× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২২ মে ২০২২, রবিবার , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

তথ্য নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার

দেশ বিদেশ


২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার

তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর ৪ ধারা অনুযায়ী যেকোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার এবং বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য। এ আইন অনুযায়ী সরকারি এবং নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন করে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন এতে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্যাদি থাকতে হবে। আবেদনের পর ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে হবে। একাধিক তথ্য পেতে চাইলে ৩০ কার্যদিবস সময় পাবেন তথ্যদাতা। অনুরোধ করা তথ্য ব্যক্তির জীবন-মৃত্যু, গ্রেপ্তার এবং কারাগার থেকে মুক্তি-সম্পর্কিত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তথ্য সরবরাহ করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য লাভে সহায়তা এবং পরিদর্শনের জন্য যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করতে হবে।
কোনো কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথ্য দিতে না পারলে আবেদন পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে তা আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠান-সংস্থায় তথ্য জানতে আবেদন করা যাবে: জাতীয় সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, সরকারি কর্ম কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেল ইত্যাদি। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কার্যালয়, প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কার্যালয়ের অধীনস্থ সকল অধিদপ্তর/দপ্তরসমূহের উপজেলা পর্যায় সকল অফিস, মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কার্যালয়ের অধীনস্থ সকল কর্পোরেশন, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌর কর্পোরেশন, তথ্য কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ইত্যাদি। এমপিওভুক্ত সকল স্কুল ও কলেজ, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন ইত্যাদি। ব্র্যাক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, এমআরডিআই, নাগরিক উদ্যোগ, টিআইবি, গ্রামীণ ব্যাংক ইত্যাদি। সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার নিমিত্ত চুক্তিবদ্ধ সকল ঠিকাদারি বা ইজারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

তথ্য প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ ও তদপ্রেক্ষিতে তথ্য সরবরাহ: কোনো ব্যক্তি তথ্য প্রাপ্তির জন্য ফরম-ক অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা ই-মেইলে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করতে পারবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে আবেদনকারী একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র গ্রহণ করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিখিতভাবে অথবা ক্ষেত্র মতে ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনপত্র গ্রহণের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদান করতে পারবেন। প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে আবেদনের রেফারেন্স নম্বর, আবেদনপত্র গ্রহণকারীর নাম, পদর্যাদা, আবেদন গ্রহণের তারিখ এবং তথ্য প্রদানের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ থাকবে। আবেদনপত্রে যাচিত তথ্য একটি মাত্র তথ্য প্রদানকারী ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে অনধিক ২০ কার্যদিবসের মধ্যে এবং একাধিক তথ্য প্রদানকারী ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে অনধিক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অথবা অনুরোধকৃত তথ্য কোনো ব্যক্তির জীবন-মৃত্যু, গ্রেপ্তার বা কারাগার থেকে মুক্তি সম্পর্কিত হলে অনুরোধ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তথ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরবরাহ করবেন। যাচিত তথ্য প্রকাশযোগ্য না হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন প্রাপ্তির ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহ না করার কারণসহ অপারগতার নোটিশ দিয়ে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।

তথ্য না পেলে করণীয়: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে সংক্ষুব্ধ নাগরিক তথ্য কমিশনে অভিযোগ করতে পারবেন। আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল আবেদন পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আপিল আবেদনকারীকে অনুরোধ করা তথ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করবেন। কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ বা প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান সম্পন্ন করে প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনার একটি সিদ্ধান্ত কার্যপত্র প্রস্তুত করবেন এবং এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কমিশন সাধারণভাবে ৪৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করবে, তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা কোনোক্রমেই ৭৫ দিনের অধিক হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর জরিমানা আরোপ করতে পারে কমিশন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ করতে পারবে কমিশন।

[ফারুক হোসেন, এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
আইন উপদেষ্টা, তথ্য কমিশন]
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর