ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনে হোয়াইট হাউসের উদ্বেগ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার, ১১:৫০

রাখাইনে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে বিরক্ত (ট্রাবলড)। এবার হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সহিংসতা ও হামলায় আমরা পুনর্বার নিন্দা জানাচ্ছি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা কোনো সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না। সেখানে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে তাতে আমরা ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। হোয়াইট হাউস থেকে ১১ই সেপ্টেম্বর সরাসরি এবার এমন নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়া হলো। হোয়াইট হাউসের অফিস অব দ্য প্রেস সেক্রেটারির ইস্যু করা এই বিবৃতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কার্যালয়ের অফিসিয়াল বিবৃতি। এর আগে কয়েক দফা রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, খোদ হোয়াইট হাউস থেকে এমন বক্তব্য এসেছে। এতে সহিংসতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে আহ্বান জানানো হয় মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের প্রতি। বলা হয়েছে, একই সঙ্গে আমরা রাখাইন কমিশনের (কফি আনান কমিশন) সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের চলমান সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে বিরক্ত। ২৫শে আগস্ট নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের পোস্টে হামলার পর সৃষ্ট সহিংসতায় কমপক্ষে তিন লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তারা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। ওই হামলা ও তার পরবর্তী সহিংসতায় আমরা আবারো নিন্দা জানাচ্ছি। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ব্যাপক সংখ্যক মানুষ ও অন্য সংখ্যালঘুরা সহ গণহারে মানুষ বাস্তুচ্যুত ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এতে প্রমাণ হয় যে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা কোনো সাধারণ মানুষকে (সিভিলিয়ান) নিরাপত্তা দিচ্ছে না। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণহারে গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া, গণহত্যা, গণধর্ষণের অভিযোগ আছে। এমনতরো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র এলার্মড বা সজাগ হয়ে উঠেছে। এতে আরো বলা হয়, আমরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই সহিংসতা বন্ধে ও সব সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া বন্ধে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে। মিয়ানমার সরকার ভিকটিমদের কাছে যত দ্রুত সম্ভব মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা তাদের এ প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানাই। যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত এলাকাগুলোতে মিডিয়া বা সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের বেশির ভাগই প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। তাদেরকে মানবিক যে সহযোগিতা দিয়েছে বাংলাদেশ সে জন্য তাদের উল্লেখযোগ্য তৎপরতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রশংসা করছি আমরা।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।