× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৯ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

সংবাদ সম্মেলনে সুজন /‘সিইসিকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে’

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(৩ মাস আগে) জানুয়ারি ২৯, ২০২২, শনিবার, ১:২৩ অপরাহ্ন

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এবং এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার’ করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে সংগঠনটির নেতারা। শনিবার ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ তথ্য জানান। এসময় নূরুল হুদা কমিশনের বিরুদ্ধে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে তারা বলেন, আজ হোক কাল হোক বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ঠিক এমনই এক অপকৌশল ব্যবহারের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

গত বৃহস্পতিবার রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর এক অনুষ্ঠানে কে এম নূরুল হুদা সুজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগসহ নানা সমালোচনা করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে এবং সিইসির বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ সুজন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজন এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একটি বিতর্কিত নির্বাচনের অকাট্য কিছু প্রমাণ ও তথ্য প্রকাশ করায় সুজন ও ড. বদিউল আলম মজুমদারের ওপর কে এম নূরুল হুদার ক্ষিপ্ত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাছাড়াও গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে নূরুল হুদা কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার যে আবেদন করেন, তাতে ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ সুজন-এর অনেক নেতৃবৃন্দ ছিলেন স্বাক্ষরকারী।


আর এ জন্যই সিইসি হুদার গাত্রদাহ এবং তার অপকর্ম ও পক্ষপাতদুষ্টতার কলঙ্ক আড়াল করতেই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। একারণেও কে এম নূরুল হুদা সুজন ও ড. বদিউল আলম মজুমদারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে আমাদের ধারণা।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সাথে ড. বদিউল আলম মজুমদারের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং কোনোদিন ছিলোও না। তিনি কমিশন থেকে কখনও কোনো কাজ নেননি, অসমাপ্ত রাখার তো কোনো প্রশ্নই আসে না । অর্থাৎ ড. মজুমদারের বিরুদ্ধে, সিইসির নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কান কথার ভিত্তিতে উত্থাপিত, এক কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ এবং কাজ নিয়ে কাজ না করার অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই সিইসি হুদাকেই এসব অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে। একইসঙ্গে জবাব দিতে হবে: তার কাছে এ সম্পর্কে কোনোরূপ তথ্য থাকলে তিনি কেন তা প্রকাশ করলেন না? কেন অভিযোগটি তদন্ত করলেন না? দুর্নীতি দমন কমিশনেই বা কেন তা প্রেরণ করলেন না?

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, সিইসির অভিযোগের ভিত্তি হচ্ছে তার দপ্তরের ৭/৮ জন বদিউল আলম মজুমদারের বিষয়ে তাকে বলেছে। এটা মিথ্যাবাদী বলার জন্য যথেষ্ট যা শুনে তা প্রচার করে বেড়ায়। এত বড় আসনে বসে তিনি এভাবে কথা বলবেন তা চিন্তা করতে পারিনি। তার উচিত ছিল অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। দুদকের কাছে পাঠানো। তিনি তা না করে তিনি বলে দিলেন, অনিয়ম পাওয়া গেছে। এটা মিথ্যাবাদীর সংজ্ঞায় পড়ে যায়। তিনি যে বদিউল আলম মজুমদারের সম্মানহানি করলেন, এটা হত্যার সমতুল্য। জাতীয় স্বার্থে এসব কিছুর প্রতিবাদ হওয়া দরকার।

সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সিইসির এমন আচরণে আশ্চর্য হই না। সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়ার সহজ পন্থা হলো ব্যক্তিগত আক্রমণ করা। বর্তমানে রাজনৈতিক বয়ানে এটি মুখ্য হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আমরা তা মেনে নেই। কিন্তু সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির কাছে প্রত্যাশিত নয়। যত কিছুই হোক তিনি ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। আমরা এই কমিশনের অধীনে নির্বাচনী ব্যবস্থা কীভাবে ধ্বংস হয়েছে তা দেখেছি। কিন্তু সিইসি প্রতিটি নির্বাচনে পরই বলেছেন, নির্বাচন ভাল হয়েছে। এরকম অসম্ভব বক্তব্যই ছিল সিইসির ৫ বছরের অন্যতম প্রধান কাজ। নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাসনে পাঠানোর জন্য আমরা এই কমিশনের বিরুদ্ধে যে অসদাচরণের অভিযোগ করেছি- এজন্য আজ হোক কাল হোক বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশে নির্বাচন নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা কুসুমাস্তীর্ণ পথে হাঁটছেন না। দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্রর পথে ফিরিয়ে আনতে নাগরিক সমাজ, মিডিয়া ও আদালতকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। এই সংকটময় মুহূর্তে দেশে কথা বলার লোকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যে মুষ্ঠিমেয় মানুষ ছিল তারাও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সিইসি নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এরকম একজন খলনায়ককে নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিয়োগে নতুন আইন করা হয়েছে আগের প্রজ্ঞাপনকে মোড়ক দেয়ার জন্য। এই ধরনের লোককে নির্বাচন কমিশনার বানানোর জন্য। ড. মজুমদার তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ নতুন কিছু নয় উল্লেখ করে আরও বলেন, এর আগে আমার বাড়িতেও আক্রমণ হয়েছে। ওইদিন দরজা ভাঙতে পারলে কথা বলার সুযোগ পেতাম কিনা নিশ্চিত নয়। এটা নতুন কিছু না।

সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, ১০০ লোক মরার পরও নির্বাচন কমিশনের দায় নাই বলতে পারে যে লোক, তার বিষয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন নাই। আমরা মানহানির মামলা করব কিনা চিন্তা করব। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থার তারা যে ক্ষতি করেছে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
mohd, islam
৩০ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার, ১:৩৭

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিচার করবে বিরোধীদের / জিন্দlবাদ / আওয়ামীরা নিজেদের বিচারের জন্য বিনপির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে /

Lukman Ahmed
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৯:৪৯

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধংসের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

KMB Hossain
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৯:৩৯

দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিগত ৫০ বৎসরে যা কিছু অর্জিত হয়েছিল তার অনেক টুকুই প্রায় ধঙস করে দিয়েছে এই সরকার ও তার আজ্ঞাবহ সিইসির অধীনে ইসি । দেশের গনতন্ত্রের স্বার্থে এদের অপকর্মের বিচার হওয়া জরুরী ।

Mahmud
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৬:২২

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে কে,এম, নুরুল হুদার বিচার হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।‌‌ এই লোকটি দেশের নির্বাচনী ব্যাবস্থাকে যেভাবে ধ্বঙস করেছে , সে যাতে পার পেয়ে না যায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।‌‌তার মতো নিম্ন মানের লোক যেন আর কোনদিন সিইসি হতে না পারে সেটাও দেখতে হবে।

Mohammed Musa
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৩:৩১

“সাধু বেটাই চোর।” কোটি টাকার অনিয়ম দূর্নীতি যাই হোক না কেন তদন্ত অবশ্যই হওয়া উচিত॥

Md. Harun al-Rashid
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৪:৩০

সম্ভবত জবাবদিহিতা রহিতকরন হওয়ায় আস্ফালনটা ব্যক্তিগত আক্রমনের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। অপরাধবোধ হীনতা গ্রথিত থাকলে কি আর করা।

Shobuj Chowdhury
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৩:৩৯

CEC Nurul Huda wanted to teach a course "how to count votes in fraudulent election" for US election officials in the US Presidential election. He was very confident that his course materials will be effective in the battleground states like Georgia, Arizona, Florida, Pennsylvania and Michigan.

হবিব
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ২:০৯

এই সিইসির বিচার অবশ্যাম্ভাবি

ফরিদ আহম্মেদ
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ১:৫৯

সিইসি নুরুল হুদার লজ্জা সরম নাই তা সবাই জানি কিন্ত আমার খোব জানতে ইচ্ছে করে এই কর্মকান্ডগুলা তার ছেলে মেয়েরা কি ভাবে দেখেন।

জামশেদ পাটোয়ারী
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ১:৫৭

বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের প্রাণের দাবী গণতন্ত্র হত্যায় সহায়তার কারণে এই সিইসিকে বিচারের মুখোমুখি করা, এবং দৃষ্টান্তুমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। যাতে ভবিষ্যতে আর কোন কে এম নুরুল হুদা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কথা চিন্তাও না করে।

অন্যান্য খবর