশা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো। করোনার সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এটা পুষিয়ে নিতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শিক্ষা বিভাগ অটোপাস আর অটো ভর্তি দিয়ে চলছে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। ঘটনার পর গুজব আর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে দায়সারা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ করা হচ্ছে। মেধা তালিকায় থাকলেও ভিন্ন মতের কাউকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। সরকারের মেগা প্রকল্প নিয়ে অনেক কথা আছে। এখানে যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সেখানে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপি’র এমপি বলেন, আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আসছে। বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বিরোধী দলের নেতার বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসছে। সরকারের উচিত এটা এড়িয়ে না গিয়ে এর থেকে পরিত্রাণের পথ বের করা। তিনি বলেন, সিইসি বলছেন তিনি রাতের ভোট দেখেননি। একটি অপদার্থ ও মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন। ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের আনুগত্যশীলদের দিয়ে ইসি গঠন হয়েছে বলেই তাদের স্বার্থ পরিপন্থি কোনো কথা ইসি বলে না। ভোট হচ্ছে না। ভোট চুরি হচ্ছে- তারপরও বলছে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে সংসদে থাকা সবগুলো দলই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করেছে দাবি করে হারুনুর রশীদ বলেন, এই সংসদে যারা আছেন সকল দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছে। বিএনপি করেছে, আওয়ামী লীগ করেছে। জাতীয় পার্টিও এক সময় করেছে। এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিরোধিতা করছেন কেন? একটিই কারণ- যদি রাতের আঁধারে ভোট করে ক্ষমতায় থাকা যায়, যদি বিনাভোটে ক্ষমতায় থাকা যায়। এসব উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর